ধর্ম-বর্ণ ভুলে এক হয়ে গাছ পুঁতুন। পৃথিবীকে সবুজ বানান। এমনই উদ্যোগ নিয়েছেন এক ঝাঁক কলেজপড়ুয়া।

‘ইন্টারফেথ ট্রি প্লান্টেশন’ শীর্ষক ওই বৃক্ষরোপণ উৎসবের উদ্যোক্তা কলেজপড়ুয়াদেরই একটি সংগঠন। আজ, রবিবার লিলুয়া রেল কলোনিতে ওই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বসানো হবে প্রায় ৩০০টি গাছ। সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কণিষ্ক সারাওগি কিছু দিন আগেই সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়েছেন। তিনি জানান, ওই সংগঠন তাঁরা এক বছর আগে গড়ে তুলেছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সেন্ট জেভিয়ার্সের আরও কিছু পড়ুয়া। বছর দু’য়েক আগে একটি আন্তর্জাতিক যুব সংগঠনের মাধ্যমে কণিষ্ক গিয়েছিলেন তুরস্কে। সেখানে আসা আরও বহু দেশের তরুণ-তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। কণিষ্ক জানালেন, সকলে এক হয়ে কিছু করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সেই কারণেই গড়ে তোলা হয়েছে এই সংগঠন। সংগঠনের অপর প্রতিষ্ঠাতা পাকিস্তানের পেশোয়ারের কলেজপড়ুয়া রিদা খালেদ।

আজকের গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে প্রতিটি গাছের সঙ্গেই যোগ থাকবে দুই সম্প্রদায়ের নাম। সংগঠনের ওয়েবসাইটে আগ্রহীরা এর জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। কণিষ্ক জানালেন, যাঁরা নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের কী কী বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে, তা-ও জানাতে বলা হয়েছে। কারও আগ্রহের সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীর আগ্রহ মিলে গেলে তাঁরা দু’জনে একসঙ্গে দু’টি গাছ পুঁতবেন। সেই দুই গাছের একটি এক ধর্মাবলম্বীর প্রিয় কারও নামে হবে। অপরটি হবে দ্বিতীয় ব্যক্তির প্রিয়জনের নামে। কণিষ্ক বলছেন, ‘‘আসলে আমরা এক। আমাদের আগ্রহও একই রকম। কেউ তা গুলিয়ে দিতে চাইলে তা ঠিক নয়।’’ সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের কর্তৃপক্ষও এই কর্মসূচিতে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে জানালেন কণিষ্ক। কলেজের উপাধ্যক্ষ ফাদার জেভিয়ার সাভারিমুথু অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন।