সরকার বলেছে ক্রেতা সুরক্ষার স্বার্থে সব গয়নাতেই থাকতে হবে হলমার্ক। তাতে রাজি বিক্রেতারাও। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন, ছোট শহর বা গ্রামাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এই নির্দেশ মানবেন কী করে? ওই স্বীকৃতি পেতে প্রয়োজনীয় গয়না যাচাই কেন্দ্রের প্রায় সবই তো বড় বা মেট্রো শহরগুলিতে। এই কারণে উঠে এসেছে হলমার্ক সংক্রান্ত নিয়ম সহজ করার দাবিও। গয়না ব্যবসায়ীদের যুক্তি, পরীক্ষার বিধি সরল হলে ‌খরচ কমবে। তবেই বাদ পড়া জায়গাগুলিতে গয়না যাচাই কেন্দ্র খোলার উৎসাহ বাড়বে।

শনিবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বারের জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি সম্মেলনে এই সমস্যার কথা তুলে ধরেন অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের আঞ্চলিক চেয়ারম্যান শঙ্কর সেন। এ বছর থেকে সব সোনার গয়না হলমার্ক হতে হবে বলে জানিয়েছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান। যদিও প্রস্তাবটির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। তবে শঙ্করবাবুর দাবি, হলমার্ক দিতে প্রায় ৫০০টি গয়না যাচাই কেন্দ্রের ৭০ শতাংশই ৫-৬টি বড় ও মেট্রো শহরে। রাজ্যেও ১০০টির প্রায় সবই কলকাতা কেন্দ্রিক। শিলিগুড়িতে হাতে গোনা কয়েকটি রয়েছে।

শঙ্করবাবুর কথায়, ‘‘তা হলে ছোট শহর বা গাঁ-গঞ্জের ব্যবসায়ীরা কোথায় গয়না পরীক্ষা করাবেন? সেগুলি নিয়ে শহরে আসাও ঝুঁকির। আমরা তাই ওই সব জায়গায় সোনার ব্যবসার ক্লাস্টার ধরে বা সংগঠনের অধীনে এই কেন্দ্র খুলতে আর্জি জানিয়েছি ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডকে (বিআইএস)।’’ দেশে গয়নার মান হিসেবে হলমার্কের মাপকাঠি ঠিক করে বিআইএস। তার ভিত্তিতে শুদ্ধতা যাচাই কেন্দ্র খুলতে ছাড়পত্র দেয় বেসরকারি সংস্থাকে।

সমস্যা মেটাতে এই সংক্রান্ত নিয়ম কিছুটা সরল করার আর্জিও জানিয়েছে শিল্প। শঙ্করবাবু যুক্তি, বিআইএসের বিধি আন্তর্জাতিক মাপকাঠির ভিত্তিতে হওয়ায় গয়না যাচাই কেন্দ্রে যন্ত্রপাতির খরচ বেশি পড়ে। ফলে এই কেন্দ্র গড়তে গড়ে প্রায় এক কোটি লাগে। নিয়ম সরল হলে খরচ কমবে।

এ দিকে, নীরব মোদী বা মেহুল চোক্সীর নাম না করেও কাউন্সিলের জাতীয় চেয়ারম্যান নিতিন খাণ্ডেলওয়ালের দাবি, হাতে গোনা কয়েক জনের আচরণ দেখে গয়না শিল্পকে সার্বিক ভাবে এক মাপকাঠিতে বিচার করলে হবে না। তাঁদের মতে, ঠিক মতো ব্যবসা করলে ব্যাঙ্কঋণ পেতে সমস্যা হয় না।