মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার পরে অস্থায়ী ভাবে তৈরি বেলি ব্রিজের উপর দিয়ে যান চলাচলে পরিবর্তন আনতে চলেছে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। ওই এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন করছে ট্র্যাফিক পুলিশ। 

লালবাজার সূত্রের খবর, মঙ্গলবার থেকে বেলি ব্রিজে ‘টাইডাল’ পদ্ধতিতে গাড়ি চলবে। গত ১২ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য বেলি ব্রিজ খুলে দেওয়ার পর থেকে মাঝেরহাটে বিকল্প হিসাবে সেটি কাজ করছিল। বেলি ব্রিজ এব‌ং লেভেল ক্রসিং দিয়ে এত দিন শুধু নিউ আলিপুর থেকে আলিপুরের দিকে গাড়ি চলাচল করতে পারত। আগামী মঙ্গলবার থেকে বদলাচ্ছে সেই নিয়ম।

লালবাজার সূত্রের খবর, মঙ্গলবার থেকে এই ব্রিজ দিয়ে দু’দফায় দু’ভাবে গাড়ি চালানো হবে। এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বেলি ব্রিজ দিয়ে উত্তরমুখী গাড়ি চলাচল করবে। অর্থাৎ সেই সময়ে তারাতলা থেকে গাড়ি এন আর অ্যাভিনিউ থেকে বেলি ব্রিজ হয়ে আলিপুর রোডের দিকে যাবে। দুপুর ১টার পরে গাড়ি দক্ষিণমুখী যাবে, অর্থাৎ আলিপুর রো়ড হয়ে গাড়িগুলি বেইলি ব্রিজ- এন আর অ্যাভিনিউ হয়ে তারাতলার দিকে যাবে। দুপুর ১টার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বেহালার দিক থেকে আসা সব গাড়িকে উড়ালপুলের নিচের রাস্তা দিয়ে তারাতলা মোড়ে আসতে হবে।

একই ভাবে এই রাস্তার সমান্তরাল যে রাস্তা রয়েছে, অর্থাৎ সাহাপুর রো়ডেও গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সেখানেও সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাহাপুরে রোড থেকে গাড়ি তারাতলা মোড়ের দিকে যাবে। দুপুর ১টার পরে আলিপুরের দিক থেকে আসা গাড়ি এন আর অ্যাভিনিউ হয়ে তারাতলায় ঢুকবে। তবে এই রাস্তা বা রুট শুধুই ছোট গাড়ি বা দু’চাকার জন্য। কোনও বাস বা বড় গাড়ি এই রুটে যাতায়াত করতে পারবে না। সেগুলি এখন যে ভাবে বন্দর এলাকা দিয়ে ঘুরে যাচ্ছে, তেমনই যাবে। যদিও আলিপুর রোড দিয়ে গাড়ি দু’মুখী থাকবে।

এই পরিবর্তন কেন? কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ সূত্রের খবর, পুজোর কয়েক দিন বেলি ব্রিজ দিয়ে একমুখী গাড়ি চালানোয় কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু পুজোর পরে অফিস-স্কুল খুলে যাওয়ার পরে দেখা যাচ্ছে যে, এই রাস্তায় গাড়ি চাপ বেড়েছে। ফলে টালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, আলিপুর রোড চেতলা সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে ব্যাপক যানজট হচ্ছিল। কী করে এই যানজট কমানো যায়, তার জন্য কয়েক দিন ধরেই কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের আধিকারিকেরা এই সব রাস্তা পরিদর্শন করেন। আর তার পরেই এই নতুন পদ্ধতিতে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

তবে বন্দর এলাকা দিয়ে ঘুরে যাওয়ার জন্য বাসযাত্রীরা যে ভাবে সমস্যার মুখে পড়ছেন, তা বিবেচনা করে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন বলে খবর।