নিউ আলিপুরে বেলি ব্রিজ এবং লেভেল ক্রসিং চালু হওয়ার পরে ১৫ দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু বেহালা যাতায়াতের সমস্যা কমেনি। ফলে দিনের ব্যস্ত সময়ে যানজটের ছবিও খুব একটা বদলায়নি। তবে আসল পরীক্ষা শুরু হবে পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পরে আজ, সোমবার থেকে। কারণ এ দিন থেকেই পুরোদস্তুর অফিস ও স্কুল-কলেজ খুলে যাচ্ছে। ফলে রাস্তায় ফের এক দফা যানবাহনের চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে। কিন্তু সকাল এবং সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে কী ভাবে তা সামলানো যাবে তা নিয়েও সংশয়ে ট্র্যাফিকের আধিকারিকেরা।

নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, এই ক’দিন নিউ আলিপুরের দিকে হুমায়ুন কবীর সরণি এবং আলিপুর অ্যাভিনিউতে সারাদিনই কমবেশি যানজট হচ্ছে। তবে সকাল এবং সন্ধ্যায় তা তীব্র আকার নিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার পরে দুর্গাপুর ব্রিজে গাড়ির চাপ খানিকটা লাঘব হলেও পরিস্থিতি যে খুব বদলায়নি তা বলছেন পুলিশের কর্তব্যরত আধিকারিকেরাই। ওই রাস্তায় এখন একমুখী যান চলাচলেই গাড়ির চাপ রয়েছে যথেষ্ট। ফলে ভবিষ্যতে আদৌ দ্বিমুখী যান চলাচলের জন্য রাস্তাটি খুলে দেওয়া যাবে কি না তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন ট্র্যাফিক এবং রেলের আধিকারিকেরা। 

রবিবার বেহালার বাসিন্দা কল্যাণ বিশ্বাস বলেন,“সকালে এক এক দিন ওই রাস্তা পার হতেই গড়ে ১৫-২০ মিনিট লেগে যাচ্ছে। সন্ধ্যা বা রাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।” সোমবার থেকে রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ এবং সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। তবে, দীপাবলী পর্যন্ত ওই পথে একমুখী যান চলাচল ব্যবস্থার কোনও বদল হবে না বলেই খবর। অর্থাৎ বেহালার দিক থেকে আসা ছোট গাড়িই এক মাত্র ওই পথ দিয়ে কলকাতার দিকে আসতে পারবে। বেহালার দিকে যেতে এখনই রাস্তা খুলে দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

রেলের তরফে নিউ আলিপুরে লেভেল ক্রসিং দিয়ে ট্রেনের পাশাপাশি দিন এবং রাতে কত যানবাহন যাচ্ছে তার বিস্তারিত হিসেব রাখা হচ্ছে। লেভেল ক্রসিং চালু হওয়ার পরে ১৩ অক্টোবর থেকে শিয়ালদহ-বজবজ শাখায় ছ’জোড়া ইএমইউ ট্রেন এবং তিন জোড়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল করা হয়। রেলের এক আধিকারিক বলেন, “এ জন্য শিয়ালদহ-বজবজ শাখার যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় গত শুক্রবার থেকে সকাল-সন্ধ্যায় তিনটি ট্রেন ফের চালু করা হয়েছে। তবে মাঝেরহাট সেতু নতুন করে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নিউ আলিপুরের দিকে চক্ররেল চালানো যাবে না।”

রেল সূত্রে খবর, ওই লেভেল ক্রসিংয়ে গাড়ির চাপ এখনই যথেষ্ট বেশি। দুপুর এবং রাতের কিছুটা সময় বাদ দিলে অনবরত গাড়ি চলছে। ছোট গা়ড়ি নিয়ে কড়া বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ঘণ্টায় বাইক ও গাড়ি মিলে প্রায় দু’হাজার গাড়ি যাচ্ছে। সারাদিনে যে সংখ্যক ট্রেন এবং গাড়ি লেভেল ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করে তার গুণিতক থেকে পাওয়া সংখ্যাকে রেলের হিসেবে ‘ট্রেন ভেহিক্ল ইউনিট’ বা টিভিইউ বলে গণ্য করা হয়। ওই সংখ্যার ভিত্তিতেই লেভেল ক্রসিংয়ের গুরুত্ব বিচার হয়। রেলের আধিকারিকদের দাবি, নিউ আলিপুরের লেভেল ক্রসিং যে কোনও প্রথম শ্রেণির ক্রসিংয়ের থেকে অন্তত ১০-১২ গুণ বেশি ব্যস্ত।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, বেহালামুখী যানবাহনের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি না করা গেলে সমস্যা পুরো মিটবে না। কে এম ডি এ সূত্রের খবর, এ জন্য ইতিমধ্যেই টালিগঞ্জের করুণাময়ীর কাছে দু’টি নতুন বেলি ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করা হচ্ছে।