×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৭ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

সঞ্জয়, লিয়েন্ডার-সহ তিন সংসার ব্যর্থ, মেয়ের চিকিৎসায় নিঃস্ব সিঙ্গল মাদার রিয়া পিল্লাই

নিজস্ব প্রতিবেদন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৯:৪৭
স্বাধীনচেতা নারী হিসেবেই তাঁর পরিচিতি। জীবনে এগিয়েছেন নিজের শর্তেই। এখন মেয়ের চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হতে বসেছেন অতীতের মডেল রিয়া পিল্লাই। শোনা যাচ্ছে, এই জীবনযুদ্ধও তিনি পাড়ি দিচ্ছেন একাই।

রিয়ার জন্ম ১৯৬৫ সালে। ছোট থেকেই তাঁর বেড়ে ওঠা এক মিশ্র সংস্কৃতিতে। তাঁর বাবার নাম রেমন্ড পিল্লাই। রেমন্ড ছিলেন মালয়লমভাষী। রেমন্ডের মা ছিলেন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। ছেলেকে তিনি বড় করেছিলেন খ্রিস্টধর্মাবলম্বী হিসেবে।
Advertisement
অন্য দিকে, রিয়ার মা ছিলেন হায়দরাবাদের অভিজাত পরিবারের সন্তান। হায়দরাবাদের মহারাজ নরসিঙ্গির ধনরাজগীর জ্ঞান বাহাদুর বিয়ে করেছিলেন অতীতের নামী নায়িকা জুবেইদাকে। তিনের দশকের ‘আলম আরা’, ‘দেবদাস’, ‘জারিনা’-সহ বেশ কিছু ছবির নায়িকা ছিলেন জুবেইদা।

জুবেইদা এবং জ্ঞান বাহাদুরের দুই সন্তান। ছেলে হুমায়ুন ধনরাজগীর এবং মেয়ে ধুরেশ্বর ধনরাজগীর। ধুরেশ্বরের মেয়ে হলেন রিয়া। অর্থাৎ, তিনি নায়িকা জুবেইদার নাতনি।
Advertisement
বলিউডে মডেলিংয়ের দুনিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রিয়া। পাশাপাশি যোগভ্যাস প্রশিক্ষক হিসেবেও তিনি জনপ্রিয়। ১৯৮৪ সালে রিয়া বিয়ে করেন আমেরিকার নাগরিক মাইকেল ভাজকে।

বিয়ের ৪ বছর পর থেকেই দু’জনের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। শেষে ১৯৯৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

এর পর ব্যক্তিগত আইনজীবীর অফিসে রিয়ার সঙ্গে আলাপ হয় সঞ্জয় দত্তের। সে সময় টাডা আইনে অভিযুক্ত সঞ্জয় মানসিক ভাবে ক্ষত বিক্ষত। ভেঙে গিয়েছে রিচা শর্মার সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়েও। জীবনের এই পরিস্থিতিতে রিয়ার কাছে মানসিক দ্বন্দ্বের প্রলেপ পেতেন সঞ্জয়।

১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন সঞ্জয়-রিয়া। তবে রিয়ার দ্বিতীয় দাম্পত্যও সুখের হয়নি। কয়েক বছর পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের ফাটল সামনে আসে। বেশ কয়েক বছর আলাদা থাকার পরে ২০০৮ সালে চূড়ান্ত হয়ে যায় বিবাহ বিচ্ছেদ।

বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে রিয়া দায়ী করেছিলেন সঞ্জয়ের মাদকাসক্তিকে। তবে দাম্পত্য ভেঙে গেলেও প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় আছে বলে জানান রিয়া।

এর পর রিয়ার জীবনে আসেন লিয়েন্ডার পেজ। সে সময় আর এক অভিনেত্রী মহিমা চৌধুরীর সঙ্গে টেনিস তারকার সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে। ২০০৫ থেকে লি-রিয়া একঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

লিয়েন্ডার-রিয়ার একমাত্র সন্তানের নাম আইয়ানা। তাঁদের সুখী সংসারের ছবি অবশ্য বেশি দিন স্থায়ী হল না। লিয়েন্ডার এবং তাঁর বাবা ভেস পেজের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন রিয়া।

২০১৪ সাল থেকেই আলাদা থাকতে শুরু করেন লিয়েন্ডার এবং রিয়া। তাঁদের দু’জনের লড়াই তিক্ততার চরমে পৌঁছেছিল। একে অন্যের বিরুদ্ধে কদর্য অভিযোগ তুলতে থাকেন সংবাদমাধ্যমে।

জীবনের তৃতীয় সম্পর্কে বিচ্ছেদর দু’বছরের মধ্যেই রিয়ার জীবনে আরও জটিলতা তৈরি হয়। ২০১৬ সালে জানা যায়, তাঁর মেয়ে আইয়ানা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।

রিয়ার অভিযোগ, লিয়েন্ডার তাঁদের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট অর্থ দেন না। তিনি লিয়েন্ডারের কাছে প্রতি মাসে ২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ছিল আইয়ানার চিকিৎসার খরচ।

লিয়েন্ডার প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা করে দিতেন বলে দাবি রিয়ার। ফলে মেয়ের চিকিৎসার জন্য তাঁকে পরিচিতমহলে হাত পাততে হয়েছে। অনুযোগ প্রাক্তন মডেলের।

এই প্রসঙ্গে লিয়েন্ডার জানান, তিনি কোনও দিন রিয়াকে বিয়ে করেননি। তাই রিয়ার কথামতো তাঁর এবং মেয়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে তিনি বাধ্য নন। তাঁর এই বক্তব্যকে অমানবিক বলে মনে হয়েছিল রিয়ার ঘনিষ্ঠদের।

এই প্রসঙ্গে রিয়ার দাবি ছিল, দীর্ঘ দিন অবধি লিয়েন্ডারের পাসপোর্টে ‘স্পাউস নেম’-এর জায়গায় তাঁর নাম ছিল। পরে নতুন পাসপোর্ট করিয়ে তাঁর নাম লিয়েন্ডার বাদ দিয়ে দেন বলে রিয়ার অভিযোগ।

রিয়ার আক্ষেপ, এক সময়ে লিয়েন্ডার তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত টাকা ধার করলেও পরে তিনি তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। মেয়ের চিকিৎসার জন্য টাকা চাইতে গেলে লিয়েন্ডার নাকি জানিয়েছেন, তাঁর আর্থিক সঞ্চয় বেশি নেই।

ভাবা হয়েছিল, মেয়ের অসু্স্থতা হয়ত কাছাকাছি আনবে লিয়েন্ডার এবং রিয়াকে। কিন্তু ঘনিষ্ঠদের সেই আশা পূর্ণ হয়নি। প্রাক্তন এই জুটির মধ্যে বিরোধ দূর হয়নি।

জীবনের সব ঝড় সামলে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছেন রিয়া। শোনা গিয়েছে, আইয়ানার চিকিৎসার বিপুল অর্থভারে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। কিন্তু হার মানেননি। জানিয়েছেন, আইয়ানাই তাঁর জীবনের অনুপ্রেরণা এবং চালিকাশক্তি।