মাথার ত্বক ঘেমে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে, সমাধান কী? ছবি:সংগৃহীত।
তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আর্দ্রতা। আর তাতেই নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন মানুষ। রাস্তায় রোদে বেরোলেই দরদরিয়ে ঘাম। হাঁপিয়ে উঠছেন সকলে। বাড়তি গরম এবং ঘাম মানেই শরীরে দুর্গন্ধ। বাহুমূলের গন্ধ দূর করার জন্য ডিয়োডোর্যান্ট, সুগন্ধি-সহ অনেক কিছুই আছে। কিন্তু মাথার ঘামের জন্য?
গরমের দিনে মাথাতেও দুর্গন্ধ হয়। ঘামে ভেজা মাথার ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণও হতে পারে। আবার নিয়মিত ঘাম-ময়লা পরিষ্কার করা না হলে বিশ্রী গন্ধ বার হওয়াও স্বাভাবিক।
কী কী সমস্যা হতে পারে মাথার ত্বকে?
· সেবোরিক ডার্মাটাইটিস হতে পারে মাথার ত্বকে। এটি প্রদাহজনিত সমস্যা। চুল তৈলাক্ত হয়ে যায়, মাথার ত্বক থেকে খুসকির মতো সাদা চামড়া উঠতে থাকে। তা থেকেও মাথার ত্বকে দুর্গন্ধ হতে পারে।
· রোদের তাপে প্রবল ঘাম হয়। আবার যাঁরা গরমে শরীরচর্চা করেন, তাঁদেরও প্রচণ্ড ঘাম হয়। অতিরিক্ত ঘামের সমস্যাকে বলা হয় হাইপারহাইড্রোসিস।মাথার ত্বক বেশি ঘামলে বা অপরিচ্ছন্ন থাকলেও সমস্যা হতে পারে বা দুর্গন্ধ হয়।
· মাথার ত্বক ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে বা অতিরিক্ত পরিষ্কার করলেও মাথার ত্বকের সমস্যা হতে পারে। খুব বেশি পরিষ্কার করলে, তৈলগ্রন্থি নিঃসৃত সেবামের মাত্রা কমতে পারে। তাতেও মাথার ত্বকে সমস্যা হতে পারে।
সমাধান কী
সঠিক কায়দায় মাথার ত্বক এবং চুল পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি’-র প্রস্তাব অনুসারে মাথার ত্বকের দুর্গন্ধের সমস্যার সমাধানে কিটোকোনাজ়োল, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, সেলেনিয়াম সালফাইড জাতীয় শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ত্বকের রোগের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শ্যাম্পু বাছাই সব সময়েই জরুরি।
রয়েছে কিছু ঘরোয়া টোটকা
এসেনশিয়াল অয়েল: প্রাকৃতিক নির্যাস থেকে তৈরি হয় এসেনশিয়াল অয়েল। টি-ট্রি অয়েলে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। সেবোরিক ডার্মাটাইটিস কমানোর জন্য ঘরোয়া টোটকা হিসাবে টি-ট্রি অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। নারকেল তেলে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে মালিশ করে ১৫-২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার: অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের নানা রকম উপকারিতা রয়েছে। চুল মসৃণ করতে এটি সাহায্য করে। মাথার ত্বকের দুর্গন্ধ দূর করতে কাজে আসতে পারে এটিও। এতে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। তবে এগ্জিমার মতো সমস্যা থাকলে এটি ব্যবহার না করাই ভাল। শ্যাম্পু করার পরে ১-২ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার জলে মিশিয়ে মাথার ত্বক এবং চুল ধুতে হবে। হালকা হাতে মাসাজ় করার পরে ১৫ মিনিট তা চুলে বসতে দিন। আবার শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে।
পাতিলেবুর রস: জলে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে শ্যাম্পুর পরে চুল ধুতে পারেন। অনেক সময় এতেও সমাধান হয়।
চিকিৎসা
প্রাথমিক ভাবে শ্যাম্পু এবং ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তার পরেও যদি মাথার ত্বকের দুর্গন্ধ না কমে, অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। কারণ, সময়ে সতর্ক না হলে চুল ঝরা, মাথার ত্বক চুলকানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যান্টি ফাঙ্গাল ক্রিম বা লোশন দিতে পারেন চিকিৎসক। মাথার ত্বক পরীক্ষা করে, প্রয়োজন বুঝে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।