পেট্রল ও ডিজেলকে জিএসটির আওতায় আনা হলে দাম কমবে বলে জানিয়েছিলেন তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু সেই আশায় আজ জল ঢেলে দিলেন তাঁর দলেরই নেতা তথা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী। তিনি জানালেন, পেট্রোপণ্য দু’টিতে জিএসটি চালু হলেও দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া, পেট্রল-ডিজেলকে জিএসটির আওতায় আনা সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত জিএসটি পরিষদের অগ্রাধিকারের তালিকাতেও নেই।

সরকারের একটি সূত্র আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, পেট্রল ও ডিজেলকে জিএসটির আওতায় আনা হলেও দামে তেমন সুরাহা মিলবে না। কারণ, সে ক্ষেত্রে ওই দুই পেট্রোপণ্যের উপর সর্বোচ্চ হারে (২৮%) জিএসটি বসানোর পরও ভ্যাট বসাতে পারবে রাজ্যগুলি। সব মিলিয়ে সেগুলির দাম দাঁড়াবে বর্তমান দামের কাছাকাছিই। এ বার সেই খবরেই সিলমোহর দিলেন সুশীল। আজ দিল্লিতে তিনি বলেন, ‘‘যদি পেট্রল ও ডিজেলকে জিএসটির আওতায় আনা হয়, তা হলেও ২৮% করের উপর রাজ্যগুলিকে কর সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে পেট্রোপণ্যে জিএসটি বসানোর ব্যাপারে রাজ্যগুলির একাধিক মত রয়েছে। ফলে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।’’

সম্প্রতি পেট্রল ও ডিজেলের দর তুঙ্গে পৌঁছেছিল। সম্প্রতি কিছুটা কমলেও এখনও তা অস্বস্তি সূচকের মধ্যেই রয়েছে। এ নিয়ে কেন্দ্রর উপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে বিরোধীরাও। এই অবস্থায় পেট্রোপণ্যে জিএসটির কথা বলেছিলেন তেলমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তব হল, রাজ্যগুলির রাজস্বের বড় অংশই আসে তেলের ভ্যাট থেকে। এই পণ্যগুলির কর এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গেলে রাজ্যগুলির মাথায় হাত পড়বে। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যা-ই বলুন না কেন, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য শাসনের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতাদেরও যে আপত্তি রয়েছে, তা-ই পরিষ্কার হয়েছে সুশীলের কথায়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পেট্রল-ডিজেলকে জিএসটির আওতায় আনা হলেও করে তেমন কোনও হেরফের হবে না।’’