কলকাতা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করতে সেটির দেওয়ালে সেন্সর বসাতে চাইছে কেন্দ্র। বাইরে থেকে কোনও ব্যক্তি সেন্সর লাগানো ওই দেওয়াল টপকাতে গেলে টার্মিনালে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে অ্যালার্ম বাজবে। দেওয়ালের কোন অংশ টপকাচ্ছেন ওই ব্যক্তি, তা-ও জানা যাবে। এই ‘পেরিমিটার ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম’-এ (পিআইডিএস) পাঁচিলে হাল্কা মাত্রায় বিদ্যুৎ সংযোগও থাকে। যাতে কেউ দেওয়াল টপকাতে গেলে তড়িদাহত হন। সেই দেওয়াল জুড়ে ক্যামেরাও বসানো থাকবে।

তবে শুধু কলকাতা নয়, দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলির দেওয়ালে এই সেন্সর বসাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। গত ২২ অগস্ট মুম্বই বিমানবন্দরের পাঁচিল টপকে এক যুবক বিমানের কাছে চলে যাওয়ার পরে ‘বুরো অব সিভিল এভিয়েশন সিকিয়োরিটি’ (বিসিএএস) দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলিতে পিআইডিএস বসানোর জন্য তৎপর হয়। কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এখানে এই ব্যবস্থা চালু করতে খরচ পড়বে ৫০ কোটি টাকা।’’ তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা বিমানবন্দর ঘিরে বাইরের দিকে একটি দেওয়াল রয়েছে। সেটা পেরোনোর পরে রয়েছে দ্বিতীয় একটি দেওয়াল। কৌশিকবাবু জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ওই দেওয়ালে বসবে পিআইডিএস। দিল্লি বিমানবন্দরে এই সেন্সর বসানোর কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় ভাবে বিভিন্ন বিমানবন্দরে সেন্সর বসানোর জন্য জন্য দরপত্র ডাকা হচ্ছে।

মুম্বই বিমানবন্দরে অবশ্য পাঁচ বছর আগেই বসে গিয়েছে পিআইডিএস। যে দিন ওই যুবক কুরলা এবং কলিনার মাঝখানের দেওয়াল টপকে বিমানের কাছে চলে যান, সে দিনও দ্বিতীয় দেওয়ালের মাথায় পিআইডিএস ছিল। যুবকটি সেই দেওয়াল টপকানোর সময়ে অ্যালার্ম বেজেছিল কি না, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিয়োরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর কর্তারা।

সিআইএসএফের এক কর্তার কথায়, ‘‘অ্যালার্ম বাজলে ওই যুবক দেওয়াল টপকে প্রায় ১০০ মিটার বিনা বাধায় হেঁটে রানওয়ের মুখ পর্যন্ত যেতে পারতেন না।’’ তড়িদাহত হয়ে তাঁর সেখানেই পড়ে যাওয়ার কথা। এ-ও সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই যুবক দ্বিতীয় দেওয়ালের নীচে নিকাশি নালা দিয়ে গলেও ঢুকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পিআইডিএস-এ অ্যালার্ম বাজার কথা নয়। ঘটনার তদন্ত হচ্ছে।