ভোট বাক্সের জটিল অঙ্কের কথা মাথায় রেখে এ বার বামেদের অক্সিজেন জোগাতে চায় শাসকদল। তাই তাদের দলীয় অফিসের সামনে থেকে বিজেপির পতাকা সরাতে তৎপর হচ্ছে তৃণমূল। এমনটাই জানা গিয়েছে শাসক দলের একাধিক কাউন্সিলরের তরফে। সম্প্রতি শহরের উত্তরে এবং দক্ষিণের একাধিক ঘটনা সে দিকেই নজর টানছে রাজনৈতিক মহলের।

কিন্তু কী সেই জটিল অঙ্ক?

এ বার লোকসভা ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, যেখানে বামেদের ভোট বিজেপির পক্ষে গিয়েছে, সেখানেই পিছিয়ে পড়েছে শাসকদল। কিন্তু যেখানে বামেরা সক্রিয় থেকেছে, সেখানে ছবিটা গিয়েছে শাসক দলের পক্ষে। যেমন, যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র। এ বার শহরের অন্য বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে পড়লেও যাদবপুরে জিতেছে। কারণ, এখানে বামেরা সক্রিয় থাকায় তাদের ভোট বিজেপিতে ততটা যায়নি। অথচ ২০১৬ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের দখলে থাকা যাদবপুরের ১০টি ওয়ার্ডেই হেরেছিল তৃণমূল। রাজ্যের অন্যত্র যেখানে বামেদের প্রাপ্ত ভোট প্রায় সাত শতাংশের মতো, সেখানে যাদবপুরে ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে বামেরা। ত্রিমুখী লড়াইয়ে যা ওই কেন্দ্রে সুবিধাই করে দিয়েছে শাসকদলকে। এই অঙ্ক মাথায় রেখেই এ বার তৃণমূলের পাখির চোখ, বিজেপির থেকে বামেদের রক্ষায়। 

দক্ষিণ কলকাতায় দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ় কলেজের পাশে কানুনগো পার্কে বামেদের দলীয় অফিস বহুদিনের। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিন কয়েক আগে ওই অফিসের সামনে এবং আশপাশে বিজেপির পতাকা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন কর্মী-সমর্থকেরা। সিপিএমের স্থানীয় এক সমর্থক জানান, মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন তা টাঙানো হয়েছিল, তবে তাঁদের পার্টি অফিসের গায়ে নয়। দলীয় অফিসের ভিতরে বিজেপির একদল সমর্থক লাড্ডু বিলি করতেও গিয়েছিলেন। স্থানীয় সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘পতাকা খোলার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল ঠিক কথা বলছে না। তবে বিজেপির দু’এক জন আমাদের দলীয় অফিসে লাড্ডু বিলি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তা গ্রহণ করেননি।’’ 

উত্তর কলকাতার হাতিবাগান এলাকা থেকে একই ঘটনার খবর মিলেছে। সেখানেও তৃণমূলের লোক গিয়ে বিজেপির পতাকা সরিয়ে দিয়েছে। বামেদের কেউ কেউ বিষয়টি ‘হাল্কা ভাবে’ দেখলেও, মেনে নিতে পারেননি তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। উত্তর কলকাতার তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ‘‘বাম কর্মীদের বলা হয়েছে, আমরা পাশে আছি। বিজেপি আবার এমন করলে খবর দেবেন।’’

যাদবপুর এলাকায় তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘অন্যের পার্টি অফিস দখল করা হবে কেন? তারই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।’’ আর কোথাও এমন যাতে না ঘটে তার জন্য আশ্বস্ত করা হচ্ছে তৃণমূলের তরফে। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘‘এ বার লোকসভা ভোটের পরে তৃণমূলের কর্মীরা যাদবপুরে ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে বামেদের দলীয় অফিস ভেঙেছেন। ওঁরা যা করতেন, এখন বিজেপি তাই করছে বলেই ওঁদের ভয়। বামেদের সাহায্য করার নাটক করতে হবে না।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।