Mangalik Dosha Remedies

কোষ্ঠীর অষ্টমে মঙ্গলের অবস্থান মানেই জীবন বিভীষিকাময়! কোন বিষয়গুলিতে অশুভ প্রভাব পড়ে? কোনও প্রতিকার আছে কি?

জন্মপত্রিকায় মঙ্গল গ্রহের অবস্থানের কারণে সৃষ্টি হয় মাঙ্গলিক দোষ। জন্মপত্রিকায় একাধিক স্থানে মঙ্গলের অবস্থানে মাঙ্গলিক দোষ সৃষ্টি হলেও, কোষ্ঠীতে লগ্ন বা রাশির অষ্টমে মঙ্গলের অবস্থান বিশেষ অশুভ মাঙ্গলিক যোগ নির্দেশ করে।

Advertisement

সুপ্রিয় মিত্র

শেষ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:১৮
Share:

—প্রতীকী ছবি।

মানুষ যে সমস্ত দোষের নাম শুনলেই আতঙ্কিত হন মাঙ্গলিক দোষ তাদের মধ্যে অন্যতম। জন্মপত্রিকায় মঙ্গল গ্রহের অবস্থানের কারণে সৃষ্টি হয় মাঙ্গলিক দোষ। জন্মপত্রিকায় একাধিক স্থানে মঙ্গলের অবস্থানে মাঙ্গলিক দোষ সৃষ্টি হলেও, কোষ্ঠীতে লগ্ন বা রাশির অষ্টমে মঙ্গলের অবস্থান বিশেষ অশুভ মাঙ্গলিক যোগ নির্দেশ করে। অষ্টমে মঙ্গলের অবস্থানে সৃষ্টি মাঙ্গলিক দোষ বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।

Advertisement

মঙ্গলের সপ্তম দৃষ্টি ছাড়াও, চতুর্থ এবং অষ্টমে বিশেষ দৃষ্টি থাকার কারণে মঙ্গলের অবস্থানের ক্ষেত্র ছাড়াও চতুর্থ, সপ্তম এবং অষ্টম ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব দান করে।

অষ্টমে মঙ্গলের অবস্থানের কারণে আয়ুর উপর প্রভাব পড়ে। কোষ্ঠীতে অষ্টম স্থানে মঙ্গল রোগযুক্ত শরীরের নির্দেশ করে। বাবার সম্পত্তি বা সম্পত্তি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে হয়। অষ্টমে মঙ্গল নিজের অপমান এবং স্ত্রীর অমঙ্গল নির্দেশ করে।

Advertisement

অষ্টমে মঙ্গল অবস্থান করলে মঙ্গলের চতুর্থ দৃষ্টি একাদশ স্থান প্রভাবিত করে। একাদশ স্থান হল আয় বা লাভের স্থান। পার্থিব বা অপার্থিব, সব ধরনের আয় বা লাভের ক্ষেত্রে এবং সফলতা প্রাপ্তিতে মঙ্গল বাধা দান করে। বন্ধুসুখ প্রাপ্তিতেও মঙ্গল অশুভ প্রভাব দান করে।

অষ্টমে মঙ্গল অবস্থান করলে মঙ্গলের সপ্তম দৃষ্টি দ্বারা দ্বিতীয় রাশিতে বা দ্বিতীয় স্থানে প্রভাব দান করে। দ্বিতীয় স্থান আমাদের কথাবার্তার উপরও অশুভ প্রভাব দান করে। কোথায় কী কথা বলা উচিত সেই জ্ঞান থাকে না, কথায় রূঢ়তা বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় স্থান হল ধনস্থান। বিশেষত দামি ধাতু বা মূল্যবান বস্তু সংক্রান্ত সুখ থেকে বঞ্চিত করে। পরিবার এবং প্রতিবেশী সুখও ভাগ্যে জোটে না।

Advertisement

অষ্টমে মঙ্গল তৃতীয় রাশিকে প্রভাবিত করে। তৃতীয় রাশি হল সাহস ও পরাক্রমের স্থান। তৃতীয় রাশিতে মঙ্গলের দৃষ্টি সাহসিকতা বৃদ্ধি করলেও উচিত-অনুচিত চিন্তার ক্ষমতাহীন হওয়ার কারণে ক্ষতিই বেশি হয়। ভ্রাতৃসুখ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

মাঙ্গলিক দোষ বিচারের ক্ষেত্রে মঙ্গল ছাড়াও অন্যান্য গ্রহ, বিশেষত শনি, রাহু, কেতু এবং বৃহস্পতির অবস্থান এবং দৃষ্টিবিচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিকার: নিয়মিত হনুমানচালিশা পাঠ করতে হবে। এরই সঙ্গে প্রতি দিন, সম্ভব না হলে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার হনুমানজির পুজো করুন এবং প্রসাদ বিতরণ করুন। গায়ত্রীমন্ত্র জপ করুন। দেবী দুর্গার পুজো করুন। লাল বস্ত্র বা রুমাল ব্যবহার করুন। বাঁদর, হনুমানকে খাবার দিন। মঙ্গলবার উপবাস পালনে বিশেষ শুভ ফল প্রাপ্তি হয়। মাঙ্গলিক দোষ থাকলে ২৭-২৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করা উচিত নয়। এ ছাড়া কোনও অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নিতে পারলে খুবই ভাল হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement