Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্লাস্টিক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতিগুলি কী?

বিজ্ঞাপন প্রতিবেদন
২৮ জানুয়ারি ২০২০ ১৭:৪২

ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যাবে, ভারতে প্লাস্টিকের ব্যবহার জোরালোভাবে শুরু হয়েছিল ১৯৫৭-এর কাছাকাছি সময়। তবে ভারতের জীবনযাত্রার সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জুড়ে যেতে সময় লেগেছিল আরও ৩০ বছর।

১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান পেট্রো-কেমিক্যালস-এর হাত ধরে 'প্লাস্টিকের বাজার' তৈরি হয়। আর ১৯৯৪ সালেই প্লাস্টিকের সফট্ ড্রিংকের বোতলগুলি পরিবেশে বিরক্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সময় বদলে গিয়েছে। বর্তমানে প্লাস্টিকের ব্যবহার আমাদের ঠিকমতো না করার কারণে, এটি একটি গুরুতর সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

বর্তমান অবস্থা:

অনুমান করা হয় যে, ব্যবহারের পরে অল্প সময়ের মধ্যেই প্লাস্টিক প্যাকেজিং প্রোডাক্টের ৭০ শতাংশই প্লাস্টিক বর্জ্যে পরিণত হয়। আমাদের দেশে প্রতি বছর ৯৪ লক্ষ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই পুনর্ব্যবহার করা যায়। যার বেশিরভাগটাই হয় অস‌ংগঠিত ক্ষেত্র দ্বারা। পাশাপাশি বিশ্বের গড় হারের তুলনায় ভারতের পুনর্ব্যবহার হার ২০% বেশি হলেও ৯৪০০ টন প্লাস্টিকের ঠাঁই হয় সেই জমিতে কিংবা ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্গে মিশে।

এই ৬০ শতাংশ প্লাস্টিকের মধ্যে —

৭০ শতাংশের পুনর্ব্যবহার করার জন্য নিবন্ধিত সুবিধা রয়েছে

২০ শতাংশের পুনর্ব্যবহার হয় অসংগঠিত ক্ষেত্র দ্বারা

১০ শতাংশ পুনরায় ব্যবহার করাহয় বাড়িতেই

২০১৭ সালে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্য়ান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FCCI) কর্তৃক প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার তুলনায় ভারতের মাথাপিছু ব্যবহার ১১ কিলোগ্রাম (২৪ পাউন্ড), যেখানে বিশ্বের এর সর্বোচ্চ পরিমাণ ১০৯ কিলোগ্রাম।

প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের পরিবেশের এমনভাবে ক্ষতি করছে যে তা একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে।

সহজাতভাবে প্লাস্টিক খারাপ নয়। অনেক মানুষ ভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য পদার্থ এবং শক্তির অপচয় করে — এমনটাও কিন্তু সত্যি নয়! প্লাস্টিকের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কম এবং এটি শক্তির খরচ বাঁচায়। আমাদের ভুল- ত্রুটির কারণেই প্লাস্টিক পরিবেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।



প্রসঙ্গত, সব ধরনের প্লাস্টিকই পুনর্ব্যবহারযোগ্য। তবে দেখা গিয়েছে, ভুলভাবে সংগ্রহ, যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া ইত্যাদি কারণেই ভারতে প্লাস্টিকের বর্জ্য উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এখন কী করণীয়?

প্লাস্টিকের বোতল এবং কন্টেইনারগুলি ভাল করে পরিষ্কার করে রাখুন। ফেলে দেওয়ার আগে বোতল এবং কন্টেইনারগুলিকে নষ্ট করে ফেলুন। নিষ্পত্তি করার আগে লক্ষ্য রাখুন তা যেন ভিজে যাওয়া বর্জ্যের সঙ্গে মিশে না যায়। প্লাস্টিক ফেলে দেওয়ার বদলে কাগজ কুড়োনি বা কাবাডিওয়ালার কাছে দিয়ে দিন। বাড়ি বা রেস্তরাঁতে প্লাস্টিক ফেলার জন্য আলাদা একটি জায়গা তৈরি করুন, লক্ষ্য রাখুন তা যেন অন্য বর্জ্যের সঙ্গে মিশে না যায়। সর্বোপরি পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন। প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করুন।

এগিয়ে আসুন এবং যুক্ত হন বিসলারি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড-এর উদ্যোগে তৈরি 'বোতল ফর এক্সচেঞ্জ'-এর সঙ্গে যারা প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার থেকে শুরু করে এক পরিষ্কার পরিবেশের লক্ষ্যে নাগরিকদের সচেতন করে চলেছে।

এই প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে বিসলারি স্কুল, কলেজ, কর্পোরেট, অফিস, মল, সামাজিক সমাবেশ, অনুষ্ঠান, ইত্যাদি স্থানে মানুষকে প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে এবং সেখানকার ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।

পরিসর ভাগিনী বিকাশ সংঘ, সম্পূর্ণা আর্থ এবং গারবেজ কনসার্ন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি — এই তিনটি এনজিও-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছে বিসলারি। যাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে প্লাস্টিক সংগ্রহ করা থেকে তা ভেঙ্গে ফেলা, পণ্যব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা, এবং সেখান থেকে তা ফ্লেক্সে রূপান্তরিত করার কাজটি করে। বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের ফেব্রিক, হ্যান্ড ব্যাগ, জানালার পর্দা এবং অন্যান্য নানা ধরনের পণ্য বানাতে এই ফ্লেক্স ব্যবহার করা হয়।



'বোতল ফর চেঞ্জ' কী করে?

বর্জ্য বাছাইকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা যাতে তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবহৃত কিন্তু পরিষ্কার প্লাস্টিক সংগ্রহ করতে পারে।

পরিষ্কার প্লাস্টিক সংগ্রহের পাশাপাশি বর্জ্য বাছাইকারীদের ভাল আয়ের সুযোগও করে দেয়।

এর পর সংগৃহীত সমস্ত প্লাস্টিকগুলি পৃথকীকরণ কেন্দ্রে বাছাই করা হয় এবং পুনর্ব্যবহারের জন্য ফের পাঠানো হয়।

এই এনজিও-এর মূল লক্ষ্যই হল বর্জ্য বাছাইকারীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ তৈরি করা। সেই সঙ্গে তাঁদের একটি সুস্থ জীবন এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য সমস্ত সহায়তা প্রদান তো রয়েছেই।

সঠিক পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের নিষ্পত্তি করুন এবং আমাদের চারপাশের পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে সাহায্য করুন।

এটি একটি বিজ্ঞাপন প্রতিবেদন। স্পনসরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

আরও পড়ুন

Advertisement