তিন বছর আগে এক জানুয়ারির ভোরে রেড রোডে বেপরোয়া গাড়ি পিষে দিয়েছিল বায়ুসেনার কর্পোরাল অভিমন্যু গৌড়কে। সেই মামলার বিচার এখনও শেষ হয়নি। কলকাতার নগর দায়রা আদালত সূত্রের খবর, মামলায় মূল অভিযুক্ত, প্রাক্তন বিধায়ক মহম্মদ সোহরাবের ছেলে সাম্বিয়া সোহরাব এখনও জেলবন্দি রয়েছেন। তবে সোহরাব-সহ বাকি তিন অভিযুক্ত জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এই মামলার বিচার কবে শেষ হবে, তা-ও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি ওই সূত্র।

২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ভোরে রেড রোডে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া চলাকালীন ওই রাস্তায় যান চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল পুলিশ। কিন্তু অভিযোগ, সাম্বিয়া বেপরোয়া ভাবে একটি অডি গাড়ি চালিয়ে ওই রাস্তায় ঢোকেন এবং অভিমন্যুকে পিষে দেন। ঘটনার পরেই চম্পট দেন তিনি। পুলিশেরই একাংশের দাবি, ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে গুন্ডাদমন শাখাকে কাজে লাগিয়ে সাম্বিয়াকে পাকড়াও করা হয়েছিল। সে সময়েই প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে বলে সাম্বিয়াকে ঘটনার পরে পালাতে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। পরে পুলিশ অবশ্য সাম্বিয়ার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, সাম্বিয়ার বিরুদ্ধে ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। ৩৫১ পাতার চার্জশিটে ৮২ জন সাক্ষীর বয়ান ছিল। তার মধ্যে ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী সেনা অফিসারেরাও। চার্জশিটে সাম্বিয়ার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়। তার দুই বন্ধু শানু এবং জনির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা মূল অপরাধীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। সেই সঙ্গে সাম্বিয়ার বাবা মহম্মদ সোহরাবের বিরুদ্ধেও ছেলেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অভিযোগ আনা হয়। পরে অভিযুক্তেরা আদালতে ওই চার্জশিট চ্যালেঞ্জ করে মামলা করে। পরে সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। বাকি অভিযুক্তেরা জামিন পেলেও সাম্বিয়াকে হাজতে রেখেই বিচার চালানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ওই মামলার সরকারি কৌঁসুলি অমলেন্দু চক্রবর্তী জানান, গত মাসে ৫১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে মামলার তথ্যপ্রমাণ নিয়ে সওয়াল-জবাব শুরু হবে। 

আরও পড়ুন: কড়েয়ায় প্রকাশ্য রাস্তায় যুবককে গুলি করে খুন

পুলিশ সূত্র অবশ্য বলছে, অভিমন্যুর মৃত্যু রেড রোডে কুচকাওয়াজের মহড়ার নিরাপত্তা নিয়ে অনেক খামতি ধরিয়ে দিয়েছিল। তার পরেই নিরাপত্তা-ব্যূহ ঢেলে সাজা হয়। এ বার সেই ব্যূহ নিশ্ছিদ্র হয়েছে। মহড়ার জন্য ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে রেড রোড এবং আশপাশের এলাকাকে। লাঠির বদলে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে রেড রোডে পাহারায় থাকছেন পুলিশকর্মীরা।