বাজেট প্রতিশ্রুতি রেখে ছোট চাষিদের থোক টাকা দেওয়ার প্রকল্প ২৪ ফেব্রুয়ারিই চালু করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে এক লপ্তে এক কোটি চাষির অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ২,০০০ টাকা পৌঁছে দিয়েই সম্ভবত তা করতে চলেছেন তিনি। ভোটের মুখে চাষিদের ক্ষোভের ক্ষতে প্রলেপ দিতে এ যে কার্যত ‘টাকা দিয়ে ভোট কেনা’র চেষ্টা, এই প্রকল্প সম্পর্কে সেই অভিযোগ গোড়া থেকেই তুলছেন বিরোধীরা। প্রকল্প চালুর দিন ও স্থান সামনে আসার পরে তা জোরালো হতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে।

কৃষি মন্ত্রকের এক সিনিয়র অফিসার বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘‘২৪ ফেব্রুয়ারি গোরক্ষপুরে কৃষক সমাবেশে সরকারি ভাবে ওই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই দিন বোতাম টিপে সম্ভবত এক সঙ্গে অন্তত এক কোটি চাষির অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছে দেবেন তিনি।’’

এ বার অন্তর্বর্তী বাজেটে বলা হয়েছিল, যে সমস্ত কৃষক পরিবারের হাতে ২ হেক্টর পর্যন্ত চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কিছু শর্ত পূরণ করলে তিন সমান কিস্তিতে (২,০০০ টাকা করে) বছরে মোট ৬,০০০ টাকা সরাসরি দেওয়া হবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে।

বিরোধীদের দাবি, রাজস্থান-মধ্যপ্রদেশ-ছত্তীসগঢ়ে বিধানসভা ভোটে কৃষকদের ক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে মরিয়া হয়েই এই প্রকল্প ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। তাঁদের অভিযোগ, এ আসলে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা। এখন সেই অভিযোগ আরও জোরালো হতে শুরু করেছে।

বিরোধারী বলছেন, চাষিরা এতটাই ক্ষুব্ধ যে, শুধু টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি তাঁরা কতটা বিশ্বাস করতেন, সে বিষয়ে সংশয় আছে। সেই কারণেই অন্তত এক-দু’কিস্তির টাকা ভোটের আগেই তাঁদের দিতে মরিয়া কেন্দ্র। তা ছাড়া, প্রকল্প চালুর জায়গাও বাছা হয়েছে রাজনীতির হিসেব কষে। এ বার উত্তরপ্রদেশে কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে চলেছে বিজেপি। তাই সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এক সময়ের গড় থেকেই ওই প্রকল্প শুরু করতে চাইছে তারা। মন্ত্রক কর্তার অবশ্য দাবি, টাকা দিতে উত্তর-পূর্ব সমেত দেশের সর্বত্র যোগ্য চাষিদের চিহ্নিত করার কাজ করছেন তাঁরা।