উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই হাজির হয়েছে বর্ষা। দক্ষিণবঙ্গে তার দেখা কবে মিলবে, তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা থাকলেও অতিবৃষ্টিতে মহানগরের কোথাও জল জমলে বা বন্যা পরিস্থিতি হলে শহরবাসী যাতে ভোগান্তির মুখে না পড়েন, সে জন্য স্থানীয় থানাগুলিকে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিল লালবাজার।

পুলিশ সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে প্রতিটি থানাকে তাদের অধীনস্থ এলাকার যে সব জায়গায় জল জমে, তার তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টিতে জল জমে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে এমন এলাকা চিহ্নিত করতে। লালবাজারের আরও নির্দেশ, প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার ভগ্নপ্রায়, বিপজ্জনক বাড়ি চিহ্নিত করে সেগুলির তালিকা তৈরি করতে হবে। যাতে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে ওই সব বাড়ির বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

একই সঙ্গে লালবাজারের তরফে জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে এমন জায়গা খুঁজে বার করে তার তালিকাও তৈরি রাখতে হবে। এই কাজের জন্য মূলত এলাকার বড় স্কুলবাড়ি, কলেজ এবং ক্লাবগুলি বেছে নিতে বলা হয়েছে। পুলিশের এক কর্তা জানান, জল জমা বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য স্কুল-কলেজ তৈরি রাখা ছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করেন, এমন ব্যবসায়ীদের তালিকাও তৈরি করতে বলা হয়েছে লালবাজার থেকে। যাতে কোনও বিপর্যয় হলে প্রয়োজন মতো ওই সব জিনিস দ্রুত পাওয়া যায়। ওই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আগাম কথা বলার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

মাস দেড়েক আগে ঘূর্ণিঝড় ফণীর দাপট দেখেছিলেন ওড়িশাবাসী। সেটি শহরের বুকেও আছড়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় কলকাতা পুলিশের সব থানাকে সতর্ক করা হয়েছিল লালবাজারের তরফে। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আশ্রয়স্থল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত রাখতে বলা হয়েছিল তাদের। বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের সেই বিকল্প আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নিয়েছিল পুলিশ। গত সপ্তাহে লালবাজারের তরফে প্রতিটি থানাকে বলা হয়েছে, বর্ষা আসার আগেই ফের সেই একই রকম ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হবে।

কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, এই নির্দেশ রুটিন। বিপর্যয় হলে তা দ্রুত মোকাবিলা করার জন্যই এমন একাধিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যদিও পুলিশের অন্য একটি অংশের তরফে দাবি করা হয়েছে, এ বারের লোকসভা ভোটে মহানগরে ধাক্কা খেয়েছে শাসক দল। আগামী বছর কলকাতা পুরসভার ভোট। তার আগে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে তাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন যাতে সাধারণ মানুষের সাহায্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, তার জন্যই আগাম এই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এসেছে।