• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়বে রিলায়্যান্স পাওয়ার, আদানি গোষ্ঠী

1
হাতে হাত। বিমানবন্দরে মোদীকে অভ্যর্থনা হাসিনার। ছবি: পিটিআই।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর উপলক্ষে দরজা খুলে গেল বাংলাদেশে বৃহত্তম বিদেশি লগ্নির। আর, তার হাত ধরে উজ্জ্বল হল বাংলাদেশের ঘোরালো বিদ্যুৎ সঙ্কট মেটার আশা।

দুই ভারতীয় সংস্থা রিলায়্যান্স পাওয়ার ও আদানি গোষ্ঠী মোট ৪৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শনিবারই আলাদা চুক্তি সই করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন পর্ষদ (পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড)-এর সঙ্গে।

এর মধ্যে অনিল অম্বানীর রিলায়্যান্স পাওয়ার ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সমঝোতাপত্র বা মউ সই করেছে পর্ষদের সঙ্গে। লগ্নি খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার। যার মূল্য প্রায় ২০ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা। আদানি গোষ্ঠী দু’টি কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করবে, যেগুলির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১৬০০ মেগাওয়াট। লগ্নির অঙ্ক প্রায় ২০০ কোটি ডলার বা ১৩ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা।

রিলায়্যান্স পাওয়ারের এগ্‌জি- কিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সমীর গুপ্ত জানান, গ্যাস ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়তে বছরে ২০ লক্ষ টন এলএনজি বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য একটি ভাসমান টার্মিনাল-ও তৈরি করা হবে। টার্মিনালটিতে থাকবে গ্যাস সংরক্ষণ ও তরলকে ফের গ্যাসে রূপান্তরের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালি দ্বীপে টার্মিনালটি গড়ে ওঠার কথা।

সংস্থা তার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হবে মার্কিন সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) -এর কাছ থেকে। জমি জোগাবে বিদ্যুৎ পর্ষদই।

প্রসঙ্গত, গ্যাসের জোগানের অভাবে ভারতে অন্ধ্র প্রদেশের সামালকোটে রিলায়্যান্স পাওয়ার -এর আটকে থাকা প্রস্তাবিত ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কেনা নতুন যন্ত্রপাতিই বসানো হবে বাংলাদেশের ওই কারখানায়। মুকেশ অম্বানীর রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজেরই অন্ধ্রের ওই প্রকল্পে গ্যাস সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকা বা কেজি বেসিনে উৎপাদন তলানিতে ঠেকায় কোনও গ্যাসই দিতে পারেনি তারা। ফলে যন্ত্রপাতি নতুন অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে, যেগুলি ব্যবহার করা হলে দ্রুত বাংলাদেশে প্রকল্প গড়তে সুবিধা হবে বলে জানিয়েছে রিলায়্যান্স পাওয়ার।

রিলায়্যান্স পাওয়ার এবং আদানি গোষ্ঠী, দু’টি সংস্থার আধিকারিকরাই জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে ১৩ মাসের মধ্যে ইউনিটগুলি নির্মাণের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পগুলির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে এ দিন জানান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন পর্ষদের অন্যতম ডিরেক্টর মহম্মদ সইফুল ইসলাম।

বাংলাদেশে রিলায়্যান্স পাওয়ারের প্রকল্পটি গড়ে উঠবে দফায় দফায়। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে তিন বছরে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। তার আগে অবশ্য ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে ও সব রকম অনুমোদন নিতে হবে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৭ হাজার মেগাওয়াট। তবে ঘাটতিও বিপুল। দৈনিক প্রায় ১৫০০ মেগাওয়াট। গত ২০১৪ সালের ২ নভেম্বরেই দেশ জুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সঙ্কটের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। ভারত থেকে আসা একটি লাইন বসে যাওয়াতেই তার প্রভাব পড়ে জাতীয় পাওয়ার গ্রিডে।

এই পরিপ্রেক্ষিতেই পর্ষদ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বদ্ধপরিকর। ২০১০ সালেই তারা ৩ হাজার মেগাওয়াটের গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা করেছিল। লক্ষ্য ছিল দূষণহীন বিদ্যুৎ তৈরি এবং কয়লার উপর নির্ভরতা কমানো। রিলায়্যান্সের প্রকল্প দেশকে সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই এগিয়ে দেবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী আবুল হাসান মামুদ আলি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও দ্বিগুণের বেশি বাড়াতে চান তাঁরা। সে ক্ষেত্রে আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে তা বেড়ে হবে ১১ হাজার মেগাওয়াট। এখন এই আমদানি ৫ হাজার মেগাওয়াট।

সরকারি সূত্রের খবর, দেশের আর্থিক বৃদ্ধি আশানুরূপ না-হওয়া ও লগ্নি তেমন না-আসার জন্যও বিদ্যুৎ সঙ্কট অনেকটাই দায়ী। সেই কারণেই বিদ্যুৎ ও পরিবহণের মতো ক্ষেত্রে খরচ বাড়াতে উদ্যোগী হাসিনা সরকার। চলতি অর্থবর্ষ থেকে তা আগের তুলনায় ৪০% বেড়ে ৩৪০ কোটি ডলার বা ২০,৪০০ কোটি ভারতীয় টাকা ছোঁয়ার কথা। 

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন