হুমকি, ভীতি প্রদর্শন এবং বেআইনি ভাবে জমায়েতের অভিযোগে মেয়র-পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করল রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রত্নাদেবীকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও দুপুরের দিকে তিনি জামিন পেয়ে যান।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। মেয়ে সুহানিকে নিয়ে মেয়রের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন রত্নাদেবী। সুহানি স্কুল থেকে জার্মানি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সেখানে ইন্টার রিলেশনশিপ প্রোগ্রামে যোগ দিতে যাবে। বিদেশ যেতে গেলে ভিসার প্রয়োজন। আর ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রে বাবার সই দরকার। রত্নাদেবী বলেন, “স্কুলের মোট ১৮টা মেয়ে ইন্টাররিলেশনশিপ প্রোগামের জন্য জার্মানি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদের মধ্যের আমার মেয়ে সুহানিও আছে। জার্মানি যেতে গেলে ভিসাতে বাবার সইয়ের প্রয়োজন। অথচ সেই সই দিতে রাজি হচ্ছেন না শোভন।”

অন্য দিকে সুহানির অভিযোগ, এর আগে মেয়রের বাড়িতে দু’বার এসেছিল তাঁরা। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। তাড়িয়ে দেয় তাঁদের।

দেখুন ভিডিয়ো

 

 

সেই সই আদায়ের দাবিতেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মেয়রের গোলপার্কের বাড়ির সামনে মেয়ে সুহানিকে নিয়ে ধর্নায় বসে পড়েন মেয়র-পত্নী। তাঁর দাবি, যত ক্ষণ না মেয়র সই করবেন, তিনি বাড়ির সামনে থেকে উঠবেন না। 

আরও পড়ুন: সাইকেলের পিছনে ছুটে হেনস্থাকারীকে ধরলেন কলেজপড়ুয়া তরুণী

আরও পড়ুন: পায়ে লিখে কলেজে, স্বপ্ন দেখেন চাকরির

রাতভর তাঁকে দেখা যায় বাড়ির উল্টোদিকের ফুটপাথে একটা প্লাস্টিক পেতে বসে থাকতে। খবর পেয়ে রবীন্দ্র সরোবর থানা থেকে পুলিশ আসে। পর্ণশ্রী থানার ওসি আসেন। এমনকী খোদ পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারও সেখানে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন। রত্নাদেবীকে বার বার অনুরোধ করেন ধর্না থেকে উঠে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। পুলিশকে ফিরে যেতে হয়। তবে শুক্রবার সকাল হতেই ফের পুলিশ মেয়রের বাড়ির সামনে আসে। রত্নাদেবীকে ধর্না থেকে তুলে দেয় তারা। তার পর তাঁকে রবীন্দ্র সরোবর থানায় নিয়ে গিয়ে আটক করা হয়।

এ দিকে, মেয়রের বাড়ির সামনে সকালে থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন তাঁর অনুগামীরা। ‘শোভন চ্যাটার্জী জিন্দাবাদ’ শোনা যায় তাঁদের মুখে। সেই সঙ্গে রত্নাদেবীর বিরুদ্ধেও ‘গো ব্যাক রত্না’ বলেও স্লোগান তোলেন তাঁরা। রবীন্দ্র সরোবর থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।  

মেয়রের বাড়ির সামনে রত্নাদেবীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শোভন-অনুগামীদের।

রত্নাদেবীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন শোভন। তাঁর অভিযোগ, রত্নাদেবী তাঁর বাড়ির দরজায় এসে ধাক্কা মেরেছেন। তা ভাঙার চেষ্টা করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে দিয়ে অন্যায় ভাবে সই করানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন রত্নাদেবী।