সপ্তাহভর সাংবাদিক বৈঠক, সেমিনার, আলোচনাসভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা-সহ তামাক-বিরোধী দিবস পালনের নানা আয়োজন। সচেতনতামূলক প্রচারে আজ, শুক্রবার বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে স্বাস্থ্যভবনও। মৌলালি যুবকেন্দ্রে আলোচনাসভার আয়োজন করেছে ইন্ডিয়ান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য শাখা। তবে তামাক বর্জনে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে সতর্কতার পাঠ বাড়ি থেকেই শুরু হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

ফুসফুসে ক্যানসার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), মুখগহ্বরে ক্যানসার, হৃৎপিণ্ডের নানা অসুখের কারণ ধূমপান ও গুটখা-সহ বিভিন্ন তামাকজাত দ্রব্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য বলছে, প্রতি বছর সারা বিশ্বে তামাকজাত দ্রব্য সেবনে ৮০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যুর সংখ্যাটা ১০ লক্ষ। ফলে ঘর থেকেই সতর্কতার ‘সহজ পাঠ’ শুরুর কথা বলছেন, এসএসকেএমের অঙ্কোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘ধূমপান করা যে অন্যায় সেই বোধই আমাদের মধ্যে কাজ করে না। বাড়ির ছেলে বা মেয়ে সিগারেট খাচ্ছে এটা বোঝার পরেই অভিভাবকদের শাসন করা খুব জরুরি।’’ তিনি জানান, ফুসফুসে ক্যানসার প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়াটা জরুরি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের রোগের তেমন কোনও লক্ষণ থাকে না। রোগী যখন বোঝেন তাঁর শরীরে কী রোগ বাসা বেঁধেছে, তত ক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

চিকিৎসক কৌশিকের কথায়, ‘‘টানা প্রচারে ধূমপানের মাত্রা অনেকাংশে কমেছে। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে আবার ধূমপানের প্রবণতা বেড়েছে।’’ ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল, চিকিৎসক সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ বলেন, ‘‘গর্ভবতী মহিলারা ধূমপায়ী হলে কম ওজনের শিশু প্রসব করার আশঙ্কা থাকে।’’ চক্ষু চিকিৎসক সোহম বসাক বলেন, ‘‘ধূমপান শুধু ক্যানসারের কারণ নয়। এর জন্য গ্লকোমা, অপটিক নার্ভের সমস্যার মতো চোখের রোগও হতে পারে। কম বয়সে ছানির কারণ হতে পারে ধূমপান।’’