ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন বৃদ্ধা। প্রথাগত শিক্ষাও সে ভাবে পাননি তিনি। তা সত্ত্বেও তাঁর চিন্তার জগতে সব সময় ছিল স্বচ্ছতা। জীবনের পথে চলতে গিয়ে তিনি এমন জ্ঞান অর্জন করেছেন, যা কোনও শ্রেণিকক্ষে বসে লাভ করা যায় না। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর নাতি। নাতি পেশায় প্রযুক্তিবিদ। বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফ্টের সিনিয়র ম্যানেজার পদে রয়েছেন ওই ব্যক্তি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যম লিঙ্কডইন-এর ‘বেঙ্কটেশ বাজাজ’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে। যদিও পোস্টটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। সেই পোস্টটির মাধ্যমে জানা গেছে অশীতিপর ঠাকুরমাকে নিজের অফিস ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে গিয়েছেন এক প্রযুক্তিবিদ। তিনি জানান, সেটি তাঁর জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন।
ওই ব্যক্তি লেখেন, মহারাষ্ট্রের এক ছোট্ট শহর মঙ্গরুলপীরের বাসিন্দা তিনি। প্রত্যন্ত সে অঞ্চলে কর্পোরেট জগতের কোনও ছায়া তো দূর অস্ত, এমনকি বড় শহরে বসবাসকারীরা যে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন, তার কিছুই ছিল না। ছোটবেলায় তিনি সব সময় টিভিতে দেখা সেই উঁচু কাচঘেরা বাড়িতে বাস করার স্বপ্ন দেখতেন।
৮১ বছর বয়সি ঠাকুরমাকে মাইক্রোসফ্টের বেঙ্গালুরুর অফিসে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি। অফিসের বিশাল পরিসর, কাজকর্ম দেখে বৃদ্ধা যেমন কৌতূহলী হন, তেমনই বিস্ময়ও জাগে তাঁর। নাতিকে বার বার সেই বিশাল কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন। সব ঘুরেফিরে দেখে হেসে নাতির উদ্দেশে বলেন, “আরে, তুই তো খুব বড় কাজ করিস!” প্রযুক্তবিদ জানান, এটিই তাঁর পেশাজীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। কর্মস্থানে ঠাকুরমার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন, এমন একটি ছবিও আবেগঘন পোস্টটিতে জুড়ে দিয়েছেন মাইক্রোসফ্টের ওই কর্মী।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই আবেগে ভেসেছে নেটপাড়া। প্রায় ১০০০টি পছন্দ-চিহ্ন রয়েছে তাতে। অজস্র মন্তব্য জমা পড়েছে, রিপোস্টও হয়েছে। সকলেই ওই ব্যক্তির এমন কাজের প্রশংসা করেছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “এই মুহূর্তটিকে উপভোগ করুন, এটিই প্রকৃত সুখ।”