এক সময়ে থানা চত্বরে ঢুকতেই হোঁচট খেতে হত। চারপাশ আবর্জনায় ভরা থানায় ঢুকতে গেলে নাকে চাপা দিতে হত। এখন সেই থানারই ভোল পাল্টেছে। সৌন্দর্যায়ন আর পরিচ্ছন্নতার বিচারে কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানা শহরের অন্য থানাকে বার্তা দিচ্ছে পরিবেশ সচেতন হতে। 

বানতলা থেকে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে কিছুটা দূর যেতেই রাস্তার ডান দিকে চোখে পড়বে লেদার কমপ্লেক্স থানার সাজানো ফুলের বাগান। থানার সামনের সেই বাগানে ফুটে রয়েছে গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, জুঁই, রকমারি পাতাবাহার থেকে শুরু করে সাত রকমের জবা ফুল। রীতিমতো মালি নিয়োগ করে থানার বাগানের পরিচর্যা করেন পুলিশকর্মীরা। থানার এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘মালির বেতন আমরাই দিই।’’

কেবল ফুল নয়, থানার চারপাশে রয়েছে ঝাউ, নারকেল, পেয়ারা গাছ। লেদার কমপ্লেক্স থানার ওসি স্বরূপকান্তি পাহাড়ির কথায়, ‘‘এখানে রোজ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কত মানুষ আসেন। থানার পরিবেশ সুন্দর থাকলে তাঁদেরও ভাল লাগবে। লেদার কমপ্লেক্স থানা পুরোপুরি গ্রামের লাগোয়া হওয়ায় এখানে অনেক পাখিও আসে।’’

দূষণ ঠেকাতে পরিবেশবিদেরা গাছ লাগানোর উপরে জোর দিচ্ছেন। ওসি-র কথায়, ‘‘থানার চারপাশ আরও গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আম, জাম, কাঁঠালের গাছও লাগানো হবে।’’ লেদার কমপ্লেক্স থানার পাশাপাশি বন্দর এলাকার নাদিয়াল থানাও পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যা করছে। 

কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমারের কথায়, ‘‘গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যা করা সকলের কর্তব্য। কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার মতো শহরের প্রত্যেকটি থানা এ রকম উদ্যোগী হলে শহরটাও ভাল থাকবে।’’ লেদার কমপ্লেক্স থানার গাছ লাগানোর ভূমিকার প্রশংসা করে লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা দেখভালের পাশাপাশি লেদার কমপ্লেক্স থানা যে ভাবে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণে উদ্যোগী হয়েছে, তার জন্য তাদের পুরস্কৃত করা হবে।’’