রক্ষণাবেক্ষণের খরচ জোগাতে এ বার শুটিংয়ে ভাড়া দেওয়া হতে পারে রবীন্দ্র সরোবর চত্বর।

ওই জাতীয় সরোবরের সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই অর্থের সংস্থান করতে টিভি সিরিয়াল ও সিনেমার শুটিংয়ের জন্য ওই এলাকা ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তা শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। যদিও তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও মাথাচাড়া দিয়েছে।

পরিবেশকর্মীদের একাংশের দাবি, পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবীন্দ্র সরোবর চত্বরে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান করা যায় না। কারণ, তাতে সরোবর দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার কেএমডিএ-র কর্তাদের মতে, শুটিং কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান নয়। তা ছাড়া, শুটিংয়ের ব্যাপারে আদালতেরও কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

কেএমডিএ-র এক আধিকারিক জানান, আগেও মাঝেমধ্যে শুটিংয়ের জন্য অর্থ নেওয়া হত। কিন্তু তার পরিমাণ কম ছিল। অনেক সময়ে সেই ভাড়ায় ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, সরোবর চত্বরে আগে নিয়মিত ভাবে শুটিং হত না। এখন যাতে নিয়মিত শুটিং হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুটিংয়ের জন্য ভাড়া দেওয়ার বিকল্প হিসেবে সরোবরে প্রবেশমূল্য চালু করার কথাও ভাবা হয়েছিল। রাজ্য সরকার অবশ্য সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়।

কর্তৃপক্ষ জানান, আপাতত সরোবরে শুটিংয়ের জন্য তিন রকম ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরোবরের যে অংশ সব চেয়ে বেশি সাজানো, সেখানে শুটিংয়ের ভাড়া ধরা হয়েছে দিনে ২০ হাজার টাকা। ঝুলন্ত সেতু বা সাফারি পার্ক ওই অংশে রয়েছে। দ্বিতীয় স্তরে জলাশয়ের ধারে কোনও বেঞ্চে বসে বা নির্দিষ্ট কোনও পার্কে শুটিং করলে ভাড়া দিতে হবে ১৭ হাজার টাকা। আর সরোবরের ভিতরে কোনও মাঠ বা রাস্তায় শুটিং করতে লাগবে ১১ হাজার টাকা। কেএমডিএ-র হিসেব অনুযায়ী, গত দু’তিন মাসের শুটিং থেকেই লক্ষাধিক টাকা আয় হয়েছে।

কেএমডিএ সূত্রের খবর, সরোবরে শুটিংয়ের জন্য ইতিমধ্যেই তাদের দফতরে প্রচুর আবেদন জমা পড়েছে। সেই সমস্ত আবেদনপত্রে কারা সরোবর চত্বরের কোন এলাকা ব্যবহার করতে চায়, তার উল্লেখ রয়েছে। চাহিদা মতো জায়গা খালি থাকলে তা তারিখ দেখে বরাদ্দ করা হচ্ছে বলে আধিকারিকেরা জানিয়েছেন।