• তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

প্রয়োজনেই পরীক্ষা, দাবি করল সমীক্ষা

Medical Test
প্রতীকী ছবি।
অভিযোগটা বহু দিনের পুরনো। 
এবং প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এ নিয়ে তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। শুধু রোগীর পরিজনেরাই নন, চিকিৎসকদের একাংশও স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, সর্ষের মধ্যেই রয়ে গিয়েছে ভূত। বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের যে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়, তার সব ক’টিই কি 
খুব দরকারি? প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কি নানা পরীক্ষা করাতে বাধ্য হন রোগীরা?
একই পরীক্ষা একাধিক বার করে করানো অথবা রোগী ভর্তি হলেই পরীক্ষার লম্বা তালিকা ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে ভাল ভাবে নেন না অনেকেই। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, বেশির ভাগ সময়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরিজনদের যোগাযোগের অভাব এবং চিকিৎসকের তরফে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা না করার ফলেই এমন ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়।
গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কলকাতার পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতালকে নিয়ে এক সমীক্ষা চালায় একটি বেসরকারি সংস্থা। ওই সংস্থার দাবি, কাদের উপরে সমীক্ষা চালানো হবে, তা নির্ধারণ করেছেন চিকিৎসা পরিষেবার বাইরে থাকা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
সমীক্ষার রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ৯০ শতাংশ সিটি স্ক্যানের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে পরীক্ষার কারণ লিখে দেন। ১০০ শতাংশ এমআরআই-এর ক্ষেত্রেও পরীক্ষার কারণ লেখা থাকে। অন্তত টানা চার দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেই রোগীকে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া, রক্ত সংক্রান্ত কোনও ধারাবাহিক অসুখে ভুগলে তবেই রোগীকে বারবার রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তা হলে অকারণ নমুনা পরীক্ষার অভিযোগ কি পুরোটাই ভ্রান্ত? সমীক্ষক দলের চিকিৎসক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হয়তো খুব সামান্য অংশ এ ধরনের কাজে যুক্ত। কিন্তু অধিকাংশ চিকিৎসক অসৎ ভাবে রোগীকে একাধিক শারীরিক পরীক্ষার পরামর্শ দেন, এটা ভ্রান্ত ধারণা।’’
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিকিৎসকদের একটি বড় অংশই অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভর হয়ে পড়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপরেই বেশি জোর দিচ্ছেন। যার ফলে রোগীর মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসকদের আরও বেশি ‘ক্লিনিক্যাল স্টা়ডি’ চালিয়ে যাওয়া দরকার। আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকার পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কৌশলও শেখা জরুরি। 
ক্যানসার চিকিৎসক গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পরীক্ষার রিপোর্টও কিন্তু ভুল হতে পারে। তাই ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা, অর্থাৎ রোগীকে দেখে, স্পর্শ করে চিকিৎসক যেটা বুঝতে পারেন, তার উপরেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হলেও শুধুমাত্র প্রযুক্তি-নির্ভর হয়ে পড়া ঠিক নয়। তবে, চিকিৎসকদের নিয়ে বহু ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। রোগী-চিকিৎসক সম্পর্ক ঠিক রাখতে এই ভ্রান্ত ধারণা নষ্ট হওয়া জরুরি।’’
তবে, শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালের শীর্ষ কর্তা এবং কার্ডিও-থোরাসিক চিকিৎসক কুণাল সরকার বলেন, ‘‘চল্লিশ শতাংশ শারীরিক পরীক্ষা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া হচ্ছে। প্রেসক্রিপশন না থাকলেও ওষুধ দেদার বিক্রি হচ্ছে। একই রক্ত পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ক্লিনিকে বিভিন্ন রকম দাম নির্ধারিত হয়। এগুলো বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের সমস্যা কমবে না। চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ফাঁকগুলো ভরাটের দায়িত্বও চিকিৎসকদের।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন