Follow us on
Powered by
Co-Powered by
Co-Sponsors
Powered by
Co-Powered by
Co-Sponsors

প্রতিটি ইটে ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে কলকাতার এই দু'টি বাড়ি

উত্তর কলকাতার এমন দুই বাড়ির খবর রইল, যাদের প্রতিটি ইটে লেখা আছে ইতিহাস।

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা| ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১১:৩৬ শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২:০৯

নিজস্ব চিত্র

কলকাতা জোড়া পুরনো বাড়ি। তিলোত্তমার ইতিহাসের টুকরো নিয়ে আজও তারা অমলিন। ঐতিহ্যমণ্ডিত এই সমস্ত বাড়ি তাদের সঙ্গে নিয়ে চলেছে পুরনো কলকাতার সাক্ষ্য, অতীতের প্রতিবিম্ব। আর এই সমস্ত বাড়ির সন্ধানে চলছে হেরিটেজ ওয়াক। উত্তর কলকাতার এমন দুই বাড়ির খবর রইল, যাদের প্রতিটি ইটে লেখা আছে ইতিহাস। কোনও এক দিন টুক করে দেখে আসুন ঐতিহ্যমণ্ডিত এই ভবন দু'টি।

এখন তাঁর নামে রাস্তার নাম। আগে ছিল আমহার্স্ট স্ট্রিট। ৮৫ নম্বর বাড়ি। শিয়ালদহ, শ্যামবাজার, কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া থেকে অল্প আয়াসে পৌঁছে যাওয়া যায়। আর মানিকতলা থেকে তো ঢিল ছোড়া দূরত্ব।বাড়িটিকে প্রাসাদোপম বলাই যায়। এক সময় এর গায়ে ইংরেজিতে লেখা ছিল, যার বাংলা তর্জমা ‘রামমোহন রায় এখানে ১৮১৪ থেকে ১৮৩০ অবধি বাস করেছেন'। পরে ফলকটি তুলে নেওয়া হয় নতুন ফলকে জানানো হয়,

এটি রাজা রামমোহন রায়ের পরিবারের তরফ থেকে তৈরি করা হয়েছে, যে রামমোহন রায় ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।এই বিশাল ভবনটির একতলা দোতলায় অগুনতি ঘর, সামনের চত্বরে বাগান। বিরাট বিরাট স্তম্ভের উপরের বারান্দা ধরে রাখা রাজকীয় প্রবেশ পথ।

আর উপরের বারান্দায় একটা ব্যাডমিন্টন কোর্ট অনায়াসে ঢুকে যাবে। কী আশ্চর্য, একদা এইখানেই নুনের চৌকি ছিল। যার পাশে ছিল খোলার বস্তি।বিভিন্ন ঘরেতে অনেক মূল্যবান ‘অ্যান্টিক’ রাখা আছে। আগে এখানে পাহারা ছিল না বললেই চলে।

এক সময়ে দরজার দামি কড়া, জানলা দরজার মূল্যবান হাতল ইত্যাদি চুরি যায়। তখন ট্রাস্টিদের টনক নড়ে। এখন অবস্থার উন্নতি হয়েছে। শুধুমাত্র বাড়িটির উপর নিচ পরিক্রমা করাটাই এক দারুণ অভিজ্ঞতা ও আনন্দের ব্যাপার। তার পর অ্যান্টিকগুলি দর্শন করলে তো কথাই নেই।

বাড়িটির সম্পর্কে দু’টি মত আছে। একটি হল, রামমোহন ফ্রান্সিস মেনডেজের কাছ থেকে ১৮১৫ সালে তেরো হাজার টাকায় এটি ক্রয় করেছিলেন। অন্য মতটি হল কলকাতা বিশেষজ্ঞ রাধারমণ মিত্রের। যিনি অকাট্য প্রমাণ সহ জানিয়েছেন, এই বাড়িটি কখনও রামমোহন কেনেননি, তৈরিও করাননি। এটি নির্মাণ করিয়েছিলেন তখনকার সদর দেওয়ানি কোর্টের উকিল তথা রামমোহনের দ্বিতীয় পুত্র রমাপ্রসাদ রায়। আর ১৮১৫ সালে নয়, তিনি ১৮৫৭ থেকে ১৮৬২-র মধ্যে এটি তৈরি করান। প্রমাণ স্বরূপ রাধারমণ দু’টি ম্যাপের কথা উল্লেখ করেছেন একটি সিমস্-এর ১৮৪৭-৪৯-এর ম্যাপ অন্যটি স্মিথের ১৮৪৭-৫৩-র ম্যাপ। দু’টিতেই এ বাড়ির চিহ্নমাত্র নেই। রামমোহন মারা গিয়েছিলেন ১৮৩৩ সালে। সুতরাং এই বাড়িটির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল না। অথচ প্রধানত এই ভবনটির কারণে সংলগ্ন রাস্তার নামে ‘রাজা রামমোহন রায়’ যুক্ত হয়ে গেলেন। তবে দর্শনীয় স্থান হিসেবে ভবনটির যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। এই ভবনটি পরিক্রমার পর যেতে পারেন ‘সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ’ বাড়িটিতে।

এটিকে 'মন্দির'ও বলা হয়। ৮৫ নম্বর বাড়ি থেকে সিমলা মেছুয়া বাজারের ২১১ বিধান সরণির এই বাড়িটি প্রায় পায়ে হাঁটা দূরত্ব। আর হাতে টানা রিকশায় একটুখানি।ভবনটি নির্মাণের শুরুটা একটু বলা যাক।

১৮৭৮- এর মার্চ মাসে কেশবচন্দ্র সেনের ‘ভারতীয় ব্রাহ্মমন্দির’, কিছু মতবিরোধের কারণে ছেড়ে বেরিয়ে আসেন শিবনাথ শাস্ত্রী, উমেশচন্দ্র দত্ত প্রমুখ।মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের লিখিত আশীর্বাণী নিয়ে টাউন হলে একটি সভা করেন তাঁরা। অতঃপর এই বাড়িটি নির্মাণের প্রচেষ্টা শুরু হয়।দেবেন্দ্রনাথ সাত হাজার টাকা দেন। অনেকেই তাঁদের একমাসের রোজগারের টাকা দেন। ১৮৭৯-র ২৩ জানুয়ারি মাঘোৎসবের দিনে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই বাড়ির। তার ঠিক দু’বছর পর ১৮৮১-র ২২ জানুয়ারি মাঘোৎসবের দিনেই নগর কীর্তন করে মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। দু’বছর ধরে প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছিলেন আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী ও গুরুচরণ মহলানবিশ

স্বামী বিবেকানন্দর ভাই মহেন্দ্রনাথের মতে, এই জায়গাটিতে ঠনঠনের ঘোষেদের পুকুর ছিল। সেটি বুজিয়েই এই ভবন তৈরি হয়।সুদৃশ্য ভবনটির পিছন দিকে একটি বড় উঠোন, তার পিছনে শিবনাথ শাস্ত্রীর সাধনাশ্রম। এই আলাদা বাড়ি শিবনাথ স্মৃতিভবনও দর্শনীয়।

আরও পড়ুন