উত্তরপ্রদেশে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ছবি: পিটিআই।
উত্তরপ্রদেশের এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সেখানে খসড়া তালিকার তুলনায় ৮৪ লক্ষ ভোটার বেড়েছে। বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৯২। তবে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগের তালিকার তুলনায় মোট ভোটার প্রায় ২ কোটি কমেছে।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। শুক্রবার সে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নবদীপ রিনওয়া সাংবাদিক বৈঠক করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন। জানান, রাজ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ভাবে আইন মেনে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি না মেনে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
গত ৬ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেই তালিকায় ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৫ জনের নাম ছিল। এই তালিকা নিয়ে আপত্তি, অভিযোগ বা আবেদন জানানো এবং সেগুলি নিষ্পত্তির জন্য দু’মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তার পর শুক্রবার যে চূড়ান্ত তালিকা কমিশন প্রকাশ করেছে, তাতে মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটির বেশি। মোট ৮৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৬৭ জন ভোটার বেড়েছে খসড়া তালিকার সংখ্যা থেকে। কমিশনের মতে, নির্বাচন সম্পর্কে সচেতনতা এবং এসআইআর নিয়ে প্রচারমূলক কর্মসূচির সাফল্য এই পরিসংখ্যান।
কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে উত্তরপ্রদেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯২। এসআইআর-এর পর চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা ২ কোটি ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩০০ কমল।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশে খসড়া তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি ভোটার বেড়েছে প্রয়াগরাজ, লখনউ, বরেলী, গাজ়িয়াবাদ এবং জৌনপুরে। সিইও নবদীপ জানিয়েছেন, এর পরেও কোনও ‘যোগ্য’ ভোটারের নাম যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে, তবে ফর্ম ৬ পূরণ করে তিনি আবেদন করতে পারবেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে কারও কোনও আপত্তি থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের দফতরে তা জানাতে হবে। কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের নাম যাচাই করে নিতে উত্তরপ্রদেশের জনগণের কাছে আবেদন করেছে কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল এ রাজ্যে। তার পর ধাপে ধাপে একাধিক অতিরিক্ত তালিকা দিয়েছে কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারকেরা বিবেচনাধীন তালিকার নিষ্পত্তির কাজ করেছেন। এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে।