Bizarre Incident

কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষা বলল দুই যমজ বোনের বাবা আলাদা! ‘অসম্ভব’ কী ভাবে সম্ভব হল?

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে নটিংহ্যামে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম হয় মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার। দুই বোন একসঙ্গেই বড় হয়েছেন। একই বাবা-মার কাছে মানুষ হয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ০৮:০২
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

জন্মের কয়েক দশক পর পিতৃপরিচয় সংক্রান্ত আশ্চর্যজনক তথ্য জানতে পেরে হতবাক ব্রিটেনের দুই বোন। যমজ হওয়া সত্ত্বেও ওই দুই বোনের ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তাঁদের বাবা এক জন নন, আলাদা। আর তার পরেই বিস্ময়ে হতবাক বর্তমানে ৪৯ বছর বয়সি ভগিনীদ্বয় মিশেল ও ল্যাভিনিয়া অসবার্ন। প্রকাশ্যে আসার পরে ঘটনাটি হইচই ফেলেছে সমাজমাধ্যমেও।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে নটিংহ্যামে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম হয় মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার। দুই বোন একসঙ্গেই বড় হয়েছেন। তবে কেবল মায়ের ছত্রছায়ায়। যমজ দুই বোনের জীবন ভালই কাটছিল। কিন্তু সম্প্রতি বাড়িতে ডিএনএ পরীক্ষা করার পর পিতৃপরিচয় সংক্রান্ত সত্য জানতে পারেন তাঁরা। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, দু’জনের মা এক জন হলেও তাঁদের বাবা আলাদা। অর্থাৎ, একই মায়ের গর্ভজাত হলেও তাঁরা আসলে সৎবোন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল এবং এটি ‘হেটেরোপ্যাটার্নাল সুপারফেকাউন্ডেশন’ নামক একটি ভ্রূণ সম্পর্কিত অবস্থার কারণে হয়। এটি তখন ঘটে যখন একই ঋতুচক্রে নির্গত দু’টি ডিম্বাণু ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ল্যাভিনিয়া স্বীকার করেছেন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। তাঁর কথায়, ‘‘বোন ছিল আমার একমাত্র আপনজন। অথচ পরক্ষণেই সে আর আমার আপন রইল না।” তবে মিশেলের প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বলেন, “আমি অবাক হইনি। এটা খুবই অদ্ভুত, খুবই বিচিত্র, খুবই বিরল— কিন্তু এর একটা বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে।”

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশেল এবং ল্যাভিনিয়া যে দিন তাঁদের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল হাতে পান, সে দিনই তাঁদের মা মারা যান। ফলে অতীত সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর প্রথমে অমীমাংসিতই থেকে গিয়েছিল তাঁদের জীবনে। দুই বোনই জানিয়েছেন, বাবাকে নিয়ে বহু বছর ধরেই প্রশ্ন ছিল তাঁদের মনে। জেমস নামের এক ব্যক্তিকে তাঁদের বাবা হিসাবে পরিচয় করিয়েছিলেন মা। কিন্তু জেমসের মধ্যে কোনও দিনই বাবাকে খুঁজে পাননি তাঁরা। জেমস বেশি দিন তাঁদের সঙ্গে থাকেনওনি। ফলে পিতৃত্বের ছায়া ছাড়াই তাঁরা বড় হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুই বোন।

প্রতিবেদনে প্রকাশিত, মিশেল এবং ল্যাভিনিয়া— দু’জনেই এখন নিজেদের বাবাকে খুঁজে বার করেছেন। মিশেলের বাবা অ্যালেক্স এবং ল্যাভিনিয়ার বাবা আর্থার নামে আলাদা দুই ব্যক্তি। দু’জনের সঙ্গেই দেখা করেছেন তাঁরা। নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement