ফোর্ড চিনে তৈরি ফোকাস অ্যাক্টিভ গাড়িটি আমেরিকায় এনে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করেছে জেনে বেজায় খুশি হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষত চিনা পণ্যে মার্কিন শুল্কের জেরে দাম বাড়তে পারে আশঙ্কা করেই যেখানে এই সিদ্ধান্ত মার্কিন গাড়ি বহুজাতিকটির। ট্রাম্প ধরে নিয়েছিলেন, ঘরের সংস্থা এ বার ঘরে ফিরবে। তাই তড়িঘড়ি ফোর্ডের সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়ে টুইট করেন। আমেরিকার কারখানায় গাড়িটি তৈরির ডাক দেন। জানান, সে ক্ষেত্রে তাদের শুল্ক দিতে হবে না। কিন্তু লাভ হল না তাতে। ফোর্ড জানাল, এমন পরিকল্পনা নেই তাদের। কারণ, মার্কিন মুলুকে এই গাড়ি তৈরি লাভজনক হবে না। উল্টে সে দেশের বাজারে গাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্তই আপাতত স্থগিত রাখছে তারা।

এ দিকে, চিন-মার্কিন হুমকি-পাল্টা হুমকির জেরে শুল্ক যুদ্ধের উত্তাপ আরও চড়েছে সোমবার। ট্রাম্প বলেছিলেন আরও ২৬,৭০০ কোটি ডলারের চিনা পণ্যকে চিহ্নিত করা হতে পারে শুল্ক বসাতে। যার মানে, চিনের প্রায় সব পণ্যেই কর বসাতে চান তিনি। এ দিন বেজিংয়ের হুমকি, আমেরিকা এই পথে হাঁটলে পাল্টা জবাব দেবে তারাও।

চিনে তৈরি যে সব গাড়ি আমেরিকায় ঢোকে, সেগুলিতেও শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে ফোকাস অ্যাক্টিভ চিন থেকে আনতে গেলে খরচ যে বাড়বে, তা বুঝেছে ফোর্ড। যা ধাক্কা দিতে  পারে মুনাফায়। তাই তা আমদানির পরিকল্পনা খারিজ করেছে তারা। সম্প্রতি যে কারণে চিনা পণ্যে এত বেশি শুল্ক চাপানোর বিরোধিতা করেছে অ্যাপল। তাদেরও অভিযোগ, এতে সংস্থার পণ্যের খরচ বাড়বে। প্রভাব পড়বে দামে। যা শুনে ট্রাম্প অ্যাপলকেও চিন থেকে উৎপাদন সরিয়ে আমেরিকায় আনতে বলেন। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুল্ক ছাড়েরও।

ফোর্ড অবশ্য ট্রাম্পকে জানিয়েছে, আমেরিকায় ট্রাক, এসইউভি, হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ি আনতে চায়। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এতে চিঁড়ে ভিজবে কি না, সন্দেহ আছে।