আর পাঁচ বছর পেলে সব প্রকল্প শেষ করতে পারবেন। মাস তিনেক আগে পুণেতে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনেকের মতে, এ কথা আগে থেকে বলে রাখা দরকার ছিল। কারণ, গত লোকসভা ভোটের আগে দেশে পরিকাঠামো প্রকল্প থমকে যাওয়ার জন্য ইউপিএ সরকারের নীতিপঙ্গুত্ব, সিদ্ধান্তহীনতা, লালফিতের ফাঁস, দুর্নীতিকে দায়ী করেছিলেন মোদী। তাই নিজে কাজ কতটা শেষ করেছেন, এ বারের ভোটের আগে সেই খতিয়ান দেওয়া দরকার ছিল তাঁর।

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, প্রকল্পের কাজ শেষ করায় ইউপিএ-র তুলনায় মোদী সরকারের রেকর্ড ভাল। কিন্তু তা সময়ে শেষ না হওয়া ও এর জেরে খরচ বাড়ার ধারা অব্যাহত। প্রকল্পে গতি আনতে বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিব ও রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করতেন মোদী। এতে শতাংশের বিচারে ঘোষিত প্রকল্পের চেয়ে আটকে থাকা প্রকল্প কমেছে। সংখ্যার বিচারে নয়। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম তা নিয়ে তোপ দেগেছেন।

সূত্রের বক্তব্য, ইউপিএ আমলে প্রকল্পে বড় বাধা ছিল জমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশ ছাড়পত্র। মোদীর আমলেও তা পুরো কাটেনি। তবে জাতীয় সড়ক তৈরিতে সাফল্য দেখেছে কেন্দ্র। যার প্রশংসা করেছেন চিদম্বরম-সহ অনেক কংগ্রেস নেতাই। এর কৃতিত্ব সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীকে দিচ্ছে কেন্দ্রের অনেকেই। বেড়েছে বন্দরের ক্ষমতা, বিদ্যুৎ পরিবহণ লাইন ও সংযোগ, বিমানবন্দরের সংখ্যাও।

সরকার বলছে

• ইউপিএ জমানায় আটকে থাকা প্রকল্প ঘোষণার তিন ভাগের এক ভাগ।
• মোদী জমানায় তা নেমে চার ভাগের এক ভাগ।
• ইউপিএ-র আমলের শেষ দিকে ১১.৭ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হত।
• মোদীর চার বছরের মাথায় তা ২৭ কিলোমিটার।
• প্রথম সাড়ে চার বছরে সড়ক তৈরি হয়েছে ৩৩,৩৬১ কিলোমিটার।
• বড় বন্দরগুলির ক্ষমতা পাঁচ বছরে ৮,০০৫ লক্ষ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪,৭৭২ লক্ষ।
• বিমানবন্দরের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০টি।
• বিদ্যুৎ পরিবহণ লাইন টানা হয়েছে ১.১৬ লক্ষ কিমি।
• ২.৫৩ কোটি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবুও খটকা

• কেন্দ্রের তথ্যই বলছে, ৩৬০টি পরিকাঠামো প্রকল্প দেরিতে চলছে।
• এর জেরে কেন্দ্রের বাড়তি খরচ ৩.২ লক্ষ কোটি টাকা।
• শতাংশের হিসেবে কমলেও, দেশে সংখ্যায় বেড়েছে আটকে থাকা প্রকল্প।
• ২০১৪ সালের মার্চে তা ছিল ৭৪৯টি। আর ২০১৮ সালের নভেম্বরে ১,৪৪৩টি।
• ১০০টি স্মার্ট সিটি ঘোষণা হলেও, পাঁচ বছরে শেষ হয়নি একটিও।
• জমি অধিগ্রহণ সমস্যা নিয়ে জট পুরোপুরি কাটেনি।

কিন্তু অনেকের মতে, এখনও স্মার্ট সিটি ও ১,৪৩৩টি আটকে থাকা প্রকল্প কাঁটা কেন্দ্রের। তাই আরও পাঁচ বছরের কথা বলতে হচ্ছে মোদীকে।

সাফল্যে ভর করে সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী এ বছরে দিনে ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির লক্ষ্য রেখেছেন। 

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘‘মোদী জমানায় পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজের পুরো সাফল্যই গডকড়ীর।’’