• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিনোদন

গডফাদার সঞ্জয়কে চটিয়ে বলিউড থেকে মুছে যেতে বসেছিলেন, সংসার চালাতে হোটেলে কাজ নিতে হয় এই পরিচালককে

শেয়ার করুন
২১ Sanjay Dutt
সুযোগের জন্য প্রযোজকদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়নি তাঁকে। বরং কেরিয়ারের শুরুতেই নার্গিস ও সুনীল দত্তের ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল তাঁর। দহরম মহরম এতটাই ছিল যে আনকোরা পরিচালকের সিনেমার নায়ক হতেও রাজি হয়ে যান সঞ্জয় দত্ত। পরবর্তী কালে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে একাধিক সুপারহিট ছবিও উপহার দিয়েছিলেন তাঁরা।
২১ Sanjay Dutt
কিন্তু সেই সঞ্জয় দত্তের হাত মাথার উপর থেকে সরে যেতেই রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত। একের পর এক ছকভাঙা ছবি উপহার দিলেও,বলিউডের নব্বই শতাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তাঁর থেকে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ফের বলিউডে ফিরলেও, আর মাথা তুলে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। ‘মুন্নাভাই’য়ের সঙ্গে ভাঙা সম্পর্কও আর জোড়া লাগেনি।
২১ Sanjay Dutt
নব্বইয়ের দশকের একেবারে শুরু দিকের ঘটনা। ‘সাজন’, ‘খলনায়ক,’-এর মতো একের পর এক ছবি উপহার দিয়ে তখন বলিউডের চোখের মণি সঞ্জয় দত্ত। নামের মিল তো ছিলই, সেই সঙ্গে সিলভার স্ক্রিনে ‘রকি’র মারকাটারি উপস্থিতি, সব মিলিয়ে সঞ্জয় দত্তের ফ্যান হয়ে গিয়েছিলেন সঞ্জয় গুপ্ত।
২১ Sanjay Dutt
পরিচালক হিসাবে সেই সময় বলিউডে একট সুযোগের জন্য ঘুরছিলেন সঞ্জয় গুপ্ত। সেইসময় ‘থানেদার’ ছবির পরিকল্পনা করছিলেন পরিচালক রাজ সিপ্পি। প্রিয় নায়ক সঞ্জয় দত্তকে সামনে থেকে দেখার লোভ ছিলই। তাই সেই ছবিতে রাজকে অ্যাসিস্ট করার সুযোগ একেবারে লুফে নেন তিনি।
২১ Sanjay Dutt
ছবির শুটিং চলাকালীন সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায় সঞ্জয় গুপ্তের। শুটিংয়ের ফাঁকে একসঙ্গে আড্ডা দিতে শুরু করেন দু’জনে। এমনকি শুটিং না থাকলে এদিক ওদিক যেতেও শুরু করেন। সেই ফাঁকেই সঞ্জয় দত্তের সামনে প্রস্তাবটি পেড়ে ফেলেন সঞ্জয় গুপ্ত। জানিয়ে দেন, নার্গিস তনয়কে নায়ক করেই পরিচালনায় ডেবিউ করতে চান তিনি।
২১ Sanjay Dutt
তাতে আপত্তি তো দূর, বরং বলিউডে আনকোরা এই পরিচালক তথা বন্ধুর পায়ের নীচের মাটি শক্ত করতে, প্রস্তাব পাওয়া মাত্রই রাজি হয়ে যান সঞ্জয় দত্ত। সঞ্জয় দত্তের মতো অভিনেতা যে ছবিতে রয়েছেন, তার জন্য প্রযোজক পেতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সেই মতো চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করেন সঞ্জয় গুপ্ত।
২১ Sanjay Dutt
মায়ানগরীতে পা রাখার পর একটা সময় চিত্রনাট্যকার তথা অভিনেতা সলমন খানের বাবা সেলিম খানের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল সঞ্জয় গুপ্তের। সেলিম-জাভেদ জুটির ‘দিওয়ার’-এর অনুকরণেই ছবির নায়ককে ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ হিসাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই মতো ‘আতিশ’ ছবির চিত্রনাট্য লিখে ফেলেন। প্রযোজক হিসাবে পাশে পেয়ে যান জিপি সিপ্পিকেও।
২১ Sanjay Dutt
ছবিতে সঞ্জয় দত্তের পাশাপাশি, আদিত্য পাঞ্চোলি, রবিনা ট্যান্ডন এবং করিশ্মা কপূর ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। এই ছবির হাত ধরে বলিউডে প্রবেশ করেন সলমন খানের জামাইবাবু অতুল অগ্নিহোত্রীও। কলেজে সঞ্জয় গুপ্তর সহপাঠী ছিলেন অতুল। সব মিলিয়ে ভালয় ভালয় ছবির শুটিং মিটে যায়। শুরু হয় পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ।
২১ Sanjay Dutt
কিন্তু তাতে বাদ সাধে সঞ্জয় দত্তের ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটা। তাঁর স্ত্রী রিচা শর্মা তখন আমেরিকায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। সেই অবস্থাতেই স্ত্রীর থেকে বিচ্ছেদ চেয়ে মামলা করেন সঞ্জয়। মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়েও গুঞ্জন তখন তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় নাম জড়িয়ে যায় সঞ্জয় দত্তের।
১০২১ Sanjay Dutt
মরিশাসে ‘আতিশ’ ছবির একটি গানের শুটিং চলাকালীনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সঞ্জয় দত্তকে মুম্বইয়ে ডেকে পাঠানো হয়। বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে বছর ৫ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেয়ে সঞ্জয় জেল থেকে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু ৪ জুলাই ফের তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তার পর একেবারে ১৯৯৫ সালের ১৬ অক্টোবর জেল থেকে বেরিয়ে আসেন সঞ্জয় দত্ত।
১১২১ Sanjay Dutt
সঞ্জয দত্ত জেলে থাকার সময়ই ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় ‘আতিশ’। ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পায়। এই গোটা সময়টা দত্ত পরিবারের সঙ্গে ছিলেন সঞ্জয় গুপ্ত। এমনকি জেল থেকে বেরনোর পর সঞ্জয় দত্তের কেরিয়ারে গতি আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
১২২১ Sanjay Dutt
জেল থেকে বেরনোর পর সঞ্জয় দত্ত অভিনীত যে ছবিটি প্রথম মুক্তি পায়, তা হল ‘দাউদ’। বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে সেই ছবি। তার পর ‘দুশমন’, ‘খুবসুরত,’ ‘হাসিনা মান জায়েগি’র মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু আগের মতো সেই জনপ্রিয়তা আর পাচ্ছিলেন না সঞ্জয়।
১৩২১ Sanjay Dutt
১৯৯৯ সালে মহেশ মঞ্জরেকরের পরিচালনায় ‘বাস্তব’ ছবিটি যদি সঞ্জয়ের কেরিয়ার পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সঞ্জয় গুপ্ত পরিচালিত ‘খউফ’, ‘কাঁটে’, ‘মুসাফির’, ‘জিন্দা’ এবং ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ সঞ্জয় দত্তকে বলিউডে দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকাতে সাহায্য করে। দু’জনে মিলে একটি প্রযোজনা সংস্থাও গড়েন। ‘কাঁটে’ ছবির শুটি চলাকালীন সঞ্জয় দত্তকে মারার জন্য গোয়ায় লোক পাঠিয়েছিলেন গ্যাংস্টার আবু সালেম। সেইসময় দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে মধ্যস্থতা করিয়ে সঞ্জয় গুপ্ত সে যাত্রায় সঞ্জয় দত্তকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন বলে শোনা যায়।
১৪২১ Sanjay Dutt
কিন্তু এর পরই সঞ্জয় দত্ত ও সঞ্জয় গুপ্তর বন্ধুত্বে চিড় ধরতে শুরু করে। প্রযোজনা সংস্থার কর্মীদের টাকা পয়সা মেটানো নিয়ে ঝামেলা শুরু হয় দু’জনের মধ্যে। শোনা যায়, সঞ্জয় দত্ত কর্মীদের বেতনের টাকা ঠিক সময়ে ছেড়ে দিলেও, তা আটকে রাখতেন সঞ্জয় গুপ্ত। এমনকি সঞ্জয় দত্তের নাম ভাঙিয়ে প্রযোজকদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
১৫২১ Sanjay Dutt
২০০৮ সালে মান্যতাকে বিয়ে করেন সঞ্জয় দত্ত। সেই সময় প্রয়োজনা সংস্থার বেশিরভাগ কাজের ভারই মান্যতার উপর ছেড়ে দেন তিনি। তাতেই গোটা বিষয়টি সামনে আসে। স্বামীকে সঞ্জয় গুপ্তর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে ইতি টানতে পরামর্শ দেন মান্যতা। তাতেই অভিনেতা সঞ্জয় ও পরিচিলক সঞ্জয়ের জুটি ভেঙে যায়। বন্ধ হয়ে যায় তাঁদের প্রযোজনা সংস্থাও।
১৬২১ Sanjay Dutt
সেইসময় সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে একটি ছবির পরিকল্পনা ছিল সঞ্জয় গুপ্তের। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত তাঁর সঙ্গে কাজ করতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে ওই চরিত্রের জন্য ইরফান খানকে বেছে নেন তিনি। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রযোজক সংস্থাকে কিছু জানাননি। তাতে বিষয়টি আইন-আদালত পর্যন্ত পৌঁছয়। শেষে গোয়ার বাংলো বিক্রি করে ওই প্রযোজক সংস্থার টাকা ফেরত দিতে হয় সঞ্জয় গুপ্তকে।
১৭২১ Sanjay Dutt
সঞ্জয় দত্ত তাঁর পাশ থেকে সরে যাওয়ায়, বলিউডও তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বলে পরে একাধিক বার জানিয়েছেন সঞ্জয় গুপ্ত। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত ভাবে সঞ্জয় দত্ত নিজে কখনও তাঁকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেননি। কা্রোকে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে বাধাও দেননি। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত-ঘনিষ্ঠরা তাঁর নামে উল্টোপাল্টা গুজব ছড়াতে শুরু করেন। এমনকি তাঁর সঙ্গে কেউ যাতে কাজ না করেন, এমন হুঁশিয়ারিও দিতে শুরু করেন।
১৮২১ Sanjay Dutt
এমন পরিস্থিতিতে বলিউড থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন সঞ্জয় গুপ্ত। সেই মতো খান্ডালায় একটি হোটেলে চাকরি নেন তিনি। ভেবেছিলেন বাকি জীবনটা এ ভাবেই কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু সিনেমার প্রতি ভালবাসা তাঁকে ওই চাকরিতে বেঁধে রাখতে পারেনি। বরং দু’এক বছর বিরতি নিয়ে ফের বলিউডে ফেরেন তিনি।
১৯২১ Sanjay Dutt
এর পর ‘উডস্টক ভিলা, ‘অ্যাসিড ফ্যাক্টরি’, ‘পঙ্খ’ এবং ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’র মতো ছবি করলেও, আগের সেই সাফল্য আর ফিরে পাননি সঞ্জয় গুপ্ত। যদিও ২০১৭-য় হৃতিক রোশনকে নিয়ে তৈরি ‘কাবিল’ ছবিটি বক্সঅফিসে সাফল্য পায়।
২০২১ Sanjay Dutt
এ বছর তাঁর পরিচালনায় ‘মুম্বই সাগা’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু যত বড় তারকাকে নিয়েই কাজ করুন না কেন, ছবির সেটে আজও সঞ্জয় দত্তের অভাব তীব্র ভাবে অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জয় গুপ্ত। কয়েক বছর আগে অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিনের পার্টিতে দু’জনে মুখোমুখই হলেও সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে দু’জনের আলাপচারিতা। সঞ্জয় দত্ত এবং তাঁর পরিবারের কাছ থেকে আগের মতো উষ্ণ অভ্যর্থনা আর পাননি তিনি।
২১২১ Sanjay Dutt
সঞ্জয় গুপ্ত তাঁর নামের অপব্যবহার না করলে আজও তাঁরা বন্ধু থাকতেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। কিন্তু আগের ভুলের জন্য আজও সঞ্জয় গুপ্তকে ক্ষমা করেননি তিনি। পুরনো বিবাদ মিটিয়ে ফের একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেননি।

Advertisement

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
বাছাই খবর
আরও পড়ুন