• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

উদ্যাপনের আলোর পাশেই অবহেলার আঁধার

‘আমি বাড়ি গেলেই তো ওরা মারবে’

Old Lady
অসহায়: হাসপাতালে সেই বৃদ্ধা। শনিবার। —নিজস্ব চিত্র।

রাস্তার ধারে ফুটপাথে ঠান্ডায় কুঁকড়ে পড়ে রয়েছেন শীর্ণকায় বৃদ্ধা। কে তিনি, কোথা থেকে এসেছেন— জানা ছিল না কারও। কিছু বুঝতে না পেরে চিন্তায় পড়ে যান এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদেরই কয়েক জন এসে বৃদ্ধার গায়ে চাপিয়ে দেন একটি চাদর। তাঁরাই জানতে চেষ্টা করেন, কোথা থেকে এসেছেন তিনি। উত্তরে ক্ষীণ গলায় বৃদ্ধা শুধু বলেন, ‘‘আমি বাড়ি গেলেই তো ওরা মারবে’’।

কিন্তু ওরা কারা? বহু চেষ্টা সত্ত্বেও কোনও ভাবেই শীর্ণকায় ওই বৃদ্ধার কাছ থেকে সে কথা জেনে নিতে পারেননি বেলুড়ের শিবচন্দ্র চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দারা। অথচ এমন শীতের দিনে তাঁকে রাস্তায় ফেলেও চলে যেতে পারেননি এলাকার বাসিন্দারা। শেষে স্থানীয় কাউন্সিলরের ফোন যায় পুলিশের সাহায্য চেয়ে। কাউন্সিলরের কাছে খবর পেয়ে শনিবার সকালে ওই বৃদ্ধাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হাওড়া পুরসভার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিবচন্দ্র চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ফুটপাথে গত শুক্রবার সকাল থেকে ওই বৃদ্ধাকে শুয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়েরা। পরনে তাঁর একটি মলিন শাড়ি। পাশে একটি ব্যাগে পড়ে কিছু জামা-কাপড়। স্থানীয়েরা জানান, মাঝেমধ্যে একটি হাত তুলে বারাবার কপালে ঠেকাচ্ছিলেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা। ঠান্ডার মধ্যে সে রাতটা খোলা আকাশের নীচেই পড়ে ছিলেন তিনি। ঠান্ডা লেগে শরীরও বেশ খারাপ হওয়ায় এ দিন তিনি প্রায় অচৈতন্য হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে চিন্তিত হয়ে স্থানীয় কয়েক জন যুবক গিয়ে জানতে চান তাঁর বাড়ি কোথায়? কিন্তু কথা বলতে গেলেই তাঁর গলার স্বর জড়িয়ে যাচ্ছিল। ফলে অনেক চেষ্টা করেও তাঁর বিষয়ে কিছুই জানতে পারেননি স্থানীয়েরা।

এ দিন সকালে স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে সেখানে আসেন কাউন্সিলর পল্টু বণিক। তিনি বলেন, ‘‘ওঁকে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি ঠিকমতো উঠে বসতেই পারছিলেন না। কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। নাম-ঠিকানা জানতে চাইলেও বলতে পারছিলেন না।’’ এর পরেই বেলুড় থানায় খবর দেন পল্টুবাবু। পুলিশ এসে বৃদ্ধাকে অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে ঘুসুড়ির টি এল জায়সবাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছেন ওই বৃদ্ধা। তার উপরে ভাল মতো ঠান্ডাও লেগেছে তাঁর। তদন্তকারীরা জানান, ওই বৃদ্ধা কোনও ভাবেই আত্মীয়- পরিজনের নাম, ঠিকানা বলতে না পারায় কিছু করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে বারবার তাঁর মুখে ‘ওঁরা বাড়ি গেলেই আমায় মারবে’ কথা শুনে পুলিশের ধারণা, বাড়িতে অত্যাচারিত হতেন তিনি। পুলিশের কাছে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই বৃদ্ধাকে তাঁর নাতি রাস্তায় এনে ফেলে রেখে গিয়েছেন। তবে বৃদ্ধার থেকে সব না জানা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই বক্তব্য পুলিশের। বৃদ্ধার সম্পর্কে জানার চেষ্টা চালানোর জন্য তাঁর সঙ্গে সর্বক্ষণ বসে আছেন এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন