ইস্পাতের বদলা হার্লে ডেভিডসন!

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের চড়া আমদানি শুল্ক বসানোর প্রস্তাবের পাল্টা হিসেবে এ বার ওই মার্কিন মোটরসাইকেলের উপর শুল্ক চাপানোর তোড়জোর শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যে বাইকে আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশের নীচে না নামানোর জন্য  হালে বারবার নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

একই সঙ্গে ইউরোপ ভাবছে মার্কিন ব্র্যান্ডের জিন্‌স সমেত ট্রাম্পের দেশ থেকে আসা ৩৫০ কোটি ডলারের পণ্যের উপরে ২৫% আমদানি শুল্ক চাপানোর কথাও। ঠিক যে ভাবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে যথাক্রমে ২৫% ও ১০% কর চাপানোর কথা ঘোষণা করে বিশ্ব জুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। চিনের পরামর্শ, আর দেরি না করে অবিলম্বে বৈঠকে বসুক ওয়াশিংটন।

ফুঁসছে ইউরোপ। বক্তৃতার মঞ্চে হুঁশিয়ারি দেওয়া জঁ ক্লদ জাঙ্কের। এএফপি

ইউরোপীয় কমিশনের চিফ জঁ ক্লদ জাঙ্কেরের হুঙ্কার, ‘‘শুল্কের আঁচ ইউরোপের গায়ে লাগলে, হাত গুটিয়ে বসে থাকব না আমরাও।’’ তাঁর আশঙ্কা, এতে সারা বিশ্বেই ধাক্কা খাবে শিল্প। কাজ খোয়াবেন বহু লক্ষ মানুষ।

বদলার হিসেব

• ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামে যথাক্রমে ২৫% ও ১০% আমদানি শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তার জবরদস্ত পাল্টা চাপ তৈরিতে এ বার কোমর বাঁধছে ইউরোপ

• হার্লে ডেভিডসন মোটরবাইক, লেভি-র মতো মার্কিন ব্র্যান্ডের পণ্যে শুল্ক বসানোর তোড়জোর করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

• আঁচ গায়ে লাগলে, হাত গুটিয়ে বসে থাকব না, হুমকি ইউরোপীয় কমিশন চিফ জাঙ্কেরের

• আমেরিকা থেকে ইউরোপে আসা ৩৫০ কোটি ডলারের পণ্যে ২৫% আমদানি শুল্ক বসানোর কথাও ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

• চিনের পরামর্শ, আলোচনার টেবিলে বসুক ওয়াশিংটন। কমুক বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তাপ

 

অর্থনীতিবিদরাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০২ সালে এই একই ভাবে ইস্পাতে শুল্ক চাপিয়েছিলেন তদনীন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। তাতে কাজ গিয়েছিল বহু মানুষের।

মাথায় হাত। নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ব্রোকার। এএফপি

ক্ষুব্ধ আমেরিকার শিল্প মহলের যুক্তি, সে দেশে বহু সংস্থা কাঁচামাল হিসেবে বিপুল পরিমাণে ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম কেনে। এখন তার দর বাড়লে, বিশ্ব বাজারে দামের প্রতিযোগিতায় তারা এঁটে উঠবে কী ভাবে? আখেরে ক্ষতি তো তাদেরই?

অনড় আমেরিকা

• শুল্ক থেকে রেহাই পাবে না কোনও দেশের পণ্যই। কড়া অবস্থান বজায় রেখে বয়ান হোয়াইট হাউসের

• তাদের দাবি, এই শুল্কে জিনিসের দাম তেমন বাড়বে না। ৩৩ কোটি ডলারের বোয়িং বিমানের দাম বাড়বে মাত্র ২৫ হাজার ডলার!

আইএমএফ-ও মনে করে, ট্রাম্পের শুল্ক ব্যুমেরাং হতে পারে মার্কিন অর্থনীতির পক্ষে। বাণিজ্য যুদ্ধের আঁচে শুক্রবার পুড়েছে সারা বিশ্বের শেয়ার বাজারও।

আশঙ্কার প্রহর

• ট্রাম্প-শুল্ক ব্যুমেরাং হবে মার্কিন অর্থনীতির পক্ষেও, সাবধান করছে আইএমএফ। উদ্বিগ্ন ডব্লিউটিও

• বিশ্ব বাজারে ধাক্কা খাবে বিক্রিবাটা। আশঙ্কা মার্কিন শিল্পেরও

• ইউরোপের অভিযোগ, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে আঘাত আসবে। তার জেরে কাজ খোয়াবেন অনেকে

• ২০০২ সালে এ ভাবেই শুল্ক বসিয়ে কাজের বাজারের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। মনে করাচ্ছেন অর্থনীতিবিদরাও

নিরুত্তাপ ওয়াশিংটন অবশ্য জানিয়েছে, শুল্ক থেকে ছাড় নেই কোনও দেশের। অর্থাৎ, বিপুল বাণিজ্য করা কানাডা, মেক্সিকো বা অস্ট্রেলিয়ারও ছাড় নেই কর থেকে।