আগের রাত থেকে লম্বা লাইন। কেউ হাজির তাঁবু-চেয়ার-বিছানা নিয়ে। কেউ ঠায় দাঁড়িয়ে। মাঝের কয়েক বছর হারিয়ে যাওয়া সেই চেনা ছবিই ফের দেখা গেল অ্যাপলের নতুন আই ফোন-১০ বাজারে আসা ঘিরে।

ওয়াশিংটনে যেমন দেখা মিলল ২১ বছরের শ্যারন মায়ারের। কলেজ কামাই করে আগের দিন রাত থেকে হাজির দ্যু পঁ সার্কেলের অ্যাপল বিপণির সামনে। ইচ্ছে, আই ফোন-১০ প্রথম হাতে পাওয়ার।

আরও পড়ুন: নোটবন্দির পরে জোয়ার ভুয়ো সংস্থার লেনদেনে

সান ফ্রান্সিসকোতে আবার দু’দিন আগে থেকে অ্যাপলের বিপণির সামনে চেয়ার পেতে বসে কলকাতার ছেলে সুগত রায়। অপেক্ষা নতুন ফোনের। আর পড়াশোনা? সুগতর দাবি, অসুবিধা হয়নি। অ্যাপলের দোকান থেকেই ব্যবস্থা করা হয়েছে ওয়াই-ফাইয়ের। তাই রাস্তায় বসেই ল্যাপটপে কাজ করেছে এই দু’দিন! একই ছবি অন্য দেশেও।

অথচ গত কয়েক বছর ধরে আই ফোন ঘিরে দেখা মেলেনি এই উন্মাদনারই। আসলে অ্যাপলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিভিন্ন চিনা ও দক্ষিণ কোরীয় মোবাইল সংস্থা। যার জেরে প্রশ্ন উঠছে, অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবসের মৃত্যুর পরে অ্যাপলের সেই ‘জাদু’ কি হারিয়ে যাচ্ছে? সব মিলিয়ে চিন্তা বেড়েছে লগ্নিকারীদের। মার্কিন মুলুকের বাইরে বড় বাজার খুঁজতে অ্যাপলকে পাখির চোখ করতে হয়েছে চিন, ভারতের মতো দেশকে।

এই অবস্থায় আই ফোনের দশ বছর পূর্তিতে আনা এই ফোন কিনতে ক্রেতাদের উৎসাহ কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে সংস্থাকে। আই ফোন ৮ এবং ৮ প্লাসের হাত ধরে গত ত্রৈমাসিকে ৫,২০০ কোটি ডলারের ব্যবসা হবে বলে পূর্বাভাস দেয় তারা। তা ছাপিয়ে ব্যবসার অঙ্ক ছুঁয়েছে ৫,২৬০ কোটি। আর এ বার উৎসবের মরসুমে রেকর্ড আই ফোন ১০ বিক্রির আশায়, পরের ত্রৈমাসিকে ৮,০০০ কোটির ব্যবসা হবে বলে মনে করছে অ্যাপল নিজেই।

তবে বিশেষজ্ঞদের কিছুটা চিন্তায় রেখেছে নতুন ফোনের দাম। ৯৯৯ ডলার (ভারতে ৮৯,০০০ ও ১.০২ লক্ষ টাকা) দিয়ে কেন কেউ এটি কিনবেন, তা নিয়ে সংশয়ে তাঁরা।

তবে সংস্থার দাবি, স্মার্ট ফোনের দুনিয়া বদলে দিতে পারে এটি। যেমন: পুরোটা জুড়ে থাকা স্ক্রিন। মাথার কাছে নামমাত্র জায়গায় ক্যামেরা, যার দিকে তাকালে খুলবে ফোন। রয়েছে কৃত্রিম মেধা। উন্নত সফটওয়্যার ও দু’টি ব্যাটারি থাকায় এক বার চার্জে চলবে বেশিক্ষণ।