ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরে মিলল কাঁকিনাড়ায় গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়া দুই ছাত্রের দেহ। শুক্রবার দুপুরে মেলে একটি দেহ। সন্ধ্যায় মেলে আর ছাত্রের দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, রাতেও তল্লাশি জারি রয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে শ্যামনগর গঙ্গার ঘাট থেকে কিছুটা দূরে মেলে নবম শ্রেণির ছাত্র আকাশ সাউয়ের (১৫) দেহ। সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকারই কাছাকাছি মেলে সাগর দাসের (১৭) দেহ। সাগর এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। এ দিন রাত পর্যন্ত নিখোঁজ অন্য ছাত্র সুমিত বর্মার কোনও খোঁজ মেলেনি। চার জনেরই বাড়ি কাঁকিনাড়ার এমসি রোডের ২০ নম্বর গলি। সকলেই কাঁকিনাড়া হাই স্কুলের ছাত্র।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গঙ্গায় স্নান করতে নেমেছিল আকাশ, সাগর, সুমিত এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রহিত সাউ। পুলিশ জানিয়েছে, আচমকা একটি বড় ঢেউ আসে। তাতেই তলিয়ে যায় চার জন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারের জন্য গঙ্গায় ঝাঁপ দেন। এক যুবক রহিতকে উদ্ধার করেন।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই গঙ্গায় তল্লাশি শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের দল। অনেক রাত পর্যন্ত খোঁজাখুজির পরেও হদিস পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তল্লাশি। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের দিকে কাঁকিনাড়া থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে শ্যামনরে গঙ্গার একটি ঘাট থেকে কিছুটা দূরে একটি দেহ আটকে থাকতে দেখেন তাঁরা। সেটিকে উদ্ধার করে কাঁকিনাড়া ঘাটে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তার বাড়ির লোকেরা দেহটি আকাশের বলে সনাক্ত করেন। আকাশের পিশেমশাই শ্যাম সিংহ বলেন, ‘‘নিখোঁজের পর থেকে বাড়ির লোকেরা ভেঙে পড়েছিল। তবুও শেষ একটা আশা ছিল। যদি কোনও ভাবে বেঁচে গিয়ে থাকে। ভেবেছিলাম কোথাও সে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু, সব আশা শেষ হয়ে গেল।’’ আকাশের দেহ মেলার খবর পাওয়ার পরেই সুমিত এবং সাগরের আত্মীয়েরা কাঁকিনাড়া মিল ঘাটে জড়ো হন। ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারাও। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত আর কারও খোঁজ না মেলায় সকলেই আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। 

অন্ধকার নামার পরে উদ্ধারকারী বিশেষ দল সার্চলাইট জ্বেলে তল্লাশি শুরু করে। ৭টা নাগাদ শ্যানগরেই উদ্ধার হয় সাগরের দেহ। তার বাড়ির লোকেরা দেহটি সনাক্ত করেন। দু’জনের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাতভর তল্লাশি চলবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরই নেবে।