সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘আমরা এটুকু সহযোগিতা এই কঠিন সময়ে তো চাইতেই পারি’

বাহিনীতে আক্রান্ত বারোশোরও বেশি। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে সাপ্তাহিক লকডাউন। কিন্তু তা সফল করতে কতটা সচেষ্ট পুলিশ? কেন কোনও কোনও ক্ষেত্রে উঠছে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ? উত্তর দিলেন যুগ্ম কমিশনার (সদর) শুভঙ্কর সিংহ সরকার। শুনলেন শিবাজী দে সরকার।

DC Central

প্র: লকডাউন কতটা সফল হয়েছে বলে মনে করছেন?

উ: কলকাতা পুলিশ লকডাউন সফল করতে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সব রকম ব্যবস্থাই নিয়েছে।

প্র: সাপ্তাহিক লকডাউনে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় বেরোনোর অপরাধে পুলিশ অনেককে কান ধরে ওঠবোস করাচ্ছে, আবার রোগীর গাড়িও আটকাচ্ছে। অতিমারিতে ওই অতিসক্রিয়তা কি দরকার ছিল?

উ: পুলিশ কোথাও বাড়াবাড়ি করেছে বলে মনে হয় না। আইন মেনেই যা করার করা হয়েছে। কারও কোনও অভিযোগ থাকলে আমাদের জানান। আমরা অবশ্যই খতিয়ে দেখব।

প্র: যাঁরা মাস্ক ব্যবহার করছিলেন না, তাঁদের প্রথম দিকে বিনামূল্যে মাস্ক দিচ্ছিল পুলিশ। সেই গাঁধীগিরি কি ব্যর্থ হয়েছে? তাই অতিসক্রিয় হতে হচ্ছে?

উ: কেউ কেউ হয়তো মাস্ক পরছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন মামলা করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া প্রকাশ্যে কাউকে দেখা গেলে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শুধু জুলাইয়ে মাস্ক না-পরায় ১৪৩৯৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্র: পুলিশের কি প্রথম থেকেই কঠোর হওয়া উচিত ছিল?

উ: আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা-ই নেওয়া হয়েছে। লকডাউন-বিধি অমান্য করায় গ্রেফতারও করা হয়েছে অনেককে। 

প্র: নিয়ম ভাঙায় গ্রেফতার বা জরিমানা কম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। আর তাতেই পুলিশের প্রতি ভয় কমেছে মানুষের। কী বলবেন?

উ: জুলাইয়ে লকডাউন অমান্য করায় ১১৮৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে থুতু ফেলায় ব্যবস্থা নেওয়া হয় ১১১১ জনের বিরুদ্ধে। ৫৭৬টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। লকডাউন বিধি অমান্য করায় মামলা রুজু হয়েছে ২৪৫৩টি।

প্র: পুলিশ কি শহরের সব জায়গায় সমান ভাবে সক্রিয় থাকছে?

উত্তর: অবশ্যই। আমরা সর্বত্রই সমান ভাবে সক্রিয়।

প্র: একটা অভিযোগ বিভিন্ন জায়গা থেকে শোনা যায় যে, পুলিশ সক্রিয় হলেই প্রশাসনের শীর্ষ মহলের একাংশ থেকে চাপ আসে। সেই কারণেই কি পুলিশ লকডাউন-পর্বের প্রথম থেকে অতি সাবধানি হয়ে চলছিল?

উ: পুলিশ সব সময়েই সরকারি নির্দেশ মেনে সেই অনুযায়ী চলেছে।

প্র: অভিযোগ, যেখানে পুলিশের সক্রিয়তা বেশি করে দরকার, সেখানে ততটা কড়া হতে পারছে না তারা, এক শ্রেণির প্রভাবশালীর চাপে। এই ধারণা ভাঙতে লালবাজার কতটা সক্রিয়?

উ: পুলিশ কিন্তু সর্বত্রই সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে চলেছে। আইন অনুযায়ী যেখানে যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা-ই নেওয়া হচ্ছে।

প্র: অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের গুন্ডাগিরি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

উ: অভিযোগ পেলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। আমাদের করোনা হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতে পারেন (৯৮৭৪৯০৩৪৬৫ এবং ৯৪৩২৬১০৪৪৬)।

প্র: শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকার খবর আসছে। সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে জেনে পুলিশ পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করছে। সমন্বয় বাড়াতে পুলিশ কি অন্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না?

উ: কোনও ঘটনা নজরে আসা মাত্রই আমরা পুরসভার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি। পুরসভা সর্বতো ভাবে আমাদের সাহায্য করছে। আমাদের সঙ্গে সবার যোগাযোগ রয়েছে।

প্র: লকডাউনের শুরুতেই পুলিশ কমিশনার কর্মীদের মানবিক হয়ে কাজ করতে বলেছিলেন। সেটা কি বজায় আছে এখনও?

উ: মাননীয় কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ মানবিক হয়েই কাজ করছে। নাগরিকেরা প্রয়োজনে ১০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

প্র: সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে এই অতিমারিতে কী কী সহযোগিতা চান?

উ: আমরা চাই, সকলে আইন মেনে চলুন। লকডাউন মানুন। দরকারে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা এটুকু সহযোগিতা এই কঠিন সময়ে তো চাইতেই পারি।

প্র: মানুষ মনে করে, পুলিশ ‘সব পারে’। পুলিশ সেই ভরসা দিতে পারে?

উ: কলকাতা পুলিশ সাধ্যমতো সব সময়েই মানুষের পাশে রয়েছে।

প্র: প্রতিদিন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে মানুষ কি আপনাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন?

উ: এখনও পর্যন্ত ৯০০ জন পুলিশকর্মী সুস্থ হয়েছেন। অনেকেই কাজে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে অসুবিধা হলেও তা সাময়িক। মানুষ আমাদের পরিষেবা থেকে কোনও ভাবেই বঞ্চিত হচ্ছেন না। 

 

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন