এক দিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে, তেমনই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এমন বাড়ির তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে বৌবাজারে। তবে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ভেঙে ফেলতে চাইছে না কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)। আপত্তি রয়েছে কলকাতা পুরসভারও।

পুজোর আগে বৌবাজার এলাকায় দুর্গা পিতুরি লেন, সেকরাপাড়া লেন, গৌর দে লেনের প্রায় সাড়ে সাতশো বাসিন্দাকে কলকাতার বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকায় ঢোকার অনুমতি দিতে চাইছেন না মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বৌবাজার এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি বাড়ি ভাঙতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেএমআরসিএল, পুরকর্মী, পুলিশ— যৌথ ভাবে এই তালিকা তৈরি করছে। এই সংখ্যাটা বাড়তেও পারে। যে বাড়িগুলি কম ক্ষতিগ্রস্ত, শুধু মাত্র ফাটল রয়েছে সেগুলি দ্রুত সারিয়ে দিতে চায় মেট্রো। শুক্রবার নবান্নে বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। ওই কমিটির অনুমতি মিললে তবেই ৩০টি বাড়ি ভাঙার চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে। বৌবাজারে মেট্রোর সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্য সচিব মলয় দে-র নেতৃত্বে ওই কমিটি গঠন করে দেন।

আরও পড়ুন: বুজে যাওয়া বৌরানি খালই কি বিপর্যয় ডেকে আনল বৌবাজারে?

ক্ষতিপূরণের দাবিদার নিয়ে বিপাকে মেট্রো

স্থানীয় ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর সত্যব্রত দে বলেন, “বৈঠকে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুজোর মুখে তাড়াহুড়ো করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রায় একশোর কাছাকাছি পরিবার ইতিমধ্যেই টাকা পেয়েছে। এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।”

পুরসভা সূত্রে খবর, শনিবার বিকেলে গোয়েন্কা কলেজে বৌবাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতেই বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আপতত দুর্গা পিতুরি লেন এবং সেকরাপাড়া লেনের দু’টি বাড়ি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরে ধাপে ধাপে অন্য বাড়িগুলি ভাঙা হবে।