Follow us on
Powered by
Co-Powered by
Co-Sponsors
Powered by
Co-Powered by
Co-Sponsors

কলকাতা করোনামুক্ত নয়, সুস্থ থাকতে কী খাবেন?

শরীরের পুষ্টিগুণ ঠিক রাখাটাই এখন সব থেকে জরুরি সঙ্গে এক্সারসাইজ, যোগ ব্যায়াম এগুলো নিয়মিত করা,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, বার বার হাত ধোয়া এ সব এখনও আগের মতোই জরুরি।  

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা| ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২:৩৬ শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২১ ১৭:৩৯
প্রতীকী চিত্র
প্রতীকী চিত্র

শহরে এখন রয়েছে করোনা। এ দিকে গরম বাড়ছে। কী খাবেন এই সময়? বললেন পুষ্টিবিদ মিতালি পালোধি:

২০২১-এর গোড়ায় আমরা, কিন্তু করোনার প্রকোপ এখনও কমেনি। তবু সুখের চেয়ে স্বস্তি এটুকুই যে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে এগচ্ছি। এখন শুধু এটা দেখার, কোভিড অতিমারির এই পরবর্তী পর্যায়ে কী ভাবে সুস্থ থাকা যায়। শরীরের পুষ্টিগুণ ঠিক রাখাটাই এখন সব থেকে জরুরি। এর সঙ্গে জীবনধারা অর্থাৎ এক্সারসাইজ, প্রাণায়াম, যোগ ব্যায়াম এগুলো নিয়মিত করা, পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, বার বার হাত ধোয়া এ সব এখনও আগের মতোই জরুরি।
• শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নানা ধরনের খাবার খেতে হবে। আমাদের প্রত‌্যেকটি মানুষের শরীরের ধরন আলাদা, তাদের সুষম আহারের প্রয়োজনও আলাদা। তাই নানা ধরনের খাবার খাওয়া দরকার।
• মানবদেহে যে সব পুষ্টি উপাদান রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে সাহায‌্য করে সেগুলো হল— প্রোটিন, যা শরীরে অ‌্যান্টিজেন তৈরি করে। ওমেগা থ্রি, ফ‌্যাটি অ‌্যাসিড ইমিউনিটি বাড়ায়। এছাড়া রয়েছে ভিটামিন এ, বি, ই, বি-সিক্স, বি-নাইন, বি-টুয়েল্ভ, সেলেনিয়াম, ম‌্যাগনেসিয়াম, প্রি-বায়োটিক এবং প্রো-বায়োটিক। এগুলো দেহে ৭০% রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।
• ‘মাই প্লেট ফর দা ডে’ এই কনসেপ্টে একটা থালায় অর্ধেক থাকবে ফল ও সব্জি, বাকি অংশে থাকবে প্রোটিন জাতীয় খাবার, সিরিয়ালস অর্থাৎ চাল, আটা, সুজি, মুড়ি ও থাকবে বিভিন্ন ডাল ও বাদাম জাতীয় খাবার।

• নানা ধরনের মশলা, কাঁচা হলুদ, আদা, রসুন এগুলো রাখতে হবে খাদ‌্য তালিকায়। প্রত‌্যেকটা রান্নায় এককোয়া রসুন ফেলে দিলে শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
• এর সঙ্গে অমলকী, পেয়ারা, কমলালেবু, পাতিলেবু অর্থাৎ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ভিটামিন এ অর্থাৎ বিটা ক‌্যারোটিন যুক্ত খাবার যেমন— বিভিন্ন শাক-সব্জি, গাজর, দুধ, মাখন জাতীয় খাবার খেতে হবে।
• ভিটামিন ডি এই সময় অত্যন্ত জরুরি। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সকাল ১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত সূর্যরশ্মির আলট্রাভায়োলেট রে থেকে আমরা ভিটামিন ডি পাই, তাই অন্তত ১৫ মিনিট রোদে দাঁড়ানো জরুরি।
• সব মরসুমি ফল, যেমন কমলালেবু, মুসাম্বি, সব্জি, যেমন টম্যাটো, ফুলকপি, বিট, গাজরের সঙ্গে মাছ, চিকেন, ডিম, সয়াচাঙ্ক, ঘরে পাতা দই বা প্রোবায়োটিক খেতে হবে। দইয়ে যে ব‌্যাকটেরিয়া থাকে, তা আমাদের অন্ত্রকে স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায‌্য করে। এ ছাড়া শুকনো ফলও খাওয়া যেতে পারে।
• সব্জি বা মাছ, মাংস যাই খান, ভাল করে সেদ্ধ করে অর্থাৎ রান্না করে খান। ভেজিটেবল স্টু, গ্রিন টি ও প্রচুর জল খান।
• মদ‌্যপান বা ধূমপান, অতিরিক্ত নুন, চিনি, ফ‌্যাটজাতীয় খাবার কম খেতে হবে বা প্রয়োজনে বাদ দিতে হবে।

ময়ূরী রায়, পুষ্টিবিদ (মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল)

করোনা এখনও পুরোপুরি যায়নি। টিকা এসেছে, কিন্তু এখনও সর্বস্তরে পৌছায়নি। সুতরাং এখনও ভয়টা যায়নি। এখনও আরও বেশ কিছু দিন আমাদের সতর্ক হয়েই চলতে হবে। তাই শরীরের ইমিউনিটি বৃদ্ধি করতে হবে সুষম আহার করে। ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই, জিঙ্ক, আয়রন, প্রোটিন, বিভিন্ন খনিজ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে, মরসুমি এবং স্থানীয় সব রকম ফল, শাকসবজি খেতে হবে। এর পাশাপাশি মাছ, মাংস, ডিম, হোল গ্রেন ইত‌্যাদি খাওয়া জরুরি। এত দিন বাড়ির তৈরি খাবারেই অভ‌্যস্ত হয়ে উঠেছে মানুষ এখনও বাড়ির খাবারই খেতে হবে। প্রচুর জল খেতে হবে। সঙ্গে নিয়মিত ব‌্যায়াম, প্রাণায়াম অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর জীবনধারার সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। যত বেশি প্রাকৃতিক খাবার এবং জীবনধারার মধ‌্যে থাকা যাবে, তত ভাল।

আরও পড়ুন