Cortisol Belly

ভুঁড়ি কি শুধুই ভোজনরসিকদের? ‘কর্টিসল বেলি’ এখন অনেকেরই, সেটি কী? কমবে কোন উপায়ে?

কারও খেয়ে ওজন বাড়ে, আবার কেউ কম খেয়েও স্থূল হন। বড়সড় ভুঁড়ি নিয়ে নাজেহাল হতে হয়। এমন ভুঁড়ি কিন্তু খাওয়াদাওয়ার কারণে হয় না, এর জন্য দায়ী হরমোন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৪:০৮
Share:

কর্টিসল বেলিতে ভুগছেন বেশির ভাগই, কী সেটি? ছবি: ফ্রিপিক।

খেয়েদেয়ে পেল্লায় ভুঁড়ি নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে, হালকা ব্যায়াম করেও ভুঁড়ি হচ্ছে অনেকের। চওড়া হচ্ছে কোমরের মাপও। পেটের চর্বি যদি চিন্তার কারণ হয়, তা হলে সে মেদ এল কোথা থেকে, তা জানা খুবই জরুরি। শুধু চর্বচোষ্য খেয়ে যে এমন ভুঁড়ি হবে, তা নয়। এর কারণ অন্যও হতে পারে। চর্বির পরত যেন ঠিক পেটের মধ্যিখানে গিয়েই জমা হচ্ছে। সারা শরীরে তেমন মেদ না থাকলেও, ফুলে উঠছে পেট। এরই নাম ‘কর্টিসল বেলি’। কমবেশি অনেকেই ভুগছেন এই সমস্যায়।

Advertisement

কর্টিসল হল স্ট্রেস হরমোন। মানসিক চাপ যত বাড়বে, দুশ্চিন্তার পারদ যত চড়বে, ততই কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়বে। এই হরমোন যে একেবারেই খারাপ তা নয়। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক হরমোনের মধ্যে কর্টিসল অন্যতম। জীবনদায়ী হরমোনও বলে এটিকে। অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল হরমোন বেরোয়। এই হরমোন কতটা বেরোবে, সেই মাত্রা আবার নিয়ন্ত্রণ করে পিটুইটারি গ্রন্থি। শরীরের রক্তচাপ, বিপাক হার, ফ্যাট বা শর্করার মাত্রা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা স্থির করে দেয় কর্টিসলের ক্ষরণ। কিন্তু যদি কর্টিসল প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেরোতে শুরু করে, তখনই সমস্যা দেখা দেয়। মনের উপর চাপ যত বাড়বে, ততই এই হরমোনের ক্ষরণ বাড়বে। আর যত বেশি কর্টিসল বেরোবে, ততই বিপাক হারে বদল আসবে। অতিরিক্ত কর্টিসল কর্টিসল রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, মিষ্টি ও ভাজাভুজি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে। হজমক্ষমতা কমে যায় ফলে বাড়তি ক্যালোরি মেদ হয়ে জমতে থাকে। তাই ফোলাফাঁপা ভুঁড়ির জন্য কেবল খাওয়াদাওয়াকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, মানসিক চাপও অনেকটাই দায়ী।

কর্টিসল বেলি সহজে কমে না। এর জন্য বিশেষ কিছু ব্যায়াম আছে। শুধু হাঁটা বা দৌড়োনো নয়। করতে হবে কয়েক রকম যোগাসন, পিলাটেজ়, তাই চি, স্ট্রেচিংয়ের মতো ব্যায়াম।

Advertisement

যোগাসন

ধনুরাসন। ছবি: ফ্রিপিক।

যোগব্যায়ামের মধ্যে ধনুরাসন করলে কর্টিসল বেলি কমতে পারে। এর পদ্ধতি খুব কঠিন নয়। উপুড় করে শুয়ে পড়ুন। হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা যতখানি সম্ভব পিঠের উপর নিয়ে আসুন। এ বার হাত দুটো পিছনে নিয়ে গিয়ে গোড়ালি বা পায়ের আঙুল শক্ত করে চেপে ধরুন। এর পর সে ভাবেই দুই পা যতটা সম্ভব তুলে পিঠের উপর নিয়ে আসতে হবে। এতে কাঁধ পিছনের দিকে থাকবে, বুক সামনের দিকে প্রসারিত হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে। ২০-৩০ সেকেন্ড করে এই আসন বার তিনেক করতে হবে।

পিলাটেজ়

বল ক্রাঞ্চ পিলাটেজ়। ছবি: ফ্রিপিক।

পেলভিক ব্রিজ ভুঁড়ি কমানোর জন্য ভাল ব্যায়াম। এর জন্য পিলাটেজ় বল হলে বেশি ভাল হবে। মেঝেতে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। আপনার দু'টি পা বলের উপর রাখুন। দুই হাত শরীরের দুই পাশে সমান্তরাল ভাবে রাখুন। ধীরে ধীরে কোমর ও নিতম্ব উপরের দিকে তুলুন, যাতে শরীর একটি সোজা রেখায় থাকে। ১০-২০ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার আগের অবস্থানে ফিরে যান।

তাই চি

তাই চি। ছবি: সংগৃহীত।

শরীরের সমস্ত পেশির ব্যায়াম হয় তাই চি অভ্যাসে। শক্তি বাড়ে, মেদও কমে। ভুঁড়ি কমাতে করতে পারেন লোটাস কিক। এক পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য পা ঘুরিয়ে কিক করুন। এই ভাবে কয়েকটি সেটে পা বদলে বদলে করুন। এতে যেমন পায়ের পেশির জোর বাড়বে, তেমনই মেদ কমবে।

স্ট্রেচিং

স্ট্রেচিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড। ছবি: সংগৃহীত।

ফরোয়ার্ড ফোল্ড পেটের মেদ কমানোর জন্য করা যেতে পারে। সোজা হয়ে দাঁড়ান। তার পর কোমর ভেঙে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের পাতা স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। মাথা যতটা সম্ভব নীচের দিকে ঝোঁকান। প্রথম প্রথম পায়ের পাতা স্পর্শ করতে সমস্যা হবে, ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে। সারা শরীরের স্ট্রেচিং হবে এই ব্যায়ামে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement