Advertisement
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Saudi Arabia-UAE Row

সোনা, তেল, হাতিয়ারের কালোবাজারি! রক্তের হোলি খেলবে আরব মুলুকের দুই ‘লৌহ ভাই’? চাপে পড়বে নয়াদিল্লি?

একসময় পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে ‘লৌহ ভাই’ হিসাবে পরিচিত ছিল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। কিন্তু সেই ‘বন্ধুত্ব’ ভুলে তলোয়ারে শান দিচ্ছে রিয়াধ ও আবু ধাবি। নেপথ্যে কোন কোন কারণ?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৮
Share: Save:
০১ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

ছায়াযুদ্ধে শত্রুতার সূত্রপাত, যা দীর্ঘ দিনের ‘বন্ধুত্ব’ ভুলিয়ে ধীরে ধীরে মুখোমুখি সংঘাতের জায়গায় এনে দাঁড় করাচ্ছে দুই প্রতিবেশী উপসাগরীয় রাষ্ট্রকে। শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে বিশ্ববাজারে অস্থির হবে খনিজ তেলের দাম। সে ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির অর্থনীতিতে ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা ষোলো আনা! আর তাই পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির কালো মেঘ জমছে বুঝতে পেরে সতর্ক কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিপদ এড়াতে গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছে সাউথ ব্লক।

০২ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পশ্চিম এশিয়ার এই দুই রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। একসময় আরব মুলুকের এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ‘গলায় গলায় ভাব’ ছিল বললেও অত্যুক্তি হবে না। গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে তরল সোনার বাজার যৌথ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে রিয়াধ ও আবু ধাবি। শুধু তা-ই নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বা বাণিজ্যিক ব্যাপারে প্রায় এক সুরে সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গিয়েছে তাদের। ২১ শতকে সেই ‘ইয়ারানা’য় মরচে পড়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

০৩ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল। এই তিন বছরকে সৌদি ও আমিরশাহির বন্ধুত্বের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সময়সীমায় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে রিয়াধ ও আবু ধাবি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের দাবি, কোনও বিশ্বাসঘাতকতা তাদের ‘দোস্তি’তে চিড় ধরায়নি। পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় দেশ দু’টির মধ্যে দূরত্ব তৈরির নেপথ্যে রয়েছে ইয়েমেন এবং সুদানের গৃহযুদ্ধ। পর্দার আড়ালে থেকে যেখানে কলকাঠি নাড়ার গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে দুই আরব মুলুকের বিরুদ্ধেই।

০৪ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সালের) ৩০ ডিসেম্বর ইয়েমেনের বন্দর শহর মুকাল্লায় বিমানহামলা চালায় সৌদি সরকার। সংশ্লিষ্ট হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ইস্যুতে বিবৃতি দেয় রিয়াধ। সেখানে বলা হয়, ইয়েমেনের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে হাতিয়ার এবং সাঁজোয়া গাড়ি সরবরাহ করছিল আমিরশাহির ফৌজ। সেই সমস্ত অস্ত্র ও সাঁজোয়া গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ শানিয়েছে সৌদির বিমানবাহিনী। রিয়াধের ওই বিবৃতির পরই উপসাগরীয় দেশটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

০৫ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

২০১১ সাল থেকে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাপাদাপিতে একরকম গৃহযুদ্ধের মুখে পড়েছে ইয়েমেন। সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল ইরান সমর্থিত হুথি এবং সাউদার্ন ট্রানজ়িশনাল কাউন্সিল বা এসটিসি। রিয়াধের অভিযোগ, হাতিয়ার ও গোলাবারুদ সরবরাহের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিদ্রোহী সংগঠনটিকে লড়াই চালিয়ে যেতে সক্রিয় ভাবে সাহায্য করছে আমিরশাহির সরকার, যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। যদিও এ কথা প্রথম থেকে অস্বীকার করে আসছে আবু ধাবি।

০৬ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

সৌদি সরকার জানিয়েছে, দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এসটিসির হাত শক্ত করতে মালবাহী জাহাজ বোঝাই করে হাতিয়ার পাঠায় আবু ধাবি। আমিরশাহির ফুজ়াইরাহ বন্দর থেকে রওনা হয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনে পৌঁছোয় ওই সমস্ত জাহাজ। যাত্রাপথের গোপনীয়তা বজায় রাখতে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল তারা। সরকারি অনুমতি ছাড়াই মুকাল্লায় নোঙর করে ওই সমস্ত জাহাজ। গোয়েন্দা সূত্রে এই খবর পাওয়ার পর আর দেরি করেনি রিয়াধের বিমানবাহিনী। দ্রুত ওই বন্দর শহরকে নিশানা করে তাদের লড়াকু জেট।

০৭ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

রিয়াধের দাবি, বিমানহামলার আগে মুকাল্লার অসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল তারা। ওই আক্রমণের পর আমিরশাহির বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইয়েমেন প্রশাসন। পাশাপাশি, এসটিসিকে অস্ত্র সরবরাহ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘লাল রেখা’ হিসাবে উল্লেখ করে সৌদি সরকার। অন্য দিকে, এই পদক্ষেপকে ‘রিয়াধকে দুর্বল করার কোনও আঞ্চলিক প্রচেষ্টার অংশ নয়’ বলে পাল্টা বিবৃতিতে জানিয়েছিল আবু ধাবির বিদেশ মন্ত্রক।

০৮ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে অবশ্য কোনও হস্তক্ষেপ করেনি সৌদি আরব। উল্টে গোড়ার দিকে আমিরশাহি কর্তৃক বিদ্রোহীদের অস্ত্র সাহায্যকে একরকম প্রশ্রয় দিচ্ছিল রিয়াধ। কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁদের ‘দৌরাত্ম্য’ উপসাগরীয় এলাকার উপকূলগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি, ২০২৩ সাল আসতে আসতে লোহিত সাগরে প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠে ওই সমস্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এর পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রিয়াধ।

০৯ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

বিশ্লেষকদের দাবি, গৃহযুদ্ধের জেরে ইয়েমেন দুর্বল হবে, এমনটাই ভেবেছিল সৌদি সরকার। যদিও অচিরেই সেই ভুল ভেঙে যায় রিয়াধের। উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রটি বুঝতে পারে দক্ষিণের প্রতিবেশীর ঘরোয়া আগুনের আঁচে পুড়বে তার সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলিও। শুধু তা-ই নয়, সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছড়াতে পারে বিদ্রোহের আগুন। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে এসটিসির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধারা দেশে ঢুকে পড়ুক, সেটা কখনওই চায়নি পশ্চিম এশিয়ার ওই আরব রাষ্ট্র।

১০ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

অন্য দিকে ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের ‘সাহায্য’ করার নেপথ্যে আমিরশাহির যুক্তিও ফেলে দেওয়ার নয়। কারণ, গত শতাব্দীর ৯০-এর দশক থেকে রফতানি বাণিজ্যকে আর শুধুমাত্র খনিজ তেল নির্ভর করে রাখেনি আবু ধাবি। পশ্চিম এশিয়ার রিয়্যাল এস্টেট মানচিত্রকে এককথায় আমূল বদলে দিয়েছে তারা। উদাহরণ হিসাবে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা বা কায়ান টাওয়ারের মতো গগনচুম্বী চোখধাঁধানো ইমারতগুলির কথা বলা যেতে পারে। এর জেরে বিশ্বের ধনকুবেরদের একাংশের ‘সেকেন্ড হোম’ হয়ে উঠেছে আমিরশাহির একাধিক শহর।

১১ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

পশ্চিম এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে বরাবরই ইয়েমেনের আদেন, মুকাল্লা ও সোকোত্রার মতো বন্দরগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ চেয়েছে আবু ধাবি। কারণ, ওই তিনটি এলাকা লোহিত ও আরব সাগরের ‘প্রবেশদ্বার’ হিসাবে চিহ্নিত। সংশ্লিষ্ট বন্দরগুলি হাতে থাকলে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জ্বালানি সরবরাহ যে আমিরশাহির পক্ষে অনেক বেশি সস্তা ও সহজ হবে, তাতে সন্দেহ নেই। সেই কারণেই সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মাধ্যমে ইয়েমেনের মানচিত্রে বড় বদল ঘটাতে চাইছে ওই উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র।

১২ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধে বাধলে সৌদি ও আমিরশাহির মধ্যে ফাটল আরও চওড়া হয়। সংঘর্ষ পাকিয়ে উঠলে আফ্রিকার দেশটির বিদ্রোহী আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সমর্থন জানায় আবু ধাবি। আর সেখানকার সরকারি ফৌজ সুদানিজ় আর্মড ফোর্সেসের (এসএএফ) দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় রিয়াধ। তবে কোনও ভালবাসা থেকে নয়, বরং সেখানকার সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানের লোভই এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রলুব্ধ করেছে তাদের।

১৩ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

গত তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সুদানের একাংশ দখল করেছে আরএসএফ। কব্জা করা এলাকাগুলিতে পৃথক সরকার চালাচ্ছেন তাঁদের কমান্ডারেরা। আফ্রিকার বৃহত্তম স্বর্ণ উত্তোলনকারী দেশগুলির একটি হল সুদান। বর্তমানে সেখানকার প্রায় সব ক’টি হলুদ ধাতুর খনি নিয়ন্ত্রণ করছে ওই বিদ্রোহী আধাসেনা। গৃহযুদ্ধ ও সরকার চালাতে তাদের চাই প্রচুর পরিমাণে টাকা। আর তাই জলের দরে সোনা বিক্রির ‘মেগা অফার’ আবু ধাবিকে দিয়েছে আরএসএফ। আমিরশাহির পক্ষে তা ফেরানো ছিল অসম্ভব।

১৪ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

লোহিত সাগরের কোলের দেশ সুদানের আবার অবস্থানগত দিক থেকে অন্য গুরুত্ব রয়েছে। এর বিস্তীর্ণ এলাকা আফ্রিকার বিখ্যাত সাহিলের অন্তর্গত, যা প্রকৃতপক্ষে সাহারা মরুভূমি এবং সুদানীয় সাভানা বা তৃণভূমির মধ্যবর্তী এলাকা। সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণও নেহাত কম নয়। তা ছাড়া সাহিলের জীববৈচিত্র, বাস্তুতন্ত্র এবং জলবায়ু নিয়ে এখনও বহু গবেষণার কাজ বাকি রয়েছে। এগুলিই রিয়াধকে সুদানিজ় আর্মড ফোর্সেসকে সমর্থন দিতে উৎসাহিত করেছে, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

১৫ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

সৌদি ও আমিরশাহির সংঘাতের আর একটি কারণ হল খনিজ তেল। বর্তমানে দু’টি দেশই বিশ্বের মুখ্য তেল রফতানিকারী সংগঠন ওপেকের (অর্গানাইজ়েশন অফ পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ়) সদস্য। একে বকলমে নিয়ন্ত্রণ করে রিয়াধ। এ ব্যাপারে প্রবল আপত্তি আছে আবু ধাবির। কারণ, ওপেকের সদস্যপদ থাকার জন্য তাদের তরল সোনা উত্তোলনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম মানতে হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছে আমিরশাহির সরকার।

১৬ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

আন্তর্জাতিক বাজারে ‘তরল সোনা’র দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ভূমিকা নিয়ে থাকে ওপেক। সেই কারণেই ইচ্ছামতো তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির উপর একরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে এই সংগঠন। ওপেকের সদস্যেরা তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করলে বিশ্ববাজারে বাড়বে সরবরাহ। সে ক্ষেত্রে হ্রাস পাবে তরল সোনার দাম। ওপেকভুক্ত দেশগুলি মূলত তেল বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। ফলে এর দাম কমে গেলে প্রবল চাপে পড়তে পারে তাদের অর্থনীতি।

১৭ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

কিন্তু রিয়্যাল এস্টেট ও পর্যটন-সহ অন্যান্য খাতে বিপুল খরচের জন্য গত কয়েক বছর ধরেই খনিজ তেলের উৎপাদন বাড়াতে চাইছে আবু ধাবি। ওপেকের সদস্য হওয়ায় সেটা করতে পারছে না আমিরশাহির প্রশাসন। এ ব্যাপারে সৌদির যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে কথা বলেও লাভ হয়নি তাদের। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশটি ওপেক-ত্যাগ করতে চলেছে বলে গত বছর (পড়ুন ২০২৫ সাল) খবর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরে তা গুজব বলে জানা গিয়েছিল।

১৮ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করে রিয়াধ। সেখানে বলা হয়েছে, এই দুই দেশের মধ্যে কোনও একটি দেশ তৃতীয় কোনও শক্তি দ্বারা আক্রান্ত বা আগ্রাসনের শিকার হলে, তাকে উভয় দেশের উপর আঘাত বা যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে। ইসলামাবাদ ও সৌদির সামরিক সমঝোতায় প্রমাদ গুনেছে আবু ধাবি। কারণ, এর জেরে রাওয়ালপিন্ডির পরমাণু হাতিয়ারের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন যুবরাজ সলমন।

১৯ ১৯
Saudi Arabia and UAE rift may turn deadly confrontation in West Asia, a big concern for India and in middle east politics

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের দাবি, পাক-সৌদি ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’র জেরে রিয়াধের উপর আবু ধাবির বেড়েছে অবিশ্বাস। সংশ্লিষ্ট সমঝোতাটির পর উপসাগরীয় আরব দেশটিকে পুরোপুরি ভাবে ভারতের দিকে ঝুঁকতে দেখা গিয়েছে। নয়াদিল্লির সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে আমিরশাহি। যদিও সেখানে পরমাণু নিরাপত্তা বা সৈন্য সহযোগিতার কথা বলা হয়নি। আগামী দিনে ইজ়রায়েলের সঙ্গে আবু ধাবি ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সব ছবি: সংগৃহীত ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy