ভোট বছরে লগ্নির ঝুলি উপুড় করার বদলে বরাবরই জল মাপে শিল্প। হয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কথা শিল্পপতিদের মুখে শোনা যায় না, নইলে পরেও তা থেকে যায় খাতায় কলমে। হয়তো সেই কারণেই পঞ্চম বিশ্ব বঙ্গ শিল্প সম্মেলনের মঞ্চেও বৃহস্পতিবার চমকে দেওয়ার মতো বড় মাপের লগ্নির প্রতিশ্রুতি সে ভাবে শোনা গেল না। তেমনই এ রাজ্যে নিজেদের বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা বললেন প্রায় সব শিল্পপতি। সরকারি সূত্রের অবশ্য দাবি, লগ্নি আসছে চোখে পড়ার মতো। আজ, শুক্রবার হিসেব-নিকেশ শেষ হলে সেই ছবি স্পষ্ট হবে। 

রাজ্যকে লগ্নির গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে শিল্পের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিতে ধারাবাহিক থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দাবি করেছেন, রাজ্যের ভাবমূর্তি বদলে গিয়েছে। বন্‌ধ, শ্রমদিবস নষ্ট এখন অতীত। তীক্ষ্ণ মেধা অথচ মিষ্টি ব্যবহারের কর্মী পাওয়ার সুবিধা যে এ রাজ্যেই সবথেকে বেশি। তাঁর কথায়,  ‘‘পশ্চিমবঙ্গ এখন অন্য রকম জায়গা।’’ 

অনেকের মতে, এই ধারাবাহিকতায় আস্থা রেখেই এ রাজ্যে ধারাবাহিক ভাবে লগ্নি  করার কথা বলেছেন শিল্পপতিরা। রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ অম্বানী যেমন জিয়োর পরিষেবা সম্প্রসারণে আরও ১০ হাজার কোটি টাকার কাজ চলার কথা জানিয়েছেন, তেমনই আদানি গোষ্ঠীর করণ আদানি বন্দর ও লজিস্টিকস পার্ক প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। হলদিয়া পেট্রোকেমের পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় ‘কথা রেখে’ তাঁর অনুসারী শিল্পের কারখানা মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে চালু করেছেন মঞ্চ থেকেই। ইস্পাত কারখানা গড়ার ভাবনা ফলপ্রসূ না হলেও সিমেন্ট কারখানা-সহ নানা প্রকল্পের কথা জানিয়েছেন জিন্দল গোষ্ঠীর কর্ণধার সজ্জন জিন্দল। বলেছেন, ১০০ কোটি ডলারে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার কথাও। রাজ্যের প্রতি আস্থা অটুট থাকার কথা বলেছেন শিল্পকর্তা সঞ্জীব গোয়েন্‌কা। জার্মানি, ইতালি ও কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তিনটি মউ হস্তান্তরও হয়েছে। 

জার্মানির কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি গাড়ি শিল্পে লগ্নির। কলকাতা-ফ্রাঙ্কফুর্ট সরাসরি উড়ান ফেরানোর। ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি উড়ান যোগ না থাকলে সেখান থেকে ভাল মতো লগ্নি আসা শক্ত বলে মত শিল্পেরও।