কেন আলাদা ঘরে সময় কাটাতেন রাম চরণ ও তাঁর স্ত্রী?
কোভিড ১৯ অতিমারী সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার সময় ছিল। কেউ হারিয়েছেন নিজের প্রিয়জনকে, আবার কেউ লড়েছেন একাকিত্ব, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক অবসাদের সঙ্গে। সেই কঠিন সময়ের প্রভাব পড়েছিল অভিনেতা রাম চরণের জীবনেও। সম্প্রতি তিনি জানান, লকডাউনের পরে তিনি আর শরীরচর্চা বা শুটিংয়ে ফেরার কোনও উৎসাহ পাচ্ছিলেন না। তবে পরিচালক এস এস রাজামৌলীর সঙ্গে একটি কথোপকথন তাঁর ভাবনা তখন পুরো বদলে দেয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাম চরণ জানান, অতিমারীর সময়ে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী উপাসনা কী ভাবে মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন। দক্ষিণী তারকা বলেন, “করোনার সময়ে সবাই মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমিও তার বাইরে ছিলাম না। আমরা সবাই খুব বিভ্রান্ত অবস্থার মধ্যে ছিলাম। তখন ‘আরআরআর’-এর অর্ধেক শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি তখন শারীরিক ভাবে নিজের সেরা অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ সব বন্ধ হয়ে গেল। তখন আমি একটি আবাসনে থাকতাম। পরে এখন যে বাড়িতে থাকি, সেখানে চলে আসি।”
সে সময়ে চার দিকে মৃত্যু এবং খারাপ খবরের পরিবেশ তাঁকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিল বলেও জানান অভিনেতা। উপাসনা হাসপাতালে কর্মরত। তাই আরও কাছ থেকে সবটা জানতে পারতেন। রাম চরণ বলেন, “মানুষকে এ ভাবে মারা যেতে দেখা খুব কঠিন ছিল। আমি তখন উপাসনার বাড়িতে থাকতাম। ও বাড়ি থেকেই সারা ক্ষণ হাসপাতালের কাজ সামলাত। আমি একা বসে থাকতাম আমার ঘরে। ও আমার পাশে থাকত ঠিকই, কিন্তু সব সময় কোনও না কোনও কাজে ব্যস্ত থাকত।”
রাম চরণ জানান, সেই সময়টা তাঁর কাছে কতটা একাকী ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বাস করবেন না, পুরো কোভিড সময়টায় উপাসনা এক ঘরে বসে রোগীদের সামলাত আর আমি অন্য ঘরে একা থাকতাম মাসের পর মাস। সেটা আমাকে ভীষণ ভাবে ভেঙে দিয়েছিল।”
দীর্ঘ দিন একা থাকতে থাকতে তিনি মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন বলেও স্বীকার করেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “অনেক দিন একা থাকলে মানুষের চিন্তাভাবনাও বদলে যায়। আমি মানসিক ভাবে খুব খারাপ অবস্থায় চলে গিয়েছিলাম। পরে যখন সব কিছু খুলতে শুরু করল, তখন আমি রাজামৌলী স্যরকে ফোন করে বলি, এক বার দেখা করতে চাই।”
সেই কথোপকথনের কথা বলতে গিয়ে রাম চরণ বলেন, “আমি ওঁকে বলেছিলাম, শুটিং আবার শুরু হতে চলেছে, কিন্তু আমার মধ্যে কোনও উৎসাহ ও উদ্যম নেই। আমি বলেছিলাম, ‘এত বড় ছবি, দেশের সবচেয়ে বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করছি, তার পরও আমার এ কী হচ্ছে?’” তখন রাজামৌলী বলেছিলেন, “চরণ, উৎসাহ সব সময়ে বড় কিছু থেকে আসে না।” রাম চরণ জানিয়েছিলেন, বাড়ি থেকে বেরোতেই ইচ্ছে করে না। আলস্য তাঁর উপরে জাঁকিয়ে বসেছে। সেই সময়ে রাজামৌলী তাঁকে বলেন, “এ ভাবে ভেবো না। লকডাউন ২০ দিনের মধ্যে শেষ হবে। ছোট থেকে শুরু করো। এমন একটা ছোট কাজ খুঁজে বের করো, যেটার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করবে।”
রামচরণ তখন, রোজ সকালে উঠে ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করেন। তারপর বাগান, তারপর পুরো বাড়ি, তারপর খামারবাড়ি— এ ভাবেই ছোট ছোট কাজ ভাগ করে নেন তিনি। এগুলোই তাঁকে নতুন করে উৎসাহ দেয়।