চার দিন নিখোঁজ থাকার পরে নিজেই বাড়ি ফিরে এল নব নালন্দা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে যখন আত্মীয়-প্রতিবেশীদের ভিড়, তখনই পিঠে ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফেরে সায়নদীপ সিংহ নামে ওই ছাত্র।

গত বুধবার স্কুল থেকে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি সায়নদীপ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছিল, বাড়ি থেকে বাদামি রঙের একটি গেঞ্জি এবং নিজের জমানো চার হাজার টাকা নিয়ে গিয়েছে সে। বাড়ি ফিরে সায়নদীপ জানিয়েছে, সে হরিদ্বার গিয়েছিল।

তার বাবা সৌমাভ সিংহ বলেন, ‘‘ঘরে ঢুকতেই ওকে দেখে আমরা কেঁদে ফেলি। ছেলে মুচকি হেসে বলে, ‘কী, আর ঝগড়া করবে?’’ ওই পড়ুয়া পুলিশকে জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে একটি বিয়ে বাড়িতে যাওয়া নিয়ে কয়েক দিন ধরেই বাবা-মার মধ্যে ঝগড়া চলছিল।

সায়নদীপ জানিয়েছে, বাবা-মার ঝগড়া তার ভাল লাগে না। এ ছাড়াও, স্কুলের একঘেয়ে জীবনও ভাল লাগছিল না। তাই কাউকে না জানিয়ে এক-দু’দিনের জন্য কোথাও চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে সে। সেই মতো বুধবার স্কুল থেকে বেরিয়ে বাস ধরে হাওড়া স্টেশনে যায় সে। সেখান থেকে কুম্ভ এক্সপ্রেসে চেপে সে সোজা পাড়ি দিয়েছিল হরিদ্বার। বৃহস্পতিবার বিকেলে রিকশা চেপে ১৪টা হোটেলে ঘুরলেও কেউ ঘর দেয়নি সায়নদীপকে। শেষে হর কি পৌড়ি ঘাটে গিয়ে সন্ধ্যার আরতি দেখে সে ফিরে আসে স্টেশনে। তবে হরিদ্বার যাওয়ার প্রমাণ দিতে ওই ঘাটে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলে নিয়ে আসে সায়নদীপ।

রবিবার সৌমাভবাবু বলেন, ‘‘গঙ্গার জল তো কলকাতাতেও পাওয়া যায়। তাই জল আনবে ভেবেও আনেনি। ছেলের যে এত বুদ্ধি, মনের জোর তা জানতাম না।’’ বৃহস্পতিবার রাতে হরিদ্বার থেকে জেনারেল টিকিট কেটে দুন এক্সপ্রেসে ওঠে সায়নদীপ। ট্রেন দেরিতে চলায় শনিবার বিকেল হয়ে যায় হাওড়া পৌঁছতে। সেখান থেকে বাস ধরে হরিদেবপুরের ঘরের ছেলে ফিরে আসে ঘরে।