মুসলিমদের পাড়াতে খ্রিস্টানদের ডেরা! স্বয়ং প্রভু যিশু এসেছিলেন এই পাহাড়িয়া জনপদে?
ইউসমার্গ। শ্রীনগর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের একটি পাহাড়ি অঞ্চল। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এখানে এসেছিলেন প্রভু যিশু। ভূস্বর্গ গেলে আপনার ঠিকানা হোক এই পাহাড়িয়া জনপদ।
কাশ্মীর মানেই ভূস্বর্গের সৌন্দর্য। পৃথিবীর বুকে যেন দেবলোক! আর সেই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উঠলেই চোখে ভেসে ওঠে কাশ্মীরের ডাল লেক, তার জলে শিকারায় চেপে সঙ্গীর সঙ্গে মিঠে খুনসুটি, মোঘল বাগান, উপত্যকার হাজার রকম দৃশ্যের ডালি!
কিন্তু চেনা চেনা কাশ্মীরের বাইরে স্বল্প চেনা কাশ্মীরের খবর ক’জন রাখেন! এখানে রইল তেমনই এক খোঁজ।
জায়গাটির নাম ইউসমার্গ। এটা কাশ্মীরের বদগাম জেলার একটি হিল স্টেশন। কাশ্মীরকে যদি ভূস্বর্গ বলা হয় ইউসমার্গ তাহলে স্বর্গোদ্যান!
শান্ত শীতল হিমালয় পর্বতমালায় ঘেরা, চারদিকে পাইন আর দেবদারু গাছের ছায়ায় মোড়া এই হিল স্টেশনে এলেই, এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রেমে হাবুডুবু খাবেন আপনি।
শ্রীনগর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের এই হিল স্টেশনের ইউসমার্গ নামের পিছনেও একটা কৌতূহলোদ্দীপক কাহিনি আছে। কাশ্মীরি ভাষায় ‘ইউসমার্গ’ মানে যিশু।
আরও পড়ুন:
এখানকার স্থানীয় মানুষদের মনে পরম্পরাগত ভাবে বিশ্বাস যে, প্রভু যিশু নাকি কাশ্মীরে দর্শন দিয়েছিলেন। আর তখন এই স্থানেই কিছু সময় ছিলেন তিনি। সেই থেকে এই জায়গার নাম স্থানীয় ভাষায় প্রভু যিশুর নামে হয়েছে— ইউসমার্গ।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৮৬১ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ইউসমার্গ পীরপাঞ্জাল পর্বতশ্রেণীর সানসেট পিক এবং তাত্তাকুট্টি পিক-এর মতোই সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত।
ইউসমার্গের দর্শনীয় স্থানগুলো হল— দুধগঙ্গা, পাখোর্পরা মন্দির, নীলনাগ হ্রদ, চোসা ময়দান, চারারি শরিফ, সাং-ই সফেদ।
ইউসমার্গ থেকে কয়েক কিলোমিটার ট্রেক করলে দুধগঙ্গা পৌঁছে যাবেন। বড় বড় পাথর আর বোল্ডারের মধ্য দিয়ে নিরন্তর সজোরে আছড়ে পড়ছে অত্যাশ্চর্য প্রবাহ।
আরও পড়ুন:
দুধের মতো সাদা ফেনা তৈরি করে চলেছে সব সময়। সে কারণে এই ঝর্ণার নাম দুধগঙ্গা।
তার থেকে ৫ কিলোমিটার নীচে নামলে নীলনাগ হ্রদ। যে হ্রদের জল খাঁটি নীল রঙের। ঘন পাইন বন আর তুষারঢাকা পর্বতমালায় ঘেরা নীলনাগ হ্রদের চার পাশ পর্যটকদের মনে শান্তি আনবেই, এ কথা বাজি রেখে বলা যায়।
তাহলে? এবারের পুজোয় কাশ্মীর বেড়াতে গেলে ভূস্বর্গের এই স্বল্পচেনা গন্তব্যস্থল ইউসমার্গ ঘুরে আসতে কিন্তু ভুলে যাবেন না! এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।