Follow us on
Powered by
Co-Powered by
Co-Sponsors
Powered by
Co-Powered by
Co-Sponsors

কলকাতার মতো প্রাণবন্ত শহর কিন্তু আর একটাও পাওয়া যাবে না

কলকাতার মতো অল্প টাকায় ভরপেট খাওয়া দেশের অন্য কোনও বড় শহরে সম্ভব নয়।

পল্লবী চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা| ০৩ মার্চ ২০২১ ১৪:৪৬ শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২১ ০৭:৪৯
পল্লবী চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী, প্রযোজক এবং পরিচালক
পল্লবী চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী, প্রযোজক এবং পরিচালক

কলকাতার একটা নিজস্ব আমেজ আছে। সেটা অন্য কোনও শহরে নেই। এই শহরের আন্তরিকতা তো তুলনাহীন। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা, যে কোনও উৎসব বা পার্বণে সকলের সঙ্গে মেতে ওঠা— এ সব কলকাতা ছাড়া ভাবেই পারি না। এখনও অবধি কলকাতার মতো অল্প টাকায় ভরপেট খাওয়া দেশের অন্য কোনও বড় শহরে সম্ভব নয়। ভালবাসা এবং বন্ধুত্বের মতো কলকাতা তথা বাংলার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের কথাও ভোলা যায় না।

আমি অনেক ছোট থেকেই একা থেকেছি। কসমোপলিটন পরিবেশে বড় হয়েছি। কলকাতায় থাকলে মনে হয় এখানে যাই, ওখান থেকে একটু ঘুরে আসি। কিন্তু কলকাতা থেকে বার হলেই এই শহরটা টানতে থাকে। মনে পড়তে থাকে পিছুটানগুলো। বন্ধুবান্ধবদের কথা মনে পড়ে। এই শহরের নিরাপত্তাও খুব মনে পড়ে। নিরাপত্তা কিন্তু সবসময় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নয়। কলকাতায় থাকলে এক বার ফোন করলে সবরকম সাহায্য দোরগোড়ায় হাজির হয়ে যায়। হয়তো কাজের চাপে পরিচিতদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হচ্ছে না। কিন্তু ঠিক জানি, একবার ফোন করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এই জিনিস কিন্তু অন্য কোনও শহরে পাই না। দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো শহরে কেউ ফিরেও তাকাবে না। সেখানে তো পাশের ফ্ল্যাটে কে থাকেন, সেটাই জানা যায় না। আমি কিন্তু সব পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি। কিন্তু তার পরেও কলকাতার এই আত্মিক টানটা সব জায়গায় পাই না। এই শহরে থাকলে মনে হয় যেন একটা বড় পরিবারের অংশ হয়ে আছি। আর খাওয়াদাওয়ার দিক দিয়ে তো আমার কাছে এই শহর পৃথিবীর মধ্যে সেরা। স্বাদের এত বৈচিত্র কোনও শহরে নেই। এর সঙ্গেই কলকাতার থাকবে ক্লাব-সংস্কৃতি। সব মিলিয়ে, তিলোত্তমার মতো প্রাণবন্ত শহর কিন্তু আর দ্বিতীয় একটাও নেই।

তবে কলকাতার একটা দিক কিন্তু আগের থেকে পাল্টে গিয়েছে। অতীতে কলকাতা ছিল মেয়েদের জন্য সবথেকে নিরাপদ শহর। অনেক রাতেও মেয়েরা একা শহরের রাজপথ দিয়ে হেঁটে যেতে পারত। এখন কিন্তু রাস্তায় প্রকাশ্যে কোনও মেয়ে বিপদে পড়লে, তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো লোকের সংখ্যা কমে গিয়েছে। বেশির ভাগই পাশ কাটিয়ে, এড়িয়ে থাকতে পছন্দ করেন। আমি তো আগে হাইওয়েতে একা গাড়ি ছুটিয়ে গিয়েছি। কোনও ভয় পাইনি। কিন্তু এখন কেন যেন কলকাতার মধ্যেও সন্ধ্যাবেলা একা গাড়ি নিয়ে বার হতে ভরসা পাই না। মনে কেমন যেন সংশয়, দ্বিধা জড়িয়ে থাকে। তবে এখনও বলব, কলকাতা অনেক দিক থেকে বাকিদের থেকে ভাল জায়গায় আছে।

এই শহরের আরও একটা সুবিধাজনক দিক হল, সব কিছু হাতের নাগালে। সাধারণ দোকানবাজার থেকে নাইটক্লাব। শহরের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে একাধিক অপশন। তবে শহরের একটু বাইরে পর্যটন নিয়ে আরও অনেক কিছু করা যেতে পারে। ইতিমধ্যেই অনেক কিছু হয়েছে। আরও কাজ হওয়ার অপেক্ষায় আছে। কলকাতা কিন্তু পর্যটনের দিক থেকে খুবই সম্ভাবনাময়। উত্তরে দার্জিলিঙে হিমালয়, দক্ষিণে সুন্দরবন, এ রকম বৈচিত্র আর কোন শহরে আছে?

তবে কলকাতার নিজস্ব একটা বৈচিত্র কিন্তু আর খুঁজে পাই না। সেটা হল, এই শহরের মেয়েদের সাজের বৈচিত্র। আগে কলকাতার মেয়েদের সাজসজ্জার একটা নিজস্বতা ছিল। যাকে বলে কেতা। এখন সকলেই যেন একই স্রোতে গা ভাসিয়েছে। সকলেরই স্ট্রেট চুলে রং করা। মুখে একটা চড়া মেক আপ। কাকে কী মানায়, সেটা না ভেবেই সকলে সব কিছু পরে ফেলছে। পুজোর সময়েও অনেকের পরনে জিন্স! প্রত্যেক শহরেরও তো নিজস্ব একটা চোখ আছে। সেটাই আমরা ভুলে যাই। মাঝে মাঝে মনে হয়, কলকাতার সেই সুন্দরীরা কোথায় গেল!

আরও পড়ুন