সাত ভাঁজের পেস্ট্রিতে হাত ধরাধরি ইতিহাস আর রহস্যের, কে যে প্রথম তৈরি করেন, আজও অজানা
খাবারের ইতিহাসে মিশে থাকে একটা জাতির, একটা সম্প্রদায়ের ইতিহাসও। খাবারের ভাঁজে সেই ইতিহাসের কথা চাপা পড়ে থাকে। কিন্তু সেই খাবারে যদি একটা নয়, দুটো নয়, সাত-সাতটা ভাঁজ থাকে?
খাবারের ইতিহাসে মিশে থাকে একটা জাতির, একটা সম্প্রদায়ের ইতিহাসও। খাবারের ভাঁজে সেই ইতিহাসের কথা চাপা পড়ে থাকে। কিন্তু সেই খাবারে যদি একটা নয়, দুটো নয়, সাত-সাতটা ভাঁজ থাকে?
আন্দাজ করাই যায়, তা কত না রহস্য লুকিয়ে রেখেছে অন্দরে। এমনই এক রহস্যময় খাবার হল ক্রেমনা রেজিনা। আসলে এক পেস্ট্রি।
অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান এলাকায় এক সময়ে তৈরি হত এই পেস্ট্রি। ভ্যানিলা স্লাইস বা কাস্টার্ড স্লাইস দিয়ে বানানো হতো এই বিশেষ পদ। তবে সে সব এখন অতীত। ক্রেমনা রেজিনা এখন বিশেষ নিয়ম মেনেই বানানো হয়।
কী কী থাকে তাতে? বর্গাকৃতির এই পদটি এখন সাতটি ভাঁজ বা ফোল্ডের পাফ পেস্ট্রি। এর ভাঁজে ভাঁজে থাকে এগ কাস্টার্ড, মিষ্টি ক্রিম, এবং চিনির গুঁড়ো।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর নির্মাণ কৌশলে এসেছে বদল। আর সে ভাবেই বদলে গিয়েছে প্রতিটি ভাঁজের আড়ালে থাকা মালমশলা। তবু মধ্য ইউরোপ ভূখণ্ডে আজও বেঁচে রয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী পেস্ট্রি। তবে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান এলাকায় এখন এটি যতটা জনপ্রিয়, তার চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় স্লোভেনিয়া এলাকায়।
আরও পড়ুন:
স্লোভেনিয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হল ব্লেড হ্রদ। আর সেই হ্রদের চার পাশ ঘিরে যত রেস্তোরাঁ, তার সবেতেই প্রায় পাওয়া যায় এই পেস্ট্রি। প্লেটে সেটি নিয়ে লেকের ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তোলাটাও কিছুটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে পর্যটকদের কাছে।
তবে কেউ কেউ আজও খোঁজেন আদিযুগের সেই স্বাদ। তা যে একেবারেই পাওয়া যায় না, তা নয়। তবে কাঠখড় পোড়াতে হবে। হোটেল পার্কের ভিতরে রয়েছে একটি বেকারি। এটি তৈরি হয়েছিল ১৯৫৩ সালে।
একেবারে গোড়ায় যে রেসিপি মেনে তৈরি হত ক্রেমনা রেজিনা, আজও সেই রেসিপি মেনেই তৈরি করা হয় এখানে। তবে অন্য দোকানের চেয়ে দাম কিছুটা বেশি। সেটিও পর্যটকদের কাছে বিরাট এক আকর্ষণই। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।