বৌবাজারে পশ্চিমমুখী সুড়ঙ্গের বাঁকে আটকে থাকা টানেল বোরিং যন্ত্র পাঁচ মিটার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি চাইলেন ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বৌবাজারে নির্মীয়মাণ পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর সুড়ঙ্গে ধস নামার জেরে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে শুক্রবার এই আবেদন জানানো হয়। 

কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে হাইকোর্টের নির্দেশ, ধস নামায় যে-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সুড়ঙ্গের ওই যন্ত্র এগিয়ে দেওয়া যায় কি না, বিশেষজ্ঞ কমিটিকে রিপোর্ট দিয়ে তা জানাতে হবে।

একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলছে প্রধান বিচারপতি থোট্টাথিল ভাস্করন নায়ার রাধাকৃষ্ণন ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। মেট্রো রেলের কৌঁসুলি জিষ্ণু সাহা আদালতে একটি নকশা পেশ করে জানান, সমান্তরাল দু’টি সুড়ঙ্গ তৈরির জন্য দু’টি টানেল বোরিং যন্ত্র (টিএমবি) ব্যবহার করা হচ্ছিল। ধস ঠেকাতে যে-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে সুড়ঙ্গের যন্ত্রটি উদ্ধার করে ফের ব্যবহার করার সম্ভাবনা কার্যত নেই।

পূর্বমুখী সুড়ঙ্গে অন্য টানেল বোরিং যন্ত্রটি প্রথমটির চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে, নির্মল চন্দ্র স্ট্রিটের কাছাকাছি রয়েছে। তাকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া জরুরি। আদালতের নির্দেশে মেট্রোর কাজ বন্ধ। এই অবস্থায় নতুন অনুমতি ছাড়া যন্ত্রটি সরানো সম্ভব নয়।

জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর আইনজীবী সপ্তাংশু বসু আদালতে আবেদন জানান, যন্ত্র এগোনোর সময় আবার বিপর্যয়ের আশঙ্কা আছে কি না, সেই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ কমিটিকে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হোক।

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত ও রাজ্যের কৌঁসুলি তালে মাসুদ সিদ্দিকি এ দিন একটি নথি পেশ করে জানান, বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি তার অনুমোদনও দেবে রাজ্য সরকার।