পঞ্চম বিশ্ব বঙ্গ শিল্প সম্মেলনে ২.৮৪ লক্ষ কোটি টাকা লগ্নির প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু এমন এক সময়, যখন লগ্নি টানতে রাজ্যের হাতে কোনও আর্থিক উৎসাহ প্রকল্প (ইনসেন্টিভ স্কিম) নেই। ২০১৩ সালে শেষ বার যেটি চালু হয়েছিল, শেষ হয়েছে ২০১৮-র অগস্টে। শিল্প মহলের প্রশ্ন, নতুন করে উৎসাহ প্রকল্প আনবে রাজ্য?

শিল্প দফতর ইতিমধ্যেই এ রকম প্রকল্প চেয়ে নবান্নে দরবার করেছে। তবে অর্থ দফতর এখনই তা চালুর পক্ষপাতী নয়। ফলে বিষয়টি ঘিরে জমাট বেঁধেছে ধোঁয়াশা। সরকারি সূত্রের অবশ্য দাবি, এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে এগোবে অর্থ দফতর। তাই সে দিকেই তাকিয়ে শিল্প।

শিল্প কর্তাদের দাবি, বার্ষিক শিল্প সম্মেলন আর আর্থিক উৎসাহ প্রকল্প দেখিয়েই রাজ্যগুলি লগ্নি টানার প্রতিযোগিতায় শামিল হয়। যে প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার পর থেকে। শেষ ইনসেন্টিভ স্কিম তৈরি হয় ২০১৩ সালে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে তাতে ভ্যাট ফেরত, বিদ্যুৎ মাশুলে ছাড়, সহজে জমি জোগাড় করে দেওয়ার মতো সুবিধার কথা বলে। যদিও শিল্প দফতর সূত্রে খবর, গত পাঁচ বছরে একজন লগ্নিকারীকেও উৎসাহ প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়নি। জানা গিয়েছে, একটি সিমেন্ট কারখানা-সহ দু’তিনটি ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা করায় বাকি লগ্নিকারীরা না কি প্রকল্পের সুবিধা পায়নি। দফতরের হিসেব, গত পাঁচ বছরে লগ্নি করেছে, এমন ৮৪টি সংস্থা উৎসাহ প্রকল্পের সুবিধা পেতে নথিভুক্ত হয়েছিল। আর আবেদন জানিয়েও নথিভুক্ত হতে পারেনি অন্তত ৩০টি। তারা বলছে, এই সংস্থাগুলিকে উৎসাহ প্রকল্পের সুবিধা দিতে ৪৪০ কোটি টাকা লাগবে। যা অর্থ দফতর থেকে মেলেনি। ফলে কোনও সংস্থাই সেই সুবিধা পায়নি। 

দফতর কর্তাদের একাংশ বলছেন, ২০১৮ সালে নতুন প্রকল্পের খসড়া তৈরির জন্য শিল্প সচিবের নেতৃত্বে কমিটি তৈরি হয়। তারা জানায়, রাজ্যে যে হারে লগ্নি আসছে, তাতে বছরে ১২৫ কোটির ব্যবস্থা করলেই নতুন আর্থিক উৎসাহ প্রকল্প চালানো যাবে। কিন্তু শিল্প সচিবের প্রস্তাবে সম্মত হয়নি অর্থ দফতর। তাদের মতে, পুরনোটির বকেয়া ও নতুন প্রকল্প ধরলে বছরে শিল্পে উৎসাহ দিতেই ৬,০০০ কোটি বেরিয়ে যেতে পারে। এই বোঝা বইবার ক্ষমতা নেই রাজ্যের।

এক শিল্প কর্তার কথায়, ‘‘বাম জমানায় মাসে ২০ কোটি টাকা উৎসাহ হিসেবে দেওয়া হত। ফলে নথিভুক্ত সংস্থা প্রতি মাসেই সরকারের থেকে কিছুটা ভর্তুকি পেত। এখন সেটাও তুলে দেওয়া হয়েছে।’’ কারণ হিসেবে অর্থ দফতরের শীর্ষ কর্তার দাবি, ২০০১-০২ সালে লগ্নি উৎসাহ প্রকল্পে বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, নরম পানীয়ের মতো পাঁচ-ছ’টি সংস্থাকে সরকার ভ্যাট ফেরত দেওয়ার সুবিধা দিয়েছিল। কিন্তু কত দিন তা দেওয়া হবে তার নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা ছিল না। ফলে কয়েকটি সংস্থা মিলেই রাজ্যের কোষাগারের কয়েকশো কোটি টাকা নিয়ে গিয়েছে। অথচ নতুন সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে সরকার সময়সীমা বেঁধেছে। এখন অবশ্য কোনও প্রকল্প চালু নেই।

তবে নবান্নের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য, ‘‘পরিকাঠামো, জল, সস্তার বিদ্যুৎ এবং পূর্বাঞ্চলের বাজার ধরতে হলে সংস্থাগুলির প্রথম পছন্দই হবে পশ্চিমবঙ্গ। যে কারণে এ বারের শিল্প সম্মেলনে ২.৮৪ লক্ষ কোটির প্রস্তাব এসে গিয়েছে।’’