বাজেট প্রস্তুতির জন্য মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগে আয়কর, কর্পোরেট কর কমানোর দাবি তুলেছে শিল্প। বলেছে, তোলা হোক ন্যূনতম বিকল্প কর (ম্যাট)। আর এ বার অর্থ মন্ত্রকের অধীনে থাকা রাজস্ব দফতরের আর্জি, গত অর্থবর্ষে প্রত্যক্ষ কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাই ছোঁয়া যায়নি। ফলে এ বার তা কম করে ধরা হোক।

দফতর সূত্রের খবর, গত অর্থবর্ষ শেষে দেখা গিয়েছে যে, প্রত্যক্ষ কর আদায়ের প্রাথমিক লক্ষ্যেই (১১.৫ লক্ষ কোটি টাকা) পৌঁছনো যায়নি। অথচ অন্তর্বর্তী বাজেটে চলতি অর্থবর্ষে তা ১৩.৮ লক্ষ কোটি ধরা হয়েছে। কর্তারা নির্মলাকে জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য ছোঁয়া মুশকিল।

অনেকের প্রশ্ন, নির্মলার পক্ষে আদৌ এই দাবি মানা সম্ভব হবে তো? তাঁদের যুক্তি, বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় ফেরা মোদী সরকারের কাছে কর কমিয়ে মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি উঠছে। অথচ তা হলে, প্রত্যক্ষ কর আদায় কমবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে শিল্প চাহিদা বাড়াতে কর ছাঁটাই করতে বলছে ঠিকই। কিন্তু তেমনই ওই একই লক্ষ্যে পরিকাঠামোর মতো ক্ষেত্রে যে বিপুল সরকারি ব্যয়ের প্রয়োজন, তার টাকা জোগাড় করা কেন্দ্রের পক্ষে কঠিন হবে। একই ভাবে চিন্তা করতে হবে চাষি, অসংগঠিত ক্ষেত্রের জন্য যে প্রকল্পগুলি ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে, তার টাকা আসবে কোথা থেকে।

কর-ছবি

• গত অর্থবর্ষে প্রথমে প্রত্যক্ষ করের লক্ষ্য ছিল ১১.৫ লক্ষ কোটি টাকা।
• সংশোধিত লক্ষমাত্রা ১২ লক্ষ কোটি।
• শেষে আদায় হয় ১১.৪ লক্ষ কোটি।
• অন্তর্বর্তী বাজেটে ২০১৯-২০ সালের লক্ষ্যমাত্রা ১৩.৮ লক্ষ কোটি।

শিল্পের দাবি

• বাজেটে কর্পোরেট কর, আয়কর কমানো হোক।
• তোলা হোক ম্যাট।

রাজস্ব দফতর বলছে

• আগের লক্ষ্যমাত্রাই ছোঁয়া যায়নি। 
• বাজেটে তা ৬০-৭০ হাজার কোটি কম রাখা হোক।

চিন্তা

• এতে প্রত্যক্ষ কর আদায় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
• আশঙ্কা রয়েছে রাজকোষ ঘাটতি বাড়ারও।

সূত্রের খবর, এই অবস্থায় বাজেটে সম্ভবত করের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হবে না। বরং নভেম্বরে পর্যালোচনা হবে। রাজস্ব বাড়াতে নতুন কিছু ক্ষেত্রে কর বসানোর রাস্তাও খোঁজা হচ্ছে।