Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

খেলা

চিপকের ঘূর্ণি পিচেই এল বদলার জয়, রুটদের কী কী কারণে চূর্ণ করলেন কোহালিরা

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৭:৪৯
দেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল বিরাহ-বাহিনী। তবে পরের ম্যাচে সেই একই মাঠে চূর্ণ জো রুটের ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে থেকেই ভারতের জয় নিশ্চিত ছিল। তবে কত ব্যবধানে বিরাট কোহালিরা জেতেন, সে দিকেই নজর ছিল। কোহালিরা নিরাশ করেননি। মঙ্গলবার চিপকের ঘূর্ণি পিচে দেড় সেশনেই সিরিজ ১-১ করলেন তাঁরা। কী ভাবে এল এই বিরাট-জয়? সাফল্যের পিছনে কারণই বা কী কী?

চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে রুটদের ৩১৭ রানে ধরাশায়ী করার পিছনে অন্যতম কারণ রোহিত শর্মার ব্যাটিং। প্রথম টেস্টে এই মাঠেই ব্যর্থ হয়েছিলেন ওপেনার রোহিত শর্মা। দু’ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন ১৮। পরের ম্যাচেই দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান। ভারতের প্রথম ইনিংসে ২৩১ বল খেলে তাঁর সংগ্রহ মূল্যবান ১৬১ রান। কার্যত রোহিতের ওই ইনিংসই বিরাটদের ৩২৯ রানের ভিত গড়ে দিয়েছিল।
Advertisement
এম এ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ভারতের ৩২৯ রানে রোহিত ছাড়াও অবদান রয়েছে অজিঙ্ক রাহানে এবং ঋষভ পন্থের। রোহিতের ১৬১ রানের পরেই সবচেয়ে বেশি রান রাহানে (১৪৯ বলে ৬৭ রান) এবং পন্থের (৭৭ বলে ৫৮ রান)।

ভারতের জয়ে রোহিত-রাহানে-পন্থের পাশাপাশি ভুললে চলবে না বিরাট কোহালির নাম। অধিনায়কোচিত শতরান না এলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মূল্যবান ৬২ রান (১৪৯) করেছেন। ভারতের ১৯৫ রানের লিডকে আরও বাড়িয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন কোহালি।
Advertisement
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজে ১টি ম্যাচ খেলে পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন কোহালি। তবে সংখ্যার নিরিখে এই টেস্টে তাঁর রান বিরাট না হলেও নিজের ফর্মে থাকার জোরাল ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রুটদের বিরুদ্ধে ভারতের জয় নিয়ে আলোচনাতে প্রথমেই উঠে আসবে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের নাম। বোলার অশ্বিন যে দেশের মাঠে ঘূর্ণি পিচে স্বমহিমা ধরবেন, তা যেন প্রত্যাশিতই। তবে ব্যাট হাতেও এ বার ভেল্কি দেখিয়েছেন।

চিপকের পিচে দু’ইনিংসে মিলিয়ে বোলার অশ্বিনের মোট সংগ্রহ ৯৬ রানে ৮ উইকেট। ঘূর্ণি পিচে প্রথম ইনিংসে রুট-সহ তাঁর দলের ৫ জনকে প্যাভিলিয়নে পাঠান। মূলত তাঁর স্পিনের ফাঁদে পড়েই ১৩৪ রানে শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। পরের ইনিংসেও অশ্বিনের শিকার বেন স্টোকস-সহ ৩ জন।

টেস্টে অশ্বিনের ব্যাট থেকে এর আগেও বহু দামি ইনিংস এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সদ্যসমাপ্ত সিরিজেই রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের নমুনা দেখিয়েছিলেন। অজিদের বাউন্সার সামলে হনুমা বিহারিকে সঙ্গে নিয়ে সিডনি টেস্ট ড্র করতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন অশ্বিন।

সিডনির মতোই চিপকের ঘূর্ণি পিচে ব্যাট হাতে ‘দেওয়াল’ হয়ে ওঠেন অশ্বিন। ৮ নম্বরে যখন নামেন, সে সময় ভারতের রান ছিল ৬ উইকেটে ১০৬। এর পরই রুটদের বিরুদ্ধে ১৪৮ বলে ১০৬ রান। স্ট্রাইক রেট ৭১.৬২। মূলত, অশ্বিনের ইনিংসে ভর করেই ভারতের লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮২ রান।

দ্বিতীয় টেস্টে রোহিত না অশ্বিন, ম্যাচের সেরা কে, প্রশ্নটা অনেকেই করেছেন। তবে বেশির ভাগেরই ভোট গিয়েছে অশ্বিনের ঝুলিতে। একই ম্যাচের এক ইনিংসে ৫ উইকেট (সব মিলিয়ে ৮)। সঙ্গে শতরান। এই নিয়ে টেস্টে ৩ বার এমন কীর্তি গড়লেন অশ্বিন। ফলে তাঁকেই সেরা বাছতে অসুবিধা হয়নি।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কথা বাদ দিলেও ভারতের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন রিজার্ভে থাকা ক্রিকেটারেরা। মূলত, ভারতের রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি যে কতটা বেড়েছে, চিপকে তা দেখিয়েছেন কুলদীপ যাদব-অক্ষর পটেলরা। রিজার্ভে থাকা এই ক্রিকেটাররাই দ্বিতীয় টেস্টে বিরাট-বাহিনীকে স্বস্তি দিয়েছেন।

এই ম্যাচে কুলদীপের সংগ্রহ মাত্র ২ উইকেট। তবে টেস্টে অভিষেককারী অক্ষরকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন তিনি। কম যান না অক্ষরও। টেস্টে অভিষেক করলেও এক বারের জন্যই তা বুঝতে দেননি। রুটদের পরাস্ত করে প্রথম ইনিংসে নেন ২ উইকেট। পরের ইনিংসে একেবারে ৫ উইকেটের গৌরব। ফলে অভিষেকেই চমকে দিয়েছেন অক্ষর।

রোহিত-কোহালি-অশ্বিন-অক্ষরদের মাঝে ঋষভ পন্থকে ভুলে গেলে চলবে না। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ঝোড়ো ৫৮। পন্থের থেকে এমন ব্যাটিংই আশা করেন তাঁর ভক্তেরা।

এই টেস্টে উইকেটের পিছনে তাঁর দক্ষতাকে নয়া উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন পন্থ। প্রথমে মহম্মদ সিরাজের বলে বাঁ-দিকে অনেকটা ঝাঁপিয়ে অলি পোপের উইকেট শিকার করেছেন। এর পর ইশান্ত শর্মার বলে গোলরক্ষকের ভঙ্গিতে ধরেছেন জ্যাক লিচের ক্যাচ।

ঘূর্ণি উইকেটে ভারতের ব্যাটিং দক্ষতার সামনে বড্ড ম্লান দেখিয়েছে রুটদের। একমাত্র রুট ছাড়া ভারতীয় স্পিনারদের সামলানোর ক্ষমতা যে এই ইংল্যান্ড দলে নেই, সেটা বোঝা গিয়েছে এই টেস্টে। ক্রিকেট পণ্ডিতদের মতে, চলতি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে রুটদের স্পিন খেলার দক্ষতায় আরও শান দিতে হবে।

জো রুটের ব্যাটিং ব্যর্থতাও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শততম টেস্টে রুটের অতিমানবীয় দ্বিশতরানের ধারেকাছে তো দূর অস্ত্‌, নিজেকে মেলে ধরতেই পারেননি তিনি। ফলে সে দিক থেকেও সুবিধা পেয়েছে ভারত।

রুটের পাশাপাশি চিপকের পিচে অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের ব্যর্থতাও ভারতের পক্ষে গিয়েছে। দু’ইনিংস মিলিয়ে ব্যাট হাতে করেছেন ৪২ ও ৮। বল হাতে পাননি কোনও উইকেট।

ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অতিরিক্ত রুট-নির্ভর। সেটাই তাঁদের বিপক্ষে গিয়েছে। স্টোকসের মতোই ব্যর্থ রোরি বার্নস, ডম সিবলি, অলি স্টোন, জ্যাক লিচেরা।

কোহালির দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা নিয়েছেন মাঠের বাইরে বসে থাকা নায়কেরাও। যে কোনও দলের জয়ে এর নেপথ্যে থাকা ফিজিয়ো, মেন্টরদের ভূমিকার কথা অনেকেই ভুলে যান। মাঠের নায়কদের নিয়েই মাতামাতি করেন অনেকে। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতোই ভারতীয়দের মনোবলকে তুঙ্গে রাখতে বড় ভূমিকা নিয়েছে পর্দার পিছনে থাকা নায়কেরা।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও প্রথম টেস্টে গো-হারা হওয়ার পর দুর্দান্ত ভাবে ফিরে এসেছিল ভারতীয় দল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও যেন সেই একই চিত্রনাট্য ফিরে এল। প্রথম টেস্টে ২২৭ রানে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেই এর বদলা নিলেন কোহালিরা। ৩২৭ রানে জিতে এ বার সিরিজ জয়ের লক্ষ্যই কোহালিদের পাখির চোখ!