ভোরের আগে রাস্তায় ফের বসানো হল ইট
শনিবার ভোর হওয়ার আগেই তুলে ফেলা ইট আবার বসিয়ে দিয়ে যায় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত। ইট তুলে নেওয়ার খবরে দল এবং প্রশাসনিক তরফে চাপ আসতেই এই ভোলবদল, বলছেন নেতারা।
Road

ফেরত: এই রাস্তারই ইট তুলে নেওয়া হয়েছিল বৃহস্পতিবার রাতে। শনিবার ভোরে ফের বসানো হয়েছে ইট। ছবি: সজলকুমার চট্টোপাধ্যায়

লোকসভা ভোটে বারাসত কেন্দ্র থেকে দল জিতলেও এলাকায় হেরেছে। তাই শুক্রবারের হুমকি ছিল, ভাঙাচোরা রাস্তায় আর ইট পড়বে না। এক দিনও গেল না, ‘চাপে’ পড়ে শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই তুলে ফেলা ইট ফের রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে গেলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এমনটাই ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার কদম্বগাছির হেমন্ত বসু নগর ১ মাঠপাড়া এলাকায়। এ দিন ঘুম থেকে উঠে সে সব দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মন্তব্য, ‘‘এঁদের কখন যে কী মতিগতি হয়, তা বোঝা যায় না!’’

বৃহস্পতিবার লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশ হতে দেখা যায়, বারাসত কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের কাকলি ঘোষদস্তিদার। বিজেপির দাবি, প্রাপ্ত ভোট বাড়িয়ে প্রধান বিরোধী হিসেবে তারা উঠে আসায় চিন্তা বেড়েছে শাসক দল তৃণমূলের। বেশ কয়েকটি বিধানসভা এবং বুথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে বিজেপির উত্থানের এই চিত্র। ফল প্রকাশের দিন ওই কেন্দ্রের কদম্বগাছির ৫৪ নম্বর বুথ এবং হেমন্ত বসু নগর ১ মাঠপাড়ায় দেখা গিয়েছে, তৃণমূলের ভোট কমেছে অনেকটাই, বেড়েছে বিজেপির ভোট।

অভিযোগ, ওই ফল জানাজানি হতে বৃহস্পতিবার রাতেই কয়েক মাস আগে তৈরি এলাকার একটি রাস্তার ইট বিক্ষিপ্ত ভাবে তুলে নেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। সে কথা স্বীকারও করে নেন স্থানীয় কদম্বগাছি পঞ্চায়েতের উপ প্রধান সুনীল মণ্ডল। তাঁর সাফাই ছিল, ‘‘ওই এলাকায় পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে ৩৮ লক্ষ টাকা খরচ করে উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছি। তার পরেও যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন, তাঁদের কি আমি মিহিদানা, পোলাও খাওয়াব?’’ পাশাপাশি হুঙ্কারের সুরে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘ওই রাস্তায় আর কখনও ইট পড়বে না।’’

তবে সেই হুমকি তুলে নিতে ২৪ ঘণ্টাও পেরোলো না। শনিবার ভোর হওয়ার আগেই তুলে ফেলা ইট আবার বসিয়ে দিয়ে যায় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত। ইট তুলে নেওয়ার খবরে দল এবং প্রশাসনিক তরফে চাপ আসতেই এই ভোলবদল, বলছেন নেতারা। এ দিন অবশ্য এ কাজের সাফাইয়ে সুনীলবাবুর বক্তব্য, ‘‘ওই ইটের রাস্তা ঢালাই করা হবে বলে ইট তোলা হয়েছিল।’’ কিন্তু রাতে সে কাজ করা হল কেন, প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওখানে নিকাশিনালা থেকে আলো, মন্দির সব করেছি। তবুও আমাদের ভোট না দিয়ে বিজেপিকে ভোট দিলেন ওখানকার মানুষ! এটা কি ঠিক?’’

হেমন্ত বসু নগরের ১ মাঠপাড়ার বেশির ভাগ মানুষ পেশায় দিনমজুর। মহিলারা পরিচারিকার কাজ করেন। ভোর হতেই ওই রাস্তা দিয়ে কদম্বগাছির স্টেশন থেকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যান তাঁরা। ফলে রাস্তার ইট তুলে ফেলায় যাতায়াতে সমস্যায় পড়েন অনেকেই। ফের ইট বসানোয় তাঁদের যাতায়াতে সুবিধা হল বলে জানান বাসিন্দারা।

এ দিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, চার দিকে তৃণমূলের পতাকা উড়ছে। কদম্বগাছি ফাঁড়ির পুলিশকর্মীরা রাস্তা মেরামতির ছবি তুলে রাখছেন মোবাইলে। এলাকা জুড়ে চাপা আতঙ্ক। স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘বিভিন্ন আবাস যোজনার ঘর পেতে টাকা দিতে হয় নেতাদের। তার উপরে রয়েছে নানা জুলুম। এই ঔদ্ধত্য মানুষ মেনে নেননি। সেই ক্ষোভের ফল মিলেছে।’’ সঞ্জয় অধিকারী নামে অন্য বাসিন্দার মত, ‘‘জনগণের টাকায় রাস্তা হয়েছিল। নেতাদের পকেটের টাকায় তো হয়নি। তাহলে সরকারি রাস্তা যাঁরা নষ্ট করলেন, তাঁদের কী শাস্তি হবে?’’