সূর্যকুমার যাদব। ছবি: পিটিআই।
ম্যাচের আগে টসের পর হয়নি করমর্দন। ম্যাচশেষেও তা দেখা যায়নি। এমনকি, খেলা চলাকালীন দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে স্লেজিংয়ের ঘটনাও ঘটেনি। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের স্লেজ করতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবই। ম্যাচ শেষের কয়েক ঘণ্টা পর তা জানা গেল।
সোমবার ভারতীয় ক্রিকেটদল সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের ইনিংস শুরু হওয়ার আগে গোল করে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। সূর্য সকলকে বলছেন, “ওভারের মাঝে সময় নষ্ট করা চলবে না। এনার্জি যেন না কমে। কাউকে কিছু বলতে যাওয়ার দরকার নেই। ওদের স্লেজ করতে যাবে না। আমাদের ভাল ক্রিকেট খেলতে হবে। নিজেদের দক্ষতায় আমরা ম্যাচ জিতব।”
পাশাপাশি দলের সকলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন ভারত অধিনায়ক। সূর্য বলেন, “পিচ বেশ কঠিন। আমরা অনেক রান করেছি। এই পিচে ১৭৬ রান তাড়া করা সহজ হবে না। নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখো। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করো। ফিল্ডিংয়ে ভুল করলে হবে না। ক্যাচ ধরব। খেলা উপভোগ করব। দেড় ঘণ্টা পর আনন্দ করব।”
সূর্যের কথা থেকে পরিষ্কার, তিনি বিশ্বাস রেখেছেন দলের উপর। শুধুমাত্র নিজেদের খেলা নিয়েই ভাবতে বলেছেন। তিনি জানতেন, স্লেজ করতে গেলে মাঠে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। সেটা চাননি তিনি। খেলার মতো খেলতে চেয়েছেন। নিজেদের দক্ষতায় জিততে চেয়েছেন। সেটাই শেষপর্যন্ত করেছে ভারত।
কলম্বোয় প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে ভারত। ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ঈশান কিশন। জবাবে ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অল আউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ৬১ রানে হারে তারা।
খেলাশেষে এই জয় দেশকে উৎসর্গ করেছেন সূর্য। তিনি বলেন, “এই জয় গোটা ভারতের জন্য। ঠিক যে রকম ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলাম সে রকমই খেলেছি। আমি খুবই খুশি।” মন্থর পিচেও আগ্রাসী ব্যাটিং কী ভাবে করতে হয়, সেটা রবিবার দেখিয়েছেন ঈশান। তরুণ ব্যাটারের সাহস দেখে অবাক সূর্যকুমারও। বলেছেন, “ঈশান এ ভাবেই ব্যাট করে। গত কয়েকটা ম্যাচে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ও এ ভাবেই ব্যাট করে এসেছে। চাপের সময়ে ও বাকিদের চেয়ে অন্য রকম ভেবেছিল। ০/১ অবস্থায় কাউকে দায়িত্ব নিতেই হত। সেই কাজ খুব ভাল ভাবে পালন করেছে ঈশান। শুধু ওরা নয়, তিলক, শিবম এবং রিঙ্কুও যে ভাবে ব্যাট করেছে, তা-ও প্রশংসনীয়।”
স্কোরবোর্ডে ১৭৫ তোলার পরেও কি মনে হয়েছিল কম রান উঠেছিল? মানতে চাননি সূর্য। বলেছেন, “প্রথমে ব্যাট করলে বোঝা মুশকিল যে কত রান তুললে সুবিধা হবে। তবে ১৭৫ রান তোলার পর বুঝেছিলাম, এই মাঠে গড়ের থেকে ১৫-২০ রান বেশি তুলে ফেলেছি। স্কোর ১৫৫ হলে ম্যাচটা আরও হাড্ডাহাড্ডি হত।”
পাওয়ার প্লে-তেই পাকিস্তানের চারটি উইকেট ফেলে দিয়ে যে ভাবে ভারতকে প্রায় ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছিলেন, তার জন্য বোলারদের প্রশংসা করেছেন সূর্যকুমার। বলেছেন, “নতুন বলে হার্দিক ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেছে। বুমরাহ আরও এক বার দেখিয়ে দিয়েছে কেন ও বিশ্বের সেরা বোলার। সকলের অবদান দেখতে পেয়ে ভাল লেগেছে।”
সোমবার অহমদাবাদে পৌঁছোনোর পর পরের ম্যাচ নিয়ে ভাববেন বলে জানিয়েছেন সূর্যকুমার। বলেছেন, “পরের ম্যাচ নিয়ে কাল থেকে ভাবব। আপাতত গোটা দল একসঙ্গে ভাল সময় কাটাতে চাই। নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ভাবব কাল অহমদাবাদে পৌঁছোনোর পর।”