ইসমাইল দরবার। ছবি: সংগৃহীত।
ভারতীয় সঙ্গীতজগতের অন্যতম জনপ্রিয় নাম ইসমাইল দরবার। সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর সঙ্গে পর পর কাজ করেছেন। একাধিক সফল গান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু বিতর্কে ঘেরা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। বিবাহিত অবস্থাতেই দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শোনা যায়, দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা নাকি তাঁর জন্য ধর্ম পরিবর্তনও করেছিলেন! এই দাবি এ বার নস্যাৎ করে দিলেন তিনি।
প্রথম স্ত্রী ফরজ়ানার সঙ্গে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে ইসমাইলের। এর পরে আয়েশাকে বিয়ে করলেও, তাঁর ছেলেরা নাকি কখনও বাবার সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলেনি। প্রথম স্ত্রীর বিষয়ে ইসমাইল জানান, তাঁদের মধ্যে তেমন কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু, তাঁদের ঠিক বনিবনা হচ্ছিল না। সম্পর্কে নাকি কোনও রসায়নও ছিল না। শেষ দু’মাস নাকি আলাদা থাকাও শুরু করেছিলেন তাঁরা। সেই সময়েই সুরতে গিয়ে আয়েশাকে বিয়ে করেন। আয়েশার সঙ্গে তাঁর পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। ছেলের নাম রাখেন ইমান। ইসমাইলের কথায়, ‘‘আমার ছেলের হিন্দু নাম মান। ছেলে মামাবাড়ি গেলে ওই নামে সকলে ওকে ডাকে। পুজোপাঠ করে, কপালে তিলক কাটে। যে ধর্মে ও জন্মেছে, তাকে শ্রদ্ধা করার পাশপাশি বাকি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দিই ছেলেকে। আর আয়েশা না থাকলে এত দিনে শেষ হয়ে যেতাম। এ কথা সঞ্জয় লীলা ভন্সালীও এক বার বলেছিলেন আমায়।’’
যদিও ইসমাইল মানতে নারাজ যে, তিনি ফরজ়ানার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাঁর কথায়, “এক দিন আমার সঙ্গে ফরজ়ানার খুব ঝগড়া হল। আমি সঙ্গে সঙ্গে আয়েশাকে ফোন করি। আমরা গাড়িতে করে ঘুরতে থাকি। এক জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে আমি ওকে বিয়ের প্রস্তাব দিই। ও রাজি হয়। তখন আমি জানতাম না যে, ও এক ধনী ব্যক্তির বাগ্দত্তা ছিল। ও ভাবত, আমি দারুণ সঙ্গীত পরিচালক। সেই কারণেই আমার প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করেছিল।”
একদিন হঠাৎই সুরতে গিয়ে আয়েশাকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নাকি স্ত্রী নিজেই নিয়েছিলেন। ইসমাইল গর্ব করে জানান, নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছেড়ে এসে তাঁর সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন আয়েশা।