কাজের দিনে মিছিল, রাস্তা অবরোধের বিরাম নেই। দিন দুই আগেই সমাবেশ, মিছিলের জেরে উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশ অচল হয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার শহরে ফের একাধিক সংগঠনের উদ্যোগে মিছিল, সমাবেশের জেরে ভুগতে হল সাধারণকে। 

পুলিশ জানায়, এ দিন দুপুর দু’টো নাগাদ মহাজাতি সদন থেকে বামেদের ডাকা বিশাল মিছিল বেরোয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ডাকে ওই মিছিল চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গাঁধী রোড, শিয়ালদহ, মল্লিকবাজার, পার্ক সার্কাস সাত মাথার মোড় হয়ে পৌঁছয় সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ে। পুলিশের দাবি, ওই মিছিলে প্রায় পঁচিশ হাজার মানুষ পা মিলিয়েছেন। এ দিন দুপুর দু’টো নাগাদ মহাজাতি সদন থেকে মিছিল বেরোতেই উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার, কলেজ স্ট্রিট, হাতিবাগান-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট সৃষ্টি হয়। মিছিলের জেরে পুলিশ অন্য পথে গাড়ি ঘুরিয়ে দিলেও ভুগতে হয় সাধারণ মানুষকে। 

পুলিশ জানায়, ১৭টি বাম সংগঠনের ডাকা এই মিছিল শিয়ালদহ এসে পৌঁছতেই আচার্য জগদীশ়চন্দ্র বসু রোড, মৌলালি, এস এন ব্যানার্জি রোড, লেনিন সরণি, শেক্সপিয়র সরণি-সহ আশপাশের এলাকায় গাড়ির গতি শ্লথ হয়। মিছিল বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ পার্ক সার্কাস সাত মাথার মোড়ে পৌঁছনোর পরে মা উড়ালপুলেও দীর্ঘক্ষণ যানজট হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন দুপুর বারোটা নাগাদ ‘সংবিধান বাঁচাও কমিটি’-র উদ্যোগে বি আর অম্বেডকরের মৃত্যু দিবসের স্মরণে একটি সম্প্রীতি মিছিল শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে এসে পৌঁছয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন দুপুরে হাওড়া স্টেশন থেকে মিছিল যাওয়ায় ব্রেবোর্ন রোড, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ-সহ ডালহৌসি চত্বর যানজটের কবলে পড়ে। শিয়ালদহ থেকে মিছিলের জেরে মৌলালি, এস এন ব্যানার্জি রোডেও গাড়ির চাকা নড়ছিল না। পুলিশ সূত্রের খবর, কোচবিহারে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিকেল তিনটে নাগাদ উত্তর কলকাতায় বিজেপি-র সদর দফতর থেকে বেরিয়ে কয়েকশো সমর্থক চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ও কলুটোলা স্ট্রিট মোড় অবরোধ করেন। পুলিশ এলে অবরোধ উঠে যায়। ওই সময়েই উত্তর কলকাতার বিবেকানন্দ রোড থেকে তৃণমূলের উদ্যোগে একটি মিছিল বেরিয়ে আমহার্স্ট স্ট্রিট হয়ে ওয়েলিংটনে পৌঁছয়। তৃণমূলের ডাকা ‘সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ওই মিছিলের জেরেও উত্তর কলকাতায় সাধারণ মানুষ যানজটের কবলে পড়েন বলে অভিযোগ।